ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রাজনীতিতে তাঁরা কি গুপ্তচর?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৬:০০ পিএম
রাজনীতিতে তাঁরা কি গুপ্তচর?

রাজনীতিতে গুপ্তচর বৃত্তির ধারনা নতুন নয়। সারা বিশ্বে এটা অনাকাঙ্খিত বাস্তবতা। প্রকাশ্যে করেন একটি দল, কিন্তু গোপনে অন্যদলকে নিজ দলের যাবতীয় কৌশল এবং গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন গোপনে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিতে গুপ্তচর বৃত্তি জেঁকে বসে। সোভিয়েত বিপ্লবের পর সমাজতান্ত্রিক দেশ এবং পুঁজিবাদী দেশ গুলোর মধ্যে গুপ্তচর নিয়ে অনেক অঘটন ঘটেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুপ্তচর বৃত্তির চর্চা শুরু করেছিলেন জিয়া। অন্যদলের খবর নয়, নিজ দলের কে কি করে সেখবরও জিয়া নিয়মিত নিতেন। আর এই কমিটি করতো সেনা গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। জিয়া তার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের ফোনে আড়িপাতার ব্যবস্থা করেছিলেন। মন্ত্রীরা কি কথা বলেন, তার খবর নিতেন। আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফোনেও আড়িপাতা হতো জিয়ার আমলে। জিয়াই প্রথম চালু করেছিলেন ‘এজেন্ট’ নিয়োগ। বিষয়টি এরকম, একজন অন্যদল করবেন। যেই দলে থেকে জিয়াকে গালি দেবেন। কিন্তু তিনি আসলে জিয়ার লোক। সময় মতো খবর দেবেন, জিয়ার নির্দেশেই কাজ করবেন।

জিয়ার পর এরশাদও এই ধারা বহাল রেখেছিলেন। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগে তাঁর বেতনভুক এজেন্ট ছিল। এই এজেন্টদের কেউ কেউ এরশাদের নির্দেশে সবাইকে চমকে দিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছিল। এজেন্টদের কাজ হলো প্রয়োজনের সময়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দেওয়া।

এরশাদের পতনের পর বেগম জিয়াও এই ধারা অব্যাহত রাখেন। এখন শোনা যাচ্ছে সব দলেই আওয়ামী লীগের এজেন্ট রয়েছে। এরা আওয়ামী লীগ সভাপতি কর্তৃক নিয়োজিত। এদের থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রতিপক্ষের সব খবর পান। প্রতিপক্ষ কি করবে না করবে তা আগাম জানেন। এই এজেন্ট বা গুপ্তচররা প্রয়োজনে এমন কাজ করেন, যাতে প্রতিপক্ষরা দুর্বল হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ২০ দলে টানাপোড়েন নিয়ে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার পটভূমিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ’২০ দল ভাঙার পেছনে সরকারের হাত রয়েছে।’ তাহলে কি বিজেপি নেতা আন্দালিব রহমান পার্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির এজেন্ট হিসেবে ২০ দলে ছিলেন? এখন বিএনপিকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করার জন্য কি তিনি ২০ দল থেকে সরে দাড়ালেন? এ প্রশ্ন রাজনীতিতে উঠেছে। এর কারণ হলো; আন্দালিভ রহমান পার্থ, আওয়ামী লীগ সভাপতির আত্মীয়। আত্মীয় আবার দুদিক থেকেই। ২০ দল করে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়নি কখনো। এজন্য এই সন্দেহ এখন দানা বেধেছে।
২০ দলকে যখন পার্থ বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, ঠিক কাছাকাছি সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট  থেকে কাদের সিদ্দিকীও বেরিয়ে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। তাহলে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী কি শেখ হাসিনার এজন্ট হিসেবেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে গিয়েছিলেন? এখন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ যেভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রশংসা করেন, তাতে অনেকেই মনে করেন, সুলতানকে শেখ হাসিনাই ঐক্যফ্রন্টে পাঠিয়েছিলেন। এই কৌশলের জন্যই আজ বিএনপি সংসদে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

অবশ্য ‘এজেন্ট’ তত্বে বিএনপি আরেক ধাপ এগিয়ে। বিএনপির অনেক নেতাই বিশ্বাস করে, ড. কামাল হোসেনও আওয়ামী লীগ সভাপতির ‘এজেন্ট’। আওয়ামী লীগ সভাপতির জন্যই তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন, তার ইশারাতেই তিনি সংলাপ, নির্বাচন এবং শপথের নাটক করেছেন।

বিএনপির অনেক নেতাই বিশ্বাস করেন, বিএনপির মধ্যেই এখন সরকারের অনেক গুপ্তচর রয়েছে।

 

বাংলা ইনসাইডার