ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক খুঁজছে আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার, ০৭:০০ পিএম
সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক খুঁজছে আ.লীগ

আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এবারের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ একজন সার্বক্ষনিক সাধারণ সম্পাদক খুঁজছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরকম ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতা আছে এমন কয়েকজনের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা বলেছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একাধারে সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি খুব শীঘ্রই ফিরে আসবেন। তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মাহবুবুল আলম হানিফ। ওবায়দুল কাদের ফিরে আসার পরও তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। কারণ তিনি পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দুটি দায়িত্ব দিতে আপত্তি আছে স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শুধু ওবায়দুল কাদেরের অসুস্থতা নয়, আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করা, তৃনমূলকে মূল্যায়ন করা, আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ একজন সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক খুঁজছেন। তিনি কোন মন্ত্রী থাকবেন না, সরকারী পদ গ্রহণ করবেন না। বরং তিনি সার্বক্ষণিকভাবে দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সময় দিবেন এবং দলীয় সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিলো এমন একটি আওয়ামী লীগ। এজন্যই তিনি পঞ্চাশের দশকে মন্ত্রীত্ব ছেড়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার জন্য। সেই সময়ে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে ছিলো যিনি দলের পদে থাকবেন, তিনি মন্ত্রী থাকতে পারবেন না। যেকোন একটা গ্রহণ করেতে হবে। দুটি একসঙ্গে গ্রহণ করা যাবে না। কিন্তু ৭৫ এর ১৫ আগষ্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই অবস্থা পাল্টে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে নেতারাই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালে অনেকজনকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়ে শেখ হাসিনা এই প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু দলের সাধারণ সম্পাদক পদটি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং ২০০৮ সালে যখন আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়, ২০০৯ সালে গঠিত মন্ত্রিসভায় দলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পরবর্তীতৈ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হওলেও তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপরের কাউন্সিলে সৈয়দ আশরাফের জায়গায় ওবায়দুল কাদের দায়িত্ব পালন করে। ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালেও সেতুমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি মনে করছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় না থাকার পর দল যেন দুর্বল না হয়ে পড়ে, দল যেন স্থবির না হয়ে যায়, সেজন্য একজন পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক দরকার। সেই পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদকের সূচনা হতে পারে আগামী অক্টোবরের কাউন্সিল থেকে।

জানা গেছে আওয়ামী লীগের যে এখন চারজন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আছেন তাদের মধ্যে শুধুমাত্র ডা. দীপুমনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাহবুবুল আলম হানিফ সংসদ সদস্য হলেও তিনি কোন মন্ত্রিসভার সদস্য নন। আব্দুর রহমান এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক তারা দুজনের একজনও সংসদ সদস্য নন। তারা সার্বক্ষনিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই তিনজনের একজনকে যদি পূর্ণকালীণ সাধারণ সম্পাদক করা হয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি তাদের সঙ্গে এ ব্যপারে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন বলেও জানা গেছে। তারা এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলেই একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এই তিনজন ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামেরও দু-একজন সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেছেন, সাধারণ সম্পাদক পদ পেলে তারা মন্ত্রীত্ব ছাড়তে রাজি কিনা। এ ব্যাপারে তারাও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভার সদস্য এবং যারা সাধারণ সম্পাদক পেতে ইচ্ছুক, এদের মধ্যে রয়েছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক (কৃষিমন্ত্রী), ডা. দীপুমনি(শিক্ষামন্ত্রী)। তবে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি এ ব্যাপারে নানা রকম বিচার বিশ্লেষন করছেন এবং নানা রকম হিসেব নিকেশের মাধ্যমেই হয়তো তিনি শেষ পর্যন্ত এই পদে কাকে মনোনিত করবেন তা চুড়ান্ত করবেন। তবে সাধারণ সম্পাদক যেই হোক না কেন, অক্টোবরের কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের যে নবযাত্রার সূচনা হবে। যেখানে দলের যারা সভাপতি মন্ডলী এবং সদস্য থাকবেন, তারা মন্ত্রিসভার পদ নাও পেতে পারেন, মন্ত্রিসভার সদস্যরা দলের সম্পাদক মন্ডলী এবং সভাপতি মন্ডলীর পদে নাও থাকতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে অন্তত আওয়ামী লীগ সভাপতি এখন পর্যন্ত সেপথেই এগুচ্ছেন। 

 

বাংলা ইনসাইডার