ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হাইব্রিড থেকে আওয়ামী লীগার হওয়ার ১০ উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০১৯ শনিবার, ০৯:০১ পিএম
হাইব্রিড থেকে আওয়ামী লীগার হওয়ার ১০ উপায়

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখন হাইব্রিডের জয়জয়কার। হাইব্রিডদের জোয়ারে এখন সত্যিকারের আওয়ামী লীগাররা কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন। এখন তৃনমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে হাইব্রিডদেরই বিজয় কেতন উড়ছে। হাইব্রিডরা কিভাবে আওয়ামী লীগে শক্তপোক্ত জায়গা করে নিলেন এ প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মনেই। অনেকের জিজ্ঞাসা, হাইব্রিডরা কিভাবে আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ত্যাগীদেরকে পরাস্ত করে কর্তৃত্ব নিজেদের করায়ত করলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যায় ১০ উপায়ে হাইব্রিডরা খাঁটি আওয়ামী লীগারদের পরাজিত করছেন। হাইব্রিড থেকে আওয়ামী লীগের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হওয়ার ১০টি সহজ উপায় হলো:

১. আপনার আওয়ামী লীগে যোগদান করতে হবে বড় রকমের উপঢৌকন দিয়ে। খুব জাকজমকের সঙ্গে দেখাতে হবে আপনি আর্থিকভাবে অত্যন্ত সামর্থ্যবান।

২. আপনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেই নতুন একটা আওয়ামী লীগ তৈরী করবেন। আপনি আগে যে দলে ছিলেন বা আওয়ামী লীগে যারা বিভিন্নভাবে অবহেলিত, বিক্ষিপ্ত বা প্রায় অবসরে আছেন তাদেরকে জড়ো করবেন। তাদের জন্য কিছু খরচপাতি করে একটা বিকল্প আওয়ামী লীগ দাড় করাবেন। ঐ আওয়ামী লীগের কাজ হবে শুধু আপনার গুণকীর্তন করা।

৩. স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আপনাকে সুসম্পর্ক রাখতেই হবে। কারণ স্থানীয় প্রশাসন আপনার উপর রিপোর্ট দিবে আপনি এলাকায় কতটা জনপ্রিয়। প্রশাসন যতক্ষন না বলবে আপনি এলাকায় জনপ্রিয়, ততক্ষণ আপনার শিকে কিছুই উঠবে না।

৪. শুধু স্থানীয় প্রশাসনের অনুগ্রহেই সবকিছু হবে না। কেন্দ্রীয় নেতাদের, বিশেষ করে যারা গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। তাদেরকে আওয়ামী লীগে যোগদানের পরপরই নানা উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে হবে। তারা এসে যেন আপনার গুণকীর্তন করে বক্তব্য দেয় তার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. আপনি হাইব্রিড থেকে আওয়ামী লীগার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগকে কচুকাটা করার উদ্যোগ নিবেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগে যারা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন সময় পরীক্ষিত ও ত্যাগী তাদেরকে আপনি কোনঠাসা করার জন্য চেষ্টা করবেন।

৬. যদি আপনি স্থানীয় পরীক্ষিত আওয়ামী লীগারদের বৈধভাবে কোনঠাসা করতে না পারেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হামলাও করা যেতে পারে। মামলা হামলা করে তাঁদের ঘরে উঠিয়ে দেওয়া খুব সহজ কাজ হাইব্রিড আওয়ামী লীগারদের জন্য।

৭. আপনি আওয়ামী লীগে যোগদিয়েই কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করবেন যেমন মাদ্রাসা, স্কুল তৈরী করা। এই সমস্ত মাদ্রাসা স্কুল যদি কোন বিশেষ নামে নামাঙ্কিত হয় তাহলে তো কোন কথাই নেই।

৮. আপনার শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সংগঠনের পাল্টা সংগঠন করলেই হবে না। আপনাকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছা সেবক লীগের মধ্যেও একটা নতুন বলয় তৈরী করতে হবে। পারলে নিজেদের পছন্দের লোকদের দিয়ে আলাদা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ বা যুবলীগ গঠন করতে পারেন।

৯. হাইব্রিড থেকে আওয়ামী লীগার হতে হলে যেকোন মূল্যে, নিজের খরচে হলেও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে হবে। এখন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়া খুবই সহজ। ব্যবসায়ীদের একটা বিরাট বহর প্রায়ই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়। হাইব্রিডরা অনেক বুদ্ধিমান, নিশ্চয়ই তাদের এটা ম্যানেজ করা কঠিন হবে না।

১০. এসব করেও যদি লাভ না হয় তাহলে আপনাকে ঢাকায় আসতে হবে এবং ঢাকায় যারা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক আছেন বা আওয়ামী লীগের যারা উচ্চপদে বা শীর্ষপদে আছেন তাদের সঙ্গে আপনার মেলামেশা বাড়াতে হবে। স্থানীয় পর্যায় যেন জানা যায় আপনি আওয়ামী লীগের উপরমহলের ঘনিষ্ঠ।

এসবেই আপনি হাইব্রিড থেকে একজন সাচ্চা আওয়ামী লীগারে পরিণত হবেন। আপনার এলাকার আওয়ামী লীগ আপনার কথায় উঠেবে এবং বসবে।

 

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ