ইনসাইড পলিটিক্স

আসল আ. লীগ চেনার সহজ ১০ উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২০ মার্চ, ২০১৯


Thumbnail

টানা দশ বছর ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। সারাদেশ এখন আওয়ামী লীগে থইথই করছে। দেশের সবাই যেন আওয়ামী লীগ। সরকারী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যাবসায়ী,কেউই বাদ যায় না। এত আওয়ামী লীগ এতদিন কোথায় ছিল এ প্রশ্ন তুলেছে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতারা। কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, এখন যে এত আওয়ামী লীগ এরা কি দু:সময়ে থাকবে? এবার উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে লড়াই করেছে। সারাদেশে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের মারপিট,সন্ত্রাস, খুনাখুনির খবরও এসেছে গণমাধ্যমে। প্রশ্ন উঠেছে, এত আওয়ামী লীগের মধ্যে আসল নকল চিনবেন কিভাবে? কে আওয়ামী লীগে এসেছে সুযোগ সন্ধানী হিসেবে স্বার্থের জন্য, কে দীর্ঘদিনের ত্যাগি এবং জাতির পিতার আদর্শে বিশ্বাস করে দলের দু:সময়ে পাশে ছিল? আওয়ামী লীগ চেনার সহজ ১০ টি উপায় বলেছেন শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন নেতারা। এই ১০ বিষয়ে যদি কাউকে পরীক্ষা করা যায়। তাহলেই বোঝা যাবে ঐ ব্যক্তিটি কি সুযোগ সন্ধানী আওয়ামী লীগ নাকি সত্যিকারের আওয়ামী লীগ? যে ১০ টি বিষয় দিয়ে সত্যিকারের আওয়ামী লীগ পরখ করে চেনা যাবে তা হলো:

১. আসল আওয়ামী লীগরা সবসময় বলেন ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারা সাধারণত ‘জাতির জনক’ বলেন না। নকল আওয়ামী লীগ সবসময় ‘জাতির জনক’ কথাটা বলেন। তারা ‘জাতির পিতা’ বলতে পারে না। লক্ষণীয় যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় ‘জাতির পিতা’ বলেন।

২. আসল আওয়ামী লীগ কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর অনেকগুলো ভাষণই জানেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ত্যাগ এবং তার বিভিন্ন পর্যায়ের ভাষণ বক্তৃতা এবং রাজনৈতিক দর্শন সম্বন্ধে জানেন। নকল আওয়ামী লীগের দৌড় শুধুমাত্র ৭ মার্চ ভাষণ পর্যন্ত। নকল আওয়ামী লীগের যেকোন নেতা শুধু ৭ মার্চ ভাষণের বাইরে বঙ্গবন্ধুর আর একটি ভাষণও উল্লেখ করতে পারে না। যদিও বঙ্গবন্ধুর অনেক ভাষণই এখন রেডিও টেলিভিশনে বারংবার প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু তাদের সবকিছু ৭ মার্চ ঘিরেই আঁকড়ে আছে।

৩. আসল আওয়ামী লীগের কর্মীরা সবসময় দু:সময়কে স্বরণ করেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগের দু:সময়ের ভূমিকাকে স্বরণ করে। নকল আওয়ামী লীগ সবসময় উন্নয়নের কথা বলে। আওয়ামী লীগের আমলে কি উন্নয়ন হয়েছে তার ফিরিস্তি দেওয়াই নকল আওয়ামী লীগের প্রধান কাজ।

৪. আসল আওয়ামী লীগাররা দু:সময়ের সতর্কবার্তা দেয়। সবসময় মনে করেন যে, আওয়ামী লীগকে এমনভাবে সংগঠিত করতে হবে যেন আজকে ক্ষমতায় আছে কালকে ক্ষমতায় না থাকলেও যেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি অটুট থাকে সে বিষয়টি নিয়ে তারা চিন্তা করে। কিন্তু নকল আওয়ামী লীগাররাা শুধু আজকের চিন্তা করে। আজকে কিভাবে তারা আরও বেশি ফুলে ফেঁপে উঠবে সেই চিন্তায় তারা মশগুল থাকে।

৫. আসল আওয়ামী লীগ সবসময় ত্যাগ করতে চায়। তারা কোন কিছু চাওয়া পাওয়ার চিন্তা করে না। আসল আওয়ামী লীগের লোকেরা কিছু না পেলেও দলের আদর্শ ত্যাগ করে না। দলের বিরুদ্ধাচারণ করে না। নকল আওয়ামী লীগাররা সবসময় কিছু পেতে চায়। কিছু না পেলেই তারা আওয়ামী লীগের সমলোচনায় মুখর হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের ভুলের ফিরিস্তির ঢালা সাজিয়ে বসে।

৬. আসল আওয়ামী লীগের লোকেরা প্রকাশ্যে কখনও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে না। প্রকাশ্য আলোচনায় তারা আওয়ামী লীগকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে তবে নিজেদের মধ্যে গোপন আলোচনায় তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে। নকল আওয়ামী লীগ কিছু না পেলেই সমালোচনায় মেতে ওঠে। তখন তারা যেভাবে সমালোচনা করে তখন তা বিরোধী দলকেও হার মানিয়ে দেয়।

৭. আসল আওয়ামী লীগের লোকেরা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে সুস্থ এবং সুন্দর দেখতে চায়। তারা শেখ হাসিনার ওপরই সম্পূর্ণরূপে আস্থাশীল। তারা আওয়ামী লীগ মানেই বুঝে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনা। অন্যকোনো দল বা উপদল বা বিভক্তি তারা পছন্দ করে না, প্রশ্রয় দেয় না। কিন্তু নকল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাবান হয়েই নিজস্ব একটা বলয় তৈরি করে, নিজস্ব একটা আওয়ামী লীগ তৈরি করে। তাঁর পক্ষের লোকজনকে তারা সবসময় পুরস্কৃত করে এবং জাতির পিতাকে ও শেখ হাসিনাকে কেবল তারা মুখেই উচ্চারণ করে।

৮. আসল আওয়ামী লীগের লোকেরা মনে করে আওয়ামী লীগকে সবসময় দায়িত্বশীল থাকতে হবে, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে। এজন্য তারা কোনো জনবিরোধী কর্মকান্ড হলে সাথে সাথে উদ্বিগ্ন হয়ে পরে। যেকোনো সরকার বিরোধী কর্মকান্ডই তাঁদেরকে উৎকণ্ঠিত করে। নকল আওয়ামী লীগ এসব বিষয় নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। তারা সবসময় চিন্তা করে যেকোনো প্রকারে ক্ষমতায় থাকতে হবে এবং ভোটে জিততে হবে। জনগণ সেখানে কি ভূমিকা পালন করলো, জনগণ ভোট দিলো কিনা সে বিষয়টি তাঁদের কাছে তুচ্ছ থাকে।

৯. আসল আওয়ামী লীগের লোকজন সবসময় চিন্তা করে যে, আওয়ামী লীগ যদি ভুল করে তাহলে সেই ভুলের মাশুল দিতে হবে গোঁটা জাতিকে এবং সেজন্য তারা আওয়ামী লীগ যেন ভুল না করে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকে, সজাগ থাকে। দলীয় কোন্দল বা দলের অন্তর্কোন্দলকে তারা প্রশ্রয় দেয় না। নিজেরা ত্যাগ স্বীকার করে হলেও দলকে কোন্দলের হাত থেকে রক্ষা করতে চায়। নকল আওয়ামী লীগ সবসময় চিন্তা করে দলের মধ্যে কোন্দল বা বিভক্তি যত থাকবে তত তাদের লাভ। এজন্য তারা বিভক্তি করেই ক্ষমতাবান হতে চায়। এজন্য তারা দলের মধ্যে সবসময় বিভক্তি তৈরি করার চেষ্টা করে।

১০. আসল আওয়ামী লীগ মনে করে আওয়ামী লীগ চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না, একদিন না একদিন ক্ষমতা থেকে যেতেই হবে। ক্ষমতায় যখন থাকবে না তখনও যেন আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা এবং ভালোবাসায় ধন্য থাকে সেই চিন্তাই তাঁদের সবসময় আপ্লুত রাখে। কিন্তু নকল আওয়ামী লীগ মনে করে যে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী। কোনোদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে চলে যাবে না। সেজন্যই তারা ক্ষমতায় থাকলে সবকিছুকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী মনে হওয়ার কারণে চিরকাল যেন ক্ষমতায় থাকতে পারে সেই চেষ্টা অহর্নিশ তাদের তাড়িত করে।

বাংলা ইনসাইডার



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামী দলগুলো: নেপথ্যে জামায়াত

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামী দলগুলো: নেপথ্যে জামায়াত

বিএনপি যখন ২২টি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের পক্ষে কাজ শুরু করেছে তখন নেপথ্যে এক ছাতার নিচে দাঁড়াচ্ছে ইসলামী দলগুলো। দেশে ৩৮টি ইসলামী দল নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এই দলগুলো খুব শিগগিরই একটি বড় ধরনের শোডাউনের করতে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর সঙ্গে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই, এমনটাই বলছেন তারা। ইসলামী দলগুলো বলছে যে, বিএনপি এখন যে আন্দোলনের কথা বলছে সেই আন্দোলন ততটা সহায়ক হবে না এবং এই আন্দোলনে ইসলামী দলগুলোকে শুধু ব্যবহার করা হবে, ফায়দা লুটবে বিএনপি। আর বিএনপি এখন আন্দোলনে বিজয়ী হওয়ার জন্য ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ’, ‘ভারতীয় আগ্রাসনবাদ’র সঙ্গেও হাত মেলাচ্ছে যেটি ইসলামী দলগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ। এই বিবেচনা থেকে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো একটি পৃথক অবস্থান জানান দিতে চাইছে খুব শীঘ্রই।

গত চার মাস ধরেই দেশে বিদ্যমান নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত ইসলামী দলগুলো পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে। আর এই যোগাযোগ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে ভূমিকা পালন করছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত প্রকাশ্যে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেরা না থাকলেও জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায়, মদদে এবং জামায়াতের সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমেই এই মেরুকরণগুলো ঘটছে। ইসলামী দলগুলোর মধ্যে নানা মত এবং নানা পথের পার্থক্য রয়েছে। নানা মত, নানা পথের পার্থক্য গুলো দূরে সরিয়ে রেখে তারা শুধুমাত্র ইসলামী শাসনতন্ত্র এবং শরীয়া আইন, এই লক্ষ্য নিয়েই এক ছাতার নিচে দাঁড়াতে চাচ্ছে। আর এর প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ-বিএনপির বাইরে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করা। সেই অধ্যায় সূচনা করার লক্ষ্যে তারা একটি বড় ধরনের শোডাউন দেবে। তবে ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় পার্টির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র বলছে। তবে যে ৩৮টি দল এখন এসব বিষয় নিয়ে একত্রিত হচ্ছে তাদের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শুধুমাত্র ইসলামী ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে যারা বিশ্বাস করে, কোরআন সুন্নাহর আইন প্রতিষ্ঠিত করতে চাই এবং শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চায় তারাই এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছে, অন্য কেউ নয়।

বর্তমানে খিলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, এই দুটি দলের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। এই দলগুলো মোটামুটিভাবে সারা দেশেই কমবেশি তাদের কর্মী জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছে। জামায়াত ইসলামের সারাদেশে নেটওয়ার্ক রয়েছে। এর বাইরে যে রাজনৈতিক দলগুলো আছে সেই রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন একটি সক্রিয়তা নেই। তবে দেশের মাদ্রাসাগুলোতে এবং মসজিদগুলোতে প্রতিটি ইসলামী দলের কিছু না কিছু নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেই নেটওয়ার্ক গুলোকে তারা একত্রিত করতে চায়। বিভিন্ন সূত্র বলছে, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য গুলো খুবই সামান্য। কোরআনের ব্যাখ্যা, হাদিসের ব্যাখ্যা বা বিভিন্ন ইসলামী চিন্তা এবং দর্শনের ব্যাখ্যা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ। এই বিরোধগুলো কাটিয়ে ফেলার জন্য তারা তাদের আলেম-ওলামা এবং মুফতিদের নিয়ে বৈঠক করছেন এবং ইসলামী দলগুলো বলছে এটি কোনো বড় বিষয় নয়। বরং তারা যদি একসঙ্গে আন্দোলন করে তাহলে একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। তারা মনে করছে যে, বাংলাদেশে সামনের দিনগুলোতে মার্কিন প্রভাব এবং আগ্রাসন আরও বাড়বে এবং ভারতীয় প্রভাবও বাড়বে। এরকম অবস্থা থেকে বাংলাদেশে ইসলাম ‘বিপন্ন’ হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন। এই বাস্তবতায় ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে একটি আফগানিস্তানের মতো বিপ্লব ঘটানোর জন্য। আর সেই লক্ষ্যে প্রথম কাজটি দৃশ্যমান করতে চাই খুব শীঘ্রই।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সুলতানা কামালকে আক্রমণ, তোপের মুখে রিজভী

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail সুলতানা কামালকে আক্রমণ, তোপের মুখে রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রায় বেসামাল কথাবার্তা বলেন। দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তার জন্য তিনি দল এবং দলের বাইরে আলোচিত-সমালোচিত। মাঝে মাঝেই তার বক্তব্য কৌতুকের জন্ম দেয়, মাঝে মাঝে তার বক্তব্য জনমনে নানা রকম বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে তার একটি বক্তব্য নিয়ে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদেরই তোপের মুখে পড়েছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন যে, সুলতানা কামাল কিসের বুদ্ধিজীবী, তিনি আওয়ামী লীগের নেতাদের মত কথা বলেন, আওয়ামী লীগের ক্যাডার। তার এই বক্তব্যের সূত্র ধরে সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সঙ্গে সুশীল সমাজে আধা গোপন-আধা প্রকাশ্য এক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সুশীল সমাজ বিএনপিকে নানারকম তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করছে। শুধু তাই নয়, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিএনপির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকও করছে। সরকারকে চাপে ফেলার জন্য সুশীল সমাজ অর্থনৈতিক, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম তথ্য সরবরাহ করছে। এই তথ্যগুলোই উগড়ে দিচ্ছেন বিএনপির নেতারা। সুশীল সমাজের কোন কোন নেতা এখন প্রতিনিয়ত বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এরকম পরিস্থিতিতে সুলতানা কামালকে আক্রমণ করাতে সুশীল সমাজের বিএনপিপন্থী অংশরা অত্যন্ত বিব্রত এবং বিরক্ত। এ নিয়ে রুহুল কবির রিজভী মুখে পড়েছেন।

সুলতানা কামাল বেগম সুফিয়া কামালের কন্যা। কিন্তু তিনি স্বাধীন এবং স্বকীয় একটি অবস্থান সবসময় বজায় রেখেছেন। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও তিনি সবসময় সোচ্চার থাকেন। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন এবং যেখানে আওয়ামী লীগের দোষত্রুটি পান সেটি বলতে তিনি কার্পণ্য করেনা। বিশেষ করে মানবাধিকার ইস্যুতে তিনি সবসময় সোচ্চার। সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের বিষয়টি নিয়েও সুলতানা কামাল সবসময় কথা বলেন। এখন বিএনপি যখন চাইছে যে সুশীল সমাজকে আওয়ামী লীগের থেকে আলাদা করতে তখন সুলতানা কামালকে এই ভাষায় কথা বলাটা একেবারেই অবিবেচকসূলভ বলে মনে করা হচ্ছে। ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, বদিউল আলম মজুমদারসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী, যারা এখন বিএনপির পক্ষে বিভিন্ন হবে কাজ করছেন তারা বিষয়টি নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মঈন খানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন যে, সুলতানা কামালকে এভাবে আক্রমণ করাটা এই সময়ে সংযত হয়নি এবং সঙ্গত নয়। এর ফলে সুশীল সমাজের মধ্যে একটা ভুল বার্তা যাবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিএনপির অসহিষ্ণুতার চিত্রটি ফুটে উঠবে।

বিভিন্ন মহল মনে করবে যে, বিএনপি আসলে কতটুকু সহনশীল যতটুকু তাদের পক্ষে যায়। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তারা অসহনশীল হয়ে ওঠে। বিএনপি নেতারা গত এক বছর ধরে কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে এবং সুশীল সমাজের মধ্যে তাদের যে বদলে দেওয়ার গল্প শোনাচ্ছেন এবং তাদের যে নতুন ধারার কথা বলছেন সেটি রিজভী এক কথায় কর্পূরের মত উড়ে গেছে। কারণ, রিজভীর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপির অসহিষ্ণুতার প্রকাশ হয়েছে। যারা সুলতানা কামালকে শ্রদ্ধা করেন তারা এই ঘটনাটাতে অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন। কারণ, সুলতানা কামাল আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কারোরই নন। তিনি একটি মুক্ত চিন্তার ধারক-বাহক। এজন্যই ড. আসিফ নজরুল বা আদিলুর রহমান খানের মত কট্টর বিএনপিপন্থীরাও তাকে সম্মান করে। তাকে এভাবে আক্রমণ আওয়ামী লীগও করতে পারেনি। এরকম মন্তব্য করে বিএনপিপন্থী সুশীলরা এখন রিজভীকে সাবধান হয়ে যেতে বলছেন। কিন্তু রিজভীর এই মুখ কি তারা সামাল দিতে পারবেন?


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিদ্যুৎ বিপর্যয়: বিএনপির নীলনকশা?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বিদ্যুৎ বিপর্যয়: বিএনপির নীলনকশা?

গত এক মাসে জাতীয় গ্রিডে দুইবার বিপর্যয় হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম বিপর্যয় ঘটে। সে সময় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা দেড় ঘণ্টা অন্ধকারে ছিল। আর গত ৩ অক্টোবর বিপর্যয় ছিল ভয়াবহ। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের ৩২টি জেলা অন্তত চার ঘণ্টা অন্ধকারে ডুবে ছিল। কোনো কোনো এলাকা ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। কেন এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটলো সে সম্পর্কে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী কোনো কথা বলতে পারেনি। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশে তদন্ত কমিটি গুলোর ইতিহাস যদি কেউ পর্যালোচনা করেন তাহলে নিশ্চিত হবে যে এ ধরনের এই তদন্ত কমিটির রিপোর্টে শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, কিন্তু সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের কি সুপারিশ দিল এবং কাকে দায়ী করা হলো সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কিছুই জানতে পারে না। তবে বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বাংলা ইনসাইডারের হাতে এসেছে।

বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব অনুসন্ধানে এটি ধারণা করার যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে যে, এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা নয় বরং এটি একটি স্যাবোটাজ এবং এর পিছনে বিএনপি-জামাতের একটি সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা এবং নীলনকশা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ইকবাল মাহমুদ টুকু একসময় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি দেড় সহস্রাধিক বেশি লোককে চাকরি দিয়েছিলেন। এজন্য তার এলাকায় সুনাম রয়েছে। তিনি যে চাকরি গুলো দিয়েছেন তাদের বড় অংশ বিদ্যুৎ বিভাগে। লক্ষণীয় ব্যাপার, জাতীয় গ্রিডে যেদিন বিপর্যয় ঘটলো সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেছেন যে, সামনে আরও ব্ল্যাক আউট হবে। ইকবাল মাহমুদ টুকু কি করে জানলেন যে সামনে আরও ব্ল্যাক আউট হবে? তিনি কি জ্যোতিষী নাকি তিনি এই সমস্ত ব্ল্যাকআউট কবে কিভাবে হবে তার পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করতে যে, ঘোড়াশালের জাতীয় গ্রিডসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রগুলোতে যে সমস্ত ব্যক্তিরা আছেন তাদের একটি বড় অংশই টুকুর আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং বিএনপি-জামাতপন্থি। এরা টুকুর নির্দেশেই এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয় কোনো কারণ ছাড়া ঘটা সম্ভব নয় এবং খুব ছোট্ট একটি ঘটনা ঘটিয়েই এরকম বিপর্যয় ঘটানো সম্ভব হবে। যদিও এই বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে এখন নানাজন নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন কিন্তু একজন যদি কোনো কারসাজি করে, একজন যদি একটি অঘটন ঘটিয়ে দেয় তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। কিন্তু সরকার সেই বিষয়টির দিকে নজর না দিয়ে বরং এ বিষয়টিকে পাশ কাটাতে চাচ্ছে।

লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি লোডশেডিং নিয়ে অনেক কথা বলছে। যদিও বিএনপির আমলে লোডশেডিং ছিল ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত। ওই সময় এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও উৎপাদিত হয়নি। কিন্তু এখন যখন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু কিছু লোডশেডিং হচ্ছে, তখন এই লোডশেডিং ইস্যুকে সামনে এনে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপীয়ে তুলতে চাইছে। আর সেটি যেন আরও পুঞ্জীভূত হয় সেজন্যই জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়। জাতীয় গ্রিডে গত ৩ অক্টোবর যে বিপর্যয়টি ঘটেছে তার ফলে জনজীবনে এক দুর্বিষহ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। হাসপাতাল, ব্যবসা-বাণিজ্য সব জায়গায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল। আর এর ফলে এক ধরনের জন-অশান্তি এবং জন-অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেরকম পরিস্থিতি যেন বারবার হয় এবং সরকার আসলে ব্যর্থ এবং দায়িত্ব পালনে অক্ষম, এরকম একটি ধারণা তৈরি করার জন্যই কি জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটেছে? এই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত হওয়া দরকার বলে একাধিক সূত্র মনে করছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নতুন সংবিধান: কার এজেন্ডা?

প্রকাশ: ০৭:০২ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail নতুন সংবিধান: কার এজেন্ডা?

বিএনপি এখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। কেবল নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নয়, বিএনপি তিন ধাপে তাদের আইন এবং সাংবিধানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিএনপি বলছে যে, নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। নির্বাচনের পর যে সমস্ত দলগুলো একসাথে আন্দোলন করবে তাদের নেতৃত্বে একটি জাতীয় সরকার গঠিত হবে এবং এই জাতিয় সরকার সংবিধান সংশোধন করবে। এই ত্রিমাত্রিক কর্মসূচীর কোন ধাপ কখন করবে সে সম্পর্কেও বিএনপি নেতারা বলছেন। তারা বলছেন যে, প্রথম তাদের লক্ষ হলো একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যেভাবে ছিল সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে, দ্বিতীয় ধাপে তারা যুগপৎ আন্দোলনে যে সমস্ত শরিকদের নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করবেন তাদেরকে নিয়েই একটি জাতিয় সরকার গঠন করবেন এবং তৃতীয় দফায় তারা সংবিধান সংশোধন করবেন। নতুন সংবিধান কেমন হবে সে সম্পর্কে বিএনপি নেতারা কিছু কিছু ধারণা দিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, নতুন সংবিধানে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয়ত তারা বলছেন যে, সংসদ হবে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট। হঠাৎ করে নতুন সংবিধানের এজেন্ডা কেন বিএনপির মধ্যে আসল, তা নিয়ে রাজনৈতিক অজ্ঞানে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যখন বিএনপি আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে সে নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী যখন সাংবিধানিক ভাবে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং শূন্যতার সৃষ্টি করেছে ঠিক তখন কিভাবে নতুন সংবিধানের কথাটি আসছে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, নতুন সংবিধানের ধারণাটি এসেছে সুশীল সমাজের কাছ থেকে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. শাহদীন মালিক, আসিফ নজরুলসহ যারা বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিবেচিত রয়েছেন তারাই নতুন সংবিধানের কথা বলছেন। আর নতুন সংবিধান করার পেছনে বিএনপির একটি উদ্দেশ্য আছে। বিএনপির নেতারা মনে করছেন যে, বর্তমানে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া দুজনেই দন্ডিত। এই সংবিধান অনুযায়ী তারা কোনোভাবেই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এমনকি সরকারপ্রধান বা সংসদের নেতাও হতে পারবেন না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ কি, এটা ভাবতেই তারা নতুন সংবিধানের বিষয়টি সামনে এনেছে। অন্যদিকে, নতুন সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে সুশীল সমাজেরও উৎসাহ রয়েছে। সুশীল সমাজ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা চায়। যখনই অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে তখনই সুশীল সমাজ ক্ষমতার কেন্দ্রে জাঁকিয়ে বসতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যখন থেকে প্রতবর্তীত হলো তখন থেকে সুশীল সমাজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মানেই সুশীল সমাজের শাসন। ২০০৭ সালের সুশীল সমাজের এই কর্তৃত্ব আরও প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময় দুই বছর সুশীল সমাজনিয়ন্ত্রিত সরকার দেশ পরিচালনা করে। আর এ কারণেই সুশীল সমাজ মনে করছে যে, ক্ষমতায় তাদের স্থায়ী হিস্যা দরকার। আর এই হিস্যা লাভের জন্যেই তারা দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের কথা বলেছে, যেখানে উচ্চকক্ষে সুশীল প্রতিনিধিরা থাকবে। আর এ কারণেই তারা বিএনপিকে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট এবং রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলছেন। সুশীলদের প্রস্তাবনা হলো যে, রাষ্ট্রপতি হবেন সুশীল নিয়ন্ত্রিত এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন দলীয়। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে সুশীল সমাজ যেটি পারেনি, সেটিই তারা এখন সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে হাসিল করতে চায়। এ কারণেই তারা এখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবীর সাথে সাথে নতুন সংবিধানের দাবিকে যুক্ত করেছে। কিন্তু সুশীলদের এই অভিপ্রায় পূরণ করতে পারবে কি বিএনপি?


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জনগণের কাছে যেতে পারেনা জন্যই বিএনপি বিদেশিদের কাছে ধরনা দেয়

প্রকাশ: ০৫:২৮ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail জনগণের কাছে যেতে পারেনা জন্যই বিএনপি বিদেশিদের কাছে ধরনা দেয়

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি জনগণের কাছে কোন মুখে যাবে? জনগণকে যেয়ে কি বলবে? তাদের গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা, আগুন সন্ত্রাস -এসব নিয়ে যখন তারা জনগণের কাছে যাবে জনগণ তখন তাদেরকে যে প্রশ্ন করবে সেই প্রশ্নের উত্তর কি তারা দিতে পারবে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে রাজনৈতিক দলের জন্ম ক্যান্টনমেন্টে একজন সামরিক উর্দি পরার পকেট থেকে সেই দল কিভাবে গণতন্ত্রের কথা বলবে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না সেটা তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে আওয়ামী লীগ সবসময় অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। আওয়ামী লীগ কখনো ভোট চুরি করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বিদেশিদের কাছে বিএনপির নেতারা ধরনা দিচ্ছে এই কারণে যে তারা জনগণের কাছে যেতে ভয় পায়। জনগণের ওপর যদি তাদের আস্থা থাকতো তাহলে বিদেশীদের কাছে ধরনা দিতে যেত না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুঁটিতে যদি জোর থাকে তাহলে তো অন্য জায়গায় যেতে হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন