ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দশমে বিরোধী দলীয় নেতা, একাদশে এসে উপনেতা!

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০১৯ শনিবার, ০৫:৫৮ পিএম
দশমে বিরোধী দলীয় নেতা, একাদশে এসে উপনেতা!

দশম জাতীয় সংসদে ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা। আর একাদশ জাতীয় সংসদে হলেন বিরোধী দলীয় উপনেতা! আর এসব নিয়েই রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। নির্বাচনের পরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আকস্মিভাবেই এক পত্রের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে অবহিত করেছিলেন, তিনি (এরশাদ) হবেন বিরোধী দলীয় নেতা এবং তার সহোদর জিএম কাদের হবেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। যদিও বিষয়টি তখন জাতীয় পার্টির সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই স্পিকারকে অবহিত করেছিলেন এইচএম এরশাদ।

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আসন বিন্যাসও হয় সেভাবে। দুই ভাই-ই বিরোধী দলীয় নেতা এবং উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। হঠাৎ করেই গত বৃহস্পতিবার জাপা চেয়ারম্যান তাঁর স্বভাবসিদ্ধ নিয়মে রং বদল করেন। পার্টির কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেন ছোট ভাই জিএম কাদেরকে। সে সময় থেকেই গুঞ্জন শুরু হয় জিএম কাদেরকে উপনেতার পদ থেকেও অপসারণ করা হতে পারে। এসব নিয়ে জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল বাংলা ইনসাইডার শনিবার সকালেও একটি সংবাদ প্রকাশ করে। ঠিক ঠিক বিকেলে তাঁর প্রতিফলন ঘটান জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ।

এক চিঠিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে জানান, বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকে জিএম কাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদকে উপনেতার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এ নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য স্পিকারকে অনুরোধ জানান এরশাদ।

জাপার অভ্যন্তরে সবার ধারণা ছিল জিএম কাদেরকে সরিয়ে দিলেও সেখানে জ্যেষ্ঠ নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ কিংবা ফখরুল ইমামকে দায়িত্ব দিতে পারেন। কিন্তু এরশাদ সব ফলাফল পাল্টে দিয়ে নিজ স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদকে করলেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। আর এ ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। সবার একই প্রশ্ন? দশম সংসদে যিনি বিরোধী দলীয় নেতা সেখানে একাদশ সংসদে এসে বিরোধী দলীয় উপনেতা!

জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা এবিষয়টি নিয়ে স্বয়ং পার্টি চেয়ারম্যানের উপর নাখোশ হয়েছেন। তবে তাদের ধারণা, নেপথ্যে এ খেলায় কেউ কলকাঠি নাড়ছেন। এদিকে, জিএম কাদেরকে এভাবে নাস্তানাবুদ করার জন্য জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন।

বাংলা ইনসাইডার/এমআর