ঢাকা, রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

বিএনপির মনোনয়ন কে পাবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৬:০০ পিএম
বিএনপির মনোনয়ন কে পাবেন?

উপনির্বাচন নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরী হয়েছে বিএনপিতে। উপনির্বাচন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন নিয়ে নতুন সংকট তৈরী হয়েছে বিএনপিতে। সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরী হয়েছে সংরক্ষিত মহিলা আসনের কোটা নিয়ে। যদিও বিএনপি থেকে বলা হয়েছে তারা এ ব্যাপারে বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিবেন। কিন্তু মহিলা কোটায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য একাধিক প্রার্থী দৌঁড়ঝাপ করছে। উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদে মহিলা কোটায় বিএনপির ভাগে জুটেছে মাত্র একটি আসন। এই একটি আসন কে পাবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। যদিও বিএনপির একটি বড় অংশ এই ২৪ জুন সংরক্ষিত আসনে বগুড়ায় উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে। কিন্তু যেহেতু লন্ডন থেকে তারেক জিয়া নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সংরক্ষিত আসনেও মনোনয়নের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সেজন্য বিএনপি এই উপনির্বাচন ও নারী কোটাতেও প্রার্থী দিবে। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রথমে আলোচিত ছিল যে, জোবায়দা রহমান বা সৈয়দা শর্মিলা রহমান হয়তো প্রার্থী হবেন। কিন্তু সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে পাওয়া গেছে যে, তারা কেউই এই সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হবেন না। এই মুহূর্তে এমপি হওয়ার কোনো ইচ্ছে তাদের নেই। অন্যদিকে বিএনপিতে যারা ক্রিয়াশীল আছেন, তাদের মধ্য থেকে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, এনিয়ে চলছে নানারকম কানাঘুষা এবং নানারকম তৎপরতা।

এখানে আলোচনায় আছেন জাতীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তিনি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী।  সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে অনেক সক্রিয় দেখা গেছে। কিন্তু তিনি জাতীয় নির্বচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং পরাজিত হয়েছিলেন। এই বিবেচনায় তাঁকে আবার সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে কিনা সেটি বিবেচনার বিষয়। এছাড়া মহিলা আসনে কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদকেও বিবেচনা করা হচ্ছে। শামা ওবায়েদও এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং পরাজিত হয়েছিলেন। এছাড়াও আলোচনায় আছেন রুমিন ফারহানা যিনি ভাষা সৈনিক অলি আহাদের মেয়ে এবং বিএনপিতে সক্রিয় রাজনীতিবিদদের একজন। সবকিছুই নির্ভর করবে তারেক জিয়া কীভাবে চাইছেন বা কাকে চাইছেন তাঁর উপর। তবে যাকেই নিয়োগ করা হোক না কেন সেটি যে তারেক জিয়ার ইচ্ছেতেই হবে তা নিশ্চিত। অন্যদিকে উপনির্বাচনে মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে যে বগুড়া-১ আসনে কোনো নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বা বগুড়া বিএনপিতে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেরকম কাউকেই বগুড়া-১ আসনের প্রার্থীতা দেওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন দাড়িয়েছে যে, উপনির্বাচনের মাধ্যমে এবং সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দিয়ে যে সংসদীয় বিএনপি হবে সেই সংসদীয় বিএনপি কতটা দলীয় অনুগত হবে কারণ দলের নেতৃবৃন্দকে চ্যালেঞ্জ দিয়েই তাঁরা সংসদে যোগ দিয়েছিলেন এবং সংসদে যোগদানের ব্যাপারে তাঁদের যদি সম্মতি নাও দেয়া হতো তাহলেও তাঁরা দল ভেঙে সংসদে যোগ দিতেন। অনেকেই মনে করেন যে, দল ভাঙা রোধ করতেই তারেক জিয়া এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। সেটাই যদি হয় এবং বাকী দুজন যদি সংসদ সদস্য হিসেবে যোগদান করেন সেক্ষেত্রে বিএনপির কি লাভ হবে? নাকি এটি বিএনপিকে নতুন সংকটের মধ্যে ফেলবে সেটিই দেখার বিষয়।


বাংলা ইনসাইডার