ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার, ০৭:০০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী দুই একদিনের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে, এই সাক্ষাতের প্রস্তাব উথ্থাপন করবেন ফখরুল। স্থায়ী কমিটিতে অনুমোদন পেলে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের লিখিত আবেদন করবেন বিএনপি মহাসচিব। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থায়ী কমিটিতে যেন মির্জা ফখরুলের প্রস্তাব পাশ হয় সেজন্য ইতিমধ্যেই তিনি দলের বিভিন্ন নেতার কাছে তার এই মনোভাব জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল বিষয়টি নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বিএনপি মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের যুক্তি হিসেবে ঐ তিন নেতাকে যা বলেছেন, তা হলো, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সরকারে কারো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাই যা বলার তা প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হবে। পাঁচটি ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চান বিএনপি মহাসচিব। এগুলো হলো;

১. বেগম জিয়ার মুক্তি। এজন্য তাঁর জামিনের আবেদনে সরকার যেন বিরোধীতা না করে।

২. মুক্তি দেয়া না হলেও তাঁর (বেগম জিয়ার) যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। ইউনাইটেড বা অ্যাপোলেতে চিকিৎসার অনুমতি প্রদান।

৩. বিএনপির আটকে নেতা কর্মীদের মুক্তি প্রদান।  বিশেষ করে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের প্রাক্কালে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

৪. বিএনপি নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহার। যে মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দিয়েছিলেন।

৫. রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে সভা-সমাবেশ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চায় বাধা না দেয়া।

বিএনপি’র দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এর আগে বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সে সময়ই বিএনপির কোনো কোনো নেতা বলেছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লাভ নাই। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বেগম জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। বিএনপিপন্থী বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীরাও মির্জা ফখরুলকে এই পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, সত্যি যদি আপনারা বেগম জিয়ার সুচিকিৎসা চান, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করুন। তাদের মতে, একমাত্র তিনি রাজি হলেই এটা সম্ভব। অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় এটা সম্ভব না। বিএনপির নেতারাও এখন প্রকাশ্যেই স্বীকার করছেন, আন্দোলন করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা অসম্ভব ব্যাপার। সামনে রোজা, তারপর বর্ষাকাল। এরমধ্যে খালেদার মুক্তির আন্দোলন জমবে না। আর বিএনপিতে বেগম জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার রাজি না থাকলে কোনোভাবেই বেগম জিয়ার জামিন সম্ভব নয়। বেগম জিয়ার প্রধান কৌশলী এডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন বলেছেন, ‘আমরা একটা করে মামলায় জামিন নিচ্ছি, সরকার আরেকটা করে নতুন মামলা দিচ্ছে। তাই জামিন প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তি অসম্ভব ব্যাপার।’

উল্লেখ্য, আগামীকাল ২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের সফরে ব্রনাই যাচ্ছেন। যদি সবকিছু ঠিক ঠাক থাকে তাহলে এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে এই আবেদন করা হতে পারে।

 

বাংলা ইনসাইডার