ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে ঢাকা মহানগরীতে আ. লীগের কমিটি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার, ০৮:০০ পিএম
ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে ঢাকা মহানগরীতে আ. লীগের কমিটি?

আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরীর দুই কমিটিই ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে আওয়ামী লীগ দুর্বল হয়ে পড়েছে। আগামী কাউন্সিলের আগেই ঢাকা মহানগরীকে ঢেলে সাজাতে হবে- এরকম মন্তব্য উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর নিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক রিপোর্টে। আগামী শুক্রবার এই সাংগঠনিক রিপোর্ট দলের সভাপতির কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

সাংগঠনিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কর্মীরাই ভোট দিতে যায়নি। সাধারণ ভোটারদেরও উদ্বুদ্ধ করতে পারেনি। শুধু এই নির্বাচন নয় যেকোনো সাংগঠনিক কাজেই দুই সিটি কমিটি সফল হতে পারেনি বলেই মনে করছে কেন্দ্রের সাংগঠনিক কমিটি। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগরীর সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কাউন্সিলের চার বছর পর ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর এবং ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। ১১ সেপ্টেম্বর দুই মহানগরীর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণে আবুল হাসনাত সভাপতি এবং শাহে আলম মুরাদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অন্যদিকে উত্তরে এ. কে. এম রহমত উল্লাহ্‌ সভাপতি এবং সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কিন্তু গত আড়াই বছরে দলীয় কোন্দল, গ্রুপিং ছাড়া দুই মহানগরী কমিটি উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেনি বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

ঢাকা দক্ষিণের সঙ্গে মেয়র সাঈদ খোকনের প্রকাশ্য বিরোধ ছিল। দলের সাধারণ সম্পাদকের মধ্যস্থতায় এই বিরোধ প্রকাশ্যে বন্ধ হলেও গোপনে এখনও রয়ে গেছে। দক্ষিণের মেয়র আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার কাছে অভিযোগ করেছেন যে, মহানগর আওয়ামী লীগের কাছ থেকে তিনি কোন সহযোগিতা পাননি। দক্ষিনের সভাপতি নিষ্ক্রিয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা যে যার মতো ব্যবসা বাণিজ্য এবং নানা ব্যাক্তিগত কাজে ব্যস্ত।

ঢাকা দক্ষিনের চেয়ে ঢাকা উত্তরের অবস্থা কিছুটা ভালো। কিন্তু এখানেও দলীয় কোন্দল চোখে পড়ার মতো। মহানগরীর সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সম্পর্ক ভালো না। মোহাম্মদপুর আসনে নানককে হারিয়ে সাদেক খান মনোনয়ন পান। এখন এমপি হয়ে সাদেক খান, নানকের লোকজনকে হেনস্থা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সাদেক খান কর্মী বান্ধব। কর্মীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তার নিজস্ব টীম দলীয় কর্মসূচীতে শো- ডাউন করে। কিন্তু সাদেক খানের কর্মব্যাপ্তি শুধু মোহাম্মদপুর এবং মীরপুর এলাকাতেই সীমাবদ্ধ। গুলশান- বনানী-উত্তরায় তার প্রভাব নেই। আর সভাপতি রহমত উল্লাহ দলকে সময় দেন না বলেই অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, ঢাকার জন্য দরকার ক্যারিশম্যাটিক নেতা, যিনি দলকে সংগঠিত করতে পারবেন। এখন আওয়ামী লীগ ঢাকায় কর্মসূচী করতে গেলে নির্ভর করে যুবলীগ, ছাত্রলীগের উপর। একাধিক সূত্র বলছে, এই পরিস্থিতিতে দুটো কমিটিই ভেঙ্গে দেয়া হতে পারে। তবে অন্য সূত্র বলছে, সেটা হয়তো করা হবে না খুব দ্রুত। ঈদের পরপরই কাউন্সিল করেই ঢাকায় আনা হবে নতুন নেতৃত্ব।  

বাংলা ইনসাইডার/এসআর/এমআরইচ