ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কেন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গুলশান-বারিধারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০১৯ সোমবার, ০৬:০০ পিএম
কেন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গুলশান-বারিধারা?

হঠাৎ করেই গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ ডিপ্লোম্যাটিক জোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ২৪ মার্চ রাত থেকেই কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় ডিপ্লোম্যাটিক জোনসহ অভিজাত এলাকা বলে খ্যাত গুলশান, বনানী, বারিধারা। যদিও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এটা একটা রুটিন ওয়ার্ক। কোনোরকম ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি হিসেবে এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই নয়, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু একাধিক কূটনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র এ ব্যাপারে বিভিন্ন রকম মত দিয়েছেন। যদিও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আজ এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে বিভিন্ন দূতাবাস, মিশনের পক্ষ থেকে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করে যে সমস্ত ক্ষুদে বার্তা দেওয়া হয়েছে সেগুলোর পিছনে কোনো সত্যতা নেই।

বিভিন্ন কূটনৈতিক দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে, তাদের কাছে এ ধরনের খবর আছে যে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তাবেষ্টনীতে গুলশান এলাকাকে ঢাকা হয়েছে, তার পিছনে জঙ্গি হামলারও আশঙ্কা রয়েছে। কিছুদিন ধরেই নব্য জেএমবি নতুন করে নিজেদেরকে সংগঠিত করছিল। এবং নব্য জেএমবিদের দ্বারা তাদের ভাষায় কাফেরদেরকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলো। সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দাদের কাছে বেশকিছু তথ্য এসেছে। সে তথ্যগুলো থেকে ধারণা করা যায় যে জেএমবি এবং আরও কিছু ইসলামপছন্দ জঙ্গি সংগঠন নিজেদেরকে সংগঠিত করছে। এই প্রেক্ষাপটেই গুলশান, বারিধারাসহ কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে কিনা তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে।

এছাড়া মার্কিন দূতাবাসের অভ্যন্তরীণ পরিপত্রে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাদের কাছে এরকম খবর আছে যে বাংলাদেশে একটা বড় ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে। একই রকম বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডিশ দূতাবাস। তারা সুইডিশ নাগরিকদের চলাফেরার ওপর সতর্কতা জারি করেছে, যেসব নাগরিকরা সুইডেন থেকে ঢাকা আসতে চান তাদেরকে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ দূতাবাসের পক্ষ থেকেও একই রকম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসও এমন সতর্কতা জারি করেছে।

বাংলাদেশে ২০১৬ এর ১ জুলাই হলি আর্টিজানের ঘটনার আগে এবং পরে কোনো বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন সময়ে জঙ্গিদের আস্তানা ও পরিকল্পনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভেস্তে দিয়েছে। কিন্তু মার্কিন দূতাবাসের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে ও পরে বাংলাদেশের জঙ্গিরা আবারও নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। তারা যে সংগঠিত হয়েছে সেটা জানান দেয়ার জন্য তারা একটা বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে চায় বলে মার্কিন দূতাবাসের কাছে খবর আছে।

এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, জেএমবি সংগঠিত হচ্ছে এমন তথ্য তাদের কাছে আছে। তবে বাংলাদেশে নাশকতা বা জঙ্গি হামলা করার মতো শক্তি তারা সঞ্চয় করতে পারবে না। গোয়েন্দা সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তাদের নেটওয়ার্ক অনেক দৃঢ়। কাজেই যে কোন ধরনের জঙ্গি তৎপরতা বা হামলা যদি ঘটে তবে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

এ ধরনের আশঙ্কা না থাকলেও যে নিরাপত্তার চাদরে গুলশান ও বারিধারা এলাকাকে ঢেকে দেয়া হয়েছে তা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। স্বাধীনতা দিবস পার হলেও এ মাসের শেষ পর্যন্ত এ রকম নিরাপত্তা বহাল থাকতে পারে বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, মাঝে মাঝেই তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন। এটা রুটিন কাজেরই একটা অংশ।

কিন্তু একাধিক দূতাবাস কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এটাকে রুটিন কাজে হিসেবে মানতে রাজি নন। তারা মনে করছেন, সরকারের কাছে নিশ্চয়ই বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটার আশঙ্কার তথ্য রয়েছে। তবে সরকার যে কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পরিহারে সরকার যে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছে তাতে মার্কিন দূতাবাস সহ প্রায় সব দূতাবাসই সন্তোষ প্রকাশ করেছে।  তারা মনে করছে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃঢ়তা ও তৎপরতার ফলে যে জঙ্গি হামলা বা নাশকতার আশঙ্কা ছিলো তা হয়তো কেটে যাবে এবং গুলশান বারিধারায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।

 

বাংলা ইনসাইডার/এমআর