ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কিভাবে সঠিক তথ্য পান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার, ০৮:০০ পিএম
কিভাবে সঠিক তথ্য পান প্রধানমন্ত্রী

সরকারী কর্মকর্তা থেকে মন্ত্রী এমপি সবাই এখন এটা জানেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব খবর পৌঁছে সবার আগে। মন্ত্রণালয়ের হাড়ির খবর থেকে শুরু করে, কোন মন্ত্রী কোথায় যান, কোন আমলা কতটা সৎ—প্রধানমন্ত্রী সব অবলীলায় বলে দিতে পারেন। কোন কাজ কে পারবে আর কে পারবে না- এই সিদ্ধান্তে শেখ হাসিনার জুড়ি মেলা ভার। শুধু সরকার পরিচালনায় নয়, দল পরিচালনায় তার তথ্য ভাণ্ডার অনেক সমৃদ্ধ। কোন নেতা কোথায় দলের সমালোচনা করলো, কে এলাকায় গ্রুপিং করছে, কোন নেতা গোপনে অন্য দলের সঙ্গে সখ্যতা করছে- এসব খবর সম্ভবত আওয়ামী লীগ সভাপতির আগে কেউ পায় না। এজন্যই প্রধানমন্ত্রী সরকার বা দল পরিচালনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এজন্যই সরকার এবং দলে তার নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব। প্রধানমন্ত্রীর নির্ভুল তথ্য পাওয়া নিয়ে বিতর্ক নেই। এ নিয়ে অনেক মজার গল্পও আছে। কিন্তু বিতর্ক আছে তার তথ্য প্রাপ্তির উৎস নিয়ে। সাধারণত সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের তথ্য প্রাপ্তির প্রধান উৎস হলো গোয়েন্দা বিভাগ। শুধু বাংলাদেশে নয়, উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও গোয়েন্দা তথ্য সরকার বা রাষ্ট্র প্রধানদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সবচেয়ে বড় উৎস। বাংলাদেশে, জিয়াউর রহমান তার মন্ত্রীদের বিশ্বাস করতেন না, তিনি চোখ বুঝে গোয়েন্দা তথ্যে চলতেন। এরশাদও তাই ছিলেন। বেগম জিয়া গোয়েন্দা তথ্য নিলেও তিনি সম্পূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যের উপর নির্ভর করতেন না। দ্বিতীয় মেয়াদে গোয়েন্দা তথ্যের চেয়েও তিনি তার ছেলে, ভাইয়ের তথ্যের উপর বেশী নির্ভর করতেন। এসব দিক থেকে ব্যতিক্রম এবং সম্পূর্ণ আলাদা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী কারো একক তথ্যের উপর নির্ভর করেন না। বরং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রধানমন্ত্রী তথ্য গ্রহণ করেন এবং যাচাই বাছাই করেন। একারণেই অনেক গোয়েন্দা তথ্য তিনি চ্যালেঞ্জ করেন, জানিয়েছেন, এনিয়ে নতুন করে তথ্য সংগ্রহ করতে। কিভাবে নির্ভুল তথ্য পান প্রধানমন্ত্রী? এব্যাপারে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য। প্রধানমন্ত্রীর সঠিক প্রাপ্তির উৎস মোটামুটি ৫টি।

প্রথমত; একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দেয়।

দ্বিতীয়ত; প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্টাফরা তাদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দেন।

তৃতীয়ত; প্রধানমন্ত্রী প্রচুর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে মেশেন, তাদের কাছ থেকে পান অনেক তথ্য।

চতুর্থত; তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতা কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এরা প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন। ব্যস্ত না থাকলে তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চান। অনেক স্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে নানা বিষয় ক্ষুদে বার্তাও পাঠান।

পঞ্চমত; তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রধানমন্ত্রীর একান্ত একটি বিশেষ টিম আছে। যারা খুবই সাধারণ। এরা সাধারণ চাকরী করেন অথবা ছোট খাট ব্যবসায়ী কিংবা গবেষক। এরা বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানসহ নানা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে, যে বিষয়ের তথ্য প্রধানমন্ত্রী জানতে চান। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, সবগুলো উৎসের তথ্য যাচাই বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেন শেখ হাসিনা। সে কারণেই তার সিদ্ধান্ত গুলো হয় বিচক্ষণ।

 

বাংলা ইনসাইডার