ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা করছে আ. লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার, ০৮:০৪ পিএম
অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা করছে আ. লীগ

উপজেলা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের নয়, বরং তৃনমূলে যারা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সারাদেশে যারা বিভিন্ন রকম অপকর্ম এবং সন্ত্রাসী দুবৃত্ত, মাদকাসক্তদের পৃষ্টপোষাকতা করছে, তাদের তালিকা তৈরীর কাজ শুরু করেছে। এই তালিকা প্রণয়ন করা হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নুসরাত জাহান রাফির ভয়াবহ ঘটনা এবং সেই ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের তৃনমূলের কয়েকজন ক্ষুদ্র নেতা জড়িত থাকার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, নুসরাতের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নামগোত্রহীন কিছু নেতা এর সঙ্গে জড়িত হয়েছে এবং এরফলে কোন কোন মহল থেকে আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা অনভ্রিপেত এবং দু:খজনক। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা আছে যে, রাফি হত্যার সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তারা যদি দলের কেউ হয়, তাহলে তাকে বহিস্কার করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা বহিস্কার করেছিও। শুধু রাফি হত্যাকান্ডের ব্যাপার নয়, আমরা সারাদেশে পর্যবেক্ষণ করছি। যারাই এ ধরনের বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, সেই অপকর্মকারীদের আমরা চিহ্নিত করবো। তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, ৫ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যদি তৃনমূল আওয়ামী লীগ জড়িত থাকে তাহলে তাদের কোনমতে ক্ষমা করা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই তালিকা তৈরীর পর সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের নামের তালিকা পাঠানো হবে। যে ৫ ধরনের অপরাধ ক্ষমতার অযোগ্য। যে অপরাধ করলে তৃনমূলে কেউ আওয়ামী লীগ করতে পারবে না। আওয়ামী লীগের পরিচয় বহন করতে পারবে না। সেগুলো হলো:

১. কেউ যদি মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত থাকে বা মাদক ব্যবসাকে পৃষ্টপোষকতা দেয়।

২. নারী নির্যাতন বা যৌন হয়রানির কোন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যদি জড়িত থাকে বা এরকম যৌন হয়রানির জন্য যদি তারা পৃষ্টপোষকতা দেন বা তদবির করেন। তাদের যদি কোন মদদ দেয়।

৩. শিশু নির্যাতন বা শিশু পাচাররের সঙ্গে যদি কেউ জড়িত থাকে বা মদদ দেয় বা তাঁদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করে।

৪. কেউ যদি জঙ্গি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাঁদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়, তাঁদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাঁদের মামলা মোকদ্দমাকে প্রভাবিত করার জন্য চেষ্টা তদ্বির করে।

৫. যদি কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপ, সন্ত্রাসী সংগঠন বা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যদি আওয়ামী লীগের কেউ যোগাযোগ রাখে, পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং তাঁদেরকে মদদ দেয় এক্ষেত্রে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নীতি নির্ধারকদের বলেছেন যে, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীর আগে আওয়ামী লীগ ক্লিন আওয়ামী লীগ হবে, আওয়ামী লীগ হবে অপরাধমুক্ত। আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, মাদক, চোরাচালান বা কোনো ধরণের অভিযোগ থাকবে না। এরকম একটি ক্লীন এবং স্বচ্ছ আওয়ামী লীগ করার জন্য তিনি তৎপর রয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে সারাদেশে কেন্দ্রীয় কমিটির তত্বাবধানে একটি কমিটি করা হয়েছে যারা এ ধরণের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যখন নানারকম অভিযোগ উঠেছিল তখন তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে সারাদেশে অপরাধমুলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল এবং এদের প্রায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই ধারা অনুসরণ করে এবার আওয়ামী লীগের যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার