ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

উপদেষ্টা পরিষদে থাকতে চান না হেভিওয়েটরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ পিএম
উপদেষ্টা পরিষদে থাকতে চান না হেভিওয়েটরা

আওয়ামী লীগের অন্তত দুজন হেভিওয়েট নেতা উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হিসেবে কাটাচ্ছেন দীর্ঘদিন। ওয়ান ইলেভেনের শাস্তি হিসেবে তাদেরকে প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ দিয়ে উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৬ ধারা অনুযায়ী উপদেষ্টা পরিষদ হলো একটা থিংক ট্যাংক এবং তাদের প্রধান কাজ হলো আওয়ামী লীগের সভাপতিকে পরামর্শ প্রদান করা। কিন্তু এটা আদতে একটা আলংকারীক পদ। এখানে উপদেষ্টা মন্ডলীর কোন নীতি নির্ধারনী বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোন ক্ষমতা নেই। সেইজন্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্তত দুজন হেভিওয়েট সদস্য আর উপদেষ্টা মন্ডলীতে থাকতে চান না। তারা তাদের ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, জীবন সায়াহ্নে এসে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবেই তারা দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান এবং আমৃত্য আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবেই থাকতে চান।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, এ দুজন হেভিওয়েট নেতা হলেন আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ। দুজনই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় এ দুই নেতাই মাইনাস ফর্মূলা দিয়ে দলে গণতন্ত্র আনা এবং একজন সভাপতি পদে দুবারের বেশি না থাকার প্রস্তাব উথাপন করেছিলেন। যদিও এই সংস্কার প্রস্তাবের জন্য তারা অনুতপ্ত হয়েছিলেন পরবর্তীতে। কিন্তু এই সংস্কার প্রস্তাবের কারণে তারা দলের সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত। ওয়ান ইলেভেনের পরে আওয়ামী লীগ বিপুলভাবে বিজয়ী হয়। তখন এই দুজনই মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েন। এ দুজনকে আওয়ামী লীগের সরকার পরবর্তী কাউন্সিলে প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ থেকে বাদ দিয়ে উপদেষ্টা মন্ডলীর আলংকারিক পদ দেওয়া হয়। অবশ্য ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভায় এরা দুজনই অন্তর্ভূক্ত হন এবং সরকারে প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালের মন্ত্রিসভায় এই হেভিওয়েটরা বাদ পড়েছেন। তারা এখন দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হিসেবে কাটাচ্ছেন।

৪২ সদস্যের উপদেষ্টা মন্ডলীতে এমন বেশ কয়েকজন ব্যাক্তি আছেন, যারা রাজনীতিতে কোনভাবেই এই দুই হেভিয়েট নেতার সমকক্ষ তো ননই, দুই নেতার ধারেকাছেও থাকার যোগ্যতা রাখেন না। সেজন্যই ঢালাও উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে থাকতে তারা অনীহা প্রকাশ করেছেন। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, তারা কাউন্সিলের আগেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন। রাজনৈতিক জীবনের শেষপ্রান্তে তারা উন্নীত হয়েছেন। এই অবস্থায় তারা উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য না থেকে দলের সাধারণ কর্মী হিসেবে থাকতে চান। আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবেই রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে চান। এদের একজন তোফায়েল আহমেদ তাঁর ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ এটাই তাঁর বড় পরিচয়। কোনো পদ পদবী তাঁর প্রয়োজন নেই। আমির হোসেন আমুও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে থাকতে রাজী নন।

আওয়ামী লীগের যে ৪২ সদস্যের উপদেষ্টা মণ্ডলী রয়েছে সেই উপদেষ্টা মণ্ডলীতে মুকুল বোস, আলহাজ মকবুল হোসেন সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ রয়েছেন। যাদের সঙ্গে তোফায়েল এবং আমির হোসেন আমু মানানসই নয় বলে তাঁদের ঘনিষ্ঠরা মনে করছে। যদিও দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের উপর রুষ্ট হবেন এজন্য তারা প্রকাশ্যে এ নিয়ে কথা বলেন না। কিন্তু আড়ালে আবডালে তারা এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এখন দুজনই রাজনীতি থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করবেন কিনা সেটা নিয়েও তারা নিজেরা সংশয়ে আছেন। তারা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় নির্বাচন করার ব্যাপারেও অনীহা প্রকাশ করেছেন। কাজেই জীবন সায়াহ্নে এসে তারা আর উপদেষ্টা পরিষদে থাকতে চান না। তারা বলেছেন, যে কাঠামোর ওপর উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে তা এক ধরণের অপমান এবং স্বান্তনা পুরস্কার। এই স্বান্তনা পুরস্কার নিয়ে তারা বেঁচে থাকতে চান না। এ বিষয়টি তারা শেষ পর্যন্ত দলের সভাপতির কাছে বলতে পারবেন কিনা সেটাই দেখার বিষ। 

বাংলা ইনসাইডার