ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে তৃণমূলের নেতৃত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৬:০০ পিএম
নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে তৃণমূলের নেতৃত্ব

আগামীকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে আওয়ামী লীগের আগামী কাউন্সিলের রোডম্যাপ তৈরী করা হবে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে। আগামী অক্টোবরে জাতীয় কাউন্সিল করার অভিপ্রায়ে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং মহানগরী কাউন্সিলের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হতে পারে কাল কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে। এছাড়াও জাতীয় সংসদ এবং উপজেলা নির্বাচনের পর সারাদেশের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েও কথা হতে পারে কালকের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র গুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে তৃণমুলের সম্মেলনে এবার উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া কমিটি গ্রহণ করা হবে না। বরং প্রতিটি পর্যায়ে কাউন্সিলর দের ভোটে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি করাকে উৎসাহিত করা হবে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রেও স্থানীয় পর্যায়ের কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে করার বিধান রয়েছে। কিন্তু দলে অন্তকলহ এবং বিরোধ এড়াতে সমঝোতার মাধ্যমেই কমিটি গঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু সমঝোতা ফর্মূলায় অন্য বিপদ দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন কমিটি মন্ত্রী এমপিদের পকেট কমিটি হিসেবে কাজ করছে। মন্ত্রী এমপি এবং দলের প্রভাবশালী নেতারা তাদের একান্ত অনুগত এবং পছন্দের ব্যক্তিদের কমিটির সভাপতি বা সাধারন সম্পাদক করেন। আবার কোথাও মন্ত্রী, এমপিরাই কমিটির সর্বে সর্বা হয়ে থাকেন। এর কিছু ব্যতিক্রম আছে, কিছু কিছু জেলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতারা দলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিতদের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করেন। এসব এলাকায় আবার স্থানীয় এমপি এবং মন্ত্রীদের রোষানলে পরেন। কমিটিকে অকার্যকর করে মন্ত্রী এমপিরা বিকল্প আওয়ামী লীগ গড়ে তোলেন। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাধ্যমেই তৃণমূলেরের নেতৃত্ব নির্ধারনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার একাধিক বক্তৃতায় বাকশালের নির্বাচন পদ্ধতি প্রসংগে কথা বলেছেন। বাকশালে প্রতি স্তরে কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছিল। দলের ভেতর গণতন্ত্রের বিকাশ এবং গণতন্ত্র চর্চার জন্য স্থানীয় নেতৃত্বে নির্বাচনে ব্যালট প্রয়োজন বলেই মনে করেন আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা।

আওয়ামী লীগ সভাপতিও এখন এই পদ্ধতি যেতে চান বলে তার একাধিক ঘনিষ্ঠ নেতাকে বলেছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, তৃণমূলের নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধাতি হলে, কর্মীরা সাংগঠনিক কাজে মনোযোগী হবেন, দলের কর্মীদের সংগে ভালো ব্যবহার করবেন এবং সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীল হবেন। এর মাধ্যমে তৃণমুল থেকে আগামীর নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে বলেও আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন। দেশে যেহেতু এখন রাজনীতিতে একটা অধ্যায়ের সমাপ্তির পথে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন, সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ আগামী দিনের জন্য সংগঠনকে প্রস্তুত করতে চাইছে। একারনেই তৃনমূল থেকে জনপ্রিয় নেতৃত্ব উঠে আসার পথ করে দেয়া হবে কাউন্সিলকে সামনে রেখে। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেছেন ‘আওয়ামী লীগ এখন অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। এই অবস্থান ধরে রাখার জন্য আমাদের স্থানীয় পর্যায়ের কমিটি গুলোকে আরো কার্যকর এবং অংশ গ্রহণমূলক করার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি।’ তিনি বলেন ‘নতুন নেতৃত্ব যেন তৃনমূল থেকে উঠে আসে সেজন্য আমরা অবশ্যই লক্ষ্য রাখবো।

বাংলা ইনসাইডার