ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনই বিরোধী দলের টার্গেট?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০১৯ শনিবার, ০৮:০০ পিএম
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনই বিরোধী দলের টার্গেট?

বিরোধীদলগুলো এখন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে টার্গেট করেছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে ঘিরে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করা যায় কিনা তা নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু করেছে বিরোধী দলগুলো। হঠাৎ করে আবরারের মৃত্যু যেন বিরোধী দলকে চাঙ্গা করেছে। বিরোধী দল চাইছে একটা ইস্যুতে জনগনকে যেন সম্পৃক্ত করা যায়। তারা মনে করছেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ইস্যুতে সহজেই সাধারণ জনগনকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে। গত ১৯ মার্চ আবরারের মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে তৃতীয়বারের মতো রাস্তায় নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। তারা ২৮ মার্চ পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে এখন রাজনৈতিক রুপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন যেন অব্যাহত থাকে এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন যেন সরকার বিরোধী আন্দোলনে রুপ দেওয়া যায় সেই নিয়ে তারা আলাপ আলোচনা করছে। এনিয়ে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা দফায় দফায় বৈঠকও করছেন। তাদের বক্তব্য হলো যে, এই আন্দোলনের ফসল বিএনপির পক্ষে আসার দরকার নেই। এই আন্দোলনে সরকার যদি কোনঠাসা হয়ে পরে, সরকার যদি বিপদগ্রস্থ হয় বা সরকার যদি জনসমর্থণ হারায়, তাহলেই তারা খুশি। শুধু বিএনপি নয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও গত শুক্রবারের জরুরি সভায় নিরাপদ সড়কের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত হওয়া যায়, সেটা নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে রাজনৈতিক অবয়ব দেওয়ার বিপক্ষে। তারা মনে করছে যে, এই আন্দোলনটা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব আন্দোলন। তবে বিএনপি নিয়ন্ত্রিত যে পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের সংগঠনগুলো আছে তাতে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে, যেন সেই সংগঠনগুলো নিরাপদ সড়কের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রাজপথে শ্রমিকরা যেন দাবি দাওয়া নিয়ে নামে এবং একটা অচল অবস্থার সৃষ্টি করে সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট সৃষ্টি করা যায় কিনা তেমন বার্তা দিয়েছে।

সরকারের অন্তত দৃজন মন্ত্রী সড়ক পরিবহন বা বাস চালকদের সংগঠনের কলকাঠি নাড়েন। তাদেরকে যদি হাতে নেওয়া যায় তাহলেই এই নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে একটা মুখোমুখি অবস্থানে দাড় করানো যায়। যদি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বাস মালিক ও বাস চালকরা ধর্মঘটে কিংবা অচলাবস্থা তৈরী করেন তাহলে সরকার একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে বলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চাইছে যে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে ধরে তারা যেন সংগঠিত হতে পারে এবং একটা পর্যায় যেন বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সহমর্মিতা জানাতে পারে।  ইতিমধ্যেই নিরাপদ সড়কসহ আরো কিছু দাবিতে ৩০ মার্চ তারা মানববন্ধন কর্মসূচী ঘোষণা করেছে।

উল্লেখ্য যে ২৮ মার্চ নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট ছাড়া বামমোর্চাও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। বামফ্রন্টের এক বৈঠকে অভিমত ব্যক্ত করেছে যে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করেছে তা অত্যন্ত বৈধ এবং অত্যন্ত ন্যায় সঙ্গত এবং এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থণ তারা জানাতে চায়। নিরাপদ সড়কের এই আন্দোলনকে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অবয়ব দেওয়া যাবে কি যাবে না সেটা বোঝা যাবে আরো পরে।

কিন্তু আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই এই আন্দোলন যেন বড় আকারে না ছড়ায়, এই আন্দোলন যেন রাজনৈতিক দলের হাতের মুঠোয় না যায়, সেজন্য সতর্ক হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব উদ্যোগে আবরারের পরিবারকে গণভবনে ডেকে নিয়েছেন। তাদেরকে সমবেদনা জানিয়েছেন। ঐ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, ‘মৃত্যুর  বেদনা যে কি ভয়ঙ্কর সেটা তার চেয়ে কেউ ভালো বোঝে না।’  কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, শুধু আবরারের পরিবার নয়। সড়ক আন্দোলনের মধ্যে ছাত্রদের আবেগ এবং উম্মাধনা জড়িয়ে আছে। কাজেই এই আন্দোলনকে বিস্তৃত হতে দেওয়া যাবে না। এইজন্য সরকার একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামীকাল এনিয়ে সড়ক বিভাগের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠক হচ্ছে। সরকার চাইছে যে, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কোনভাবেই যেন ছড়িয়ে না যায়। এই আন্দোলন যেন সংগঠিত না হতে পারে। একই সঙ্গে সরকার নিরাপদ সড়কের জন্য প্রধানমন্ত্রী যে অনুশাষণগুলো দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্বাবধানে একটা বিশেষ সেল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকার মনে করছে যে, রাজনৈতিক মদদ যদি দেওয়া হয়, সেই মদদটা শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করবে। নিরাপদ সড়ক সরকারও করতে চায়। কাজেই নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষার্থীদের যেন আন্দোলন না করতে হয়। সরকারের উদ্যোগের ফলে যেন নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হয়, সেটা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিবে সরকার। শেষ পর্যন্ত নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কোন রাজনৈতিক অবয়ব পায় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

 

বাংলা ইনসাইডার