ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ক্যাডার রাজনীতির দুর্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ মে ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ পিএম
ক্যাডার রাজনীতির দুর্দিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে দেশের রাজনীতিতে অনেকগুলো গুনগত পরিবর্তন এনেছেন। এর মধ্যে একটি হলো রাজনীতিতে অস্ত্রধারী ক্যাডারদের অবসরে পাঠানো। গত ১০ বছরে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোতে ক্যাডারদের দুর্দিন চলছে। রাজনীতির মাঠ হয়ে পরেছে ক্যাডার অস্ত্রধারী আর মাসলম্যান মুক্ত। আইয়ুব আমলে ছিলো খোকা, পাচপাত্তুর। মুক্তিযুদ্ধের পর শফিউল আলম প্রধানদের সাত খুন কিংবা জাসদের গণবাহিনী ক্যাডার রাজনীতির অপরিহার্যতাই জানান দেন। কথিত আছে, জিয়াউর রহমান তরুণ এবং মেধাবীদের নিয়ে গিয়েছিলেন নৌ বিহারে। ‘হিজবুল বাহার’ নামের এই নৌ তরীতেই তরুণদের ক্যাডার বানানোর তালিম দেয়া হয়েছিল। জিয়ার বিএনপি ছিল ক্যাডার নির্ভর। এদের মধ্যে গোলাম ফারুক অভি, সানাউল হক নীরু তো মোটামুটি কিংবদন্তির মর্যাদা পান। রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে আওয়ামী লগেও এক সময় ক্যাডার কদর বাড়ে। আওরঙ্গ, হেমায়েত, লিয়াকত, হান্নান থেকে মোস্তফা মোহসীন মন্টু। শুধু ক্যাডার রাজনীতি করেই আলোচনায় আসেন জয়নাল হাজারী। মাঠ দখলের লড়াইয়ে হরতাল অবরোধে কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ‘ক্যাডার’ যেন রাজনৈতিক দলের অপরিহার্য উপদানে পরিণত হয়েছির। এক সময় ক্যাডাররা পদ পদবী এমনকি এমপি মন্ত্রীত্বও দাবী করেন। দলের নেতারাও মনে করতে থাকেন, ক্যাডার না থাকলে রাজনীতি করাই কঠিন। এজন্য নেতারা ক্যাডার লালন পালন শুরু করেন। বিভ্রান্ত তারুন্যের কাছে অনেক ক্যাডারই ‘নায়ক’ হিসেবে উপস্থাপিত হন। যেমন গোলাম ফারুক অভি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিকে নিয়ে অনেক সত্য মিথ্যা চাউর আছে। ছাত্রদল থেকে অভির উথান হরেও, অভি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। নির্বাচন করে এমপিও হয়েছিলেন। বাংলাদেশে একটা সময় রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতি তৈরী হয় যে, ক্যাডারদের হিস্যা দিয়েই রাজনীতি করা যেন বাধ্যতামূলক। এ কারণে জয়নাল হাজারিকেও আওয়ামী লীগের মতো দলের এমপি বানানো হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে শেখ হাসিনা নীরবে যুদ্ধ রাজনীতির চর্চাকে বিকশিত করতে থাকেন। খুনী, অস্ত্রধারী, নেশাগ্রস্থ তরুণদের বদলে রাজনীতিতে শেখ হাসিনা টেনে আনেন শিক্ষিত  মেধাবীদের। লিয়াকত হান্নান, আওরঙ্গদের বদলে শেখ হাসিনা রাজনীতিতে আনেন মাশরাফিদের মতো নায়কদের। শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা এখানেই। তিনি সবার অলক্ষ্যে রাজনীতি থেকে ক্যাডারদের নির্বাসনে পাঠানো শুরু করেন। ক্যাডারদের জন্য এখন রাজনীতি ডিফিকাল্ট হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দলই যখন ক্যাডার লালন পালন বন্ধ করলো, তখন অন্যদলের ক্যাডারদের দমন করাও হয়ে উঠলো সহজ সাধ্য। বিএনপি , জাতীয় পার্টির ক্যাডাররাও গা ঢাকা দিলো না হলে কারাগারে গেল। এভাবেই রাজনীতি পেশীশক্তি আর অস্ত্রবাজদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। এই নীরব পরিবর্তন আমাদের নজরে এসেছে?