ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার প্রিয় বিরোধী নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ মে ২০১৯ বুধবার, ০৮:০০ পিএম
শেখ হাসিনার প্রিয় বিরোধী নেতারা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন অনড় অটুট। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সংগে রাজনীতির বাইরে তার সম্পর্কটা ছিল চোখে পড়ার মত। এই সখ্যতা নিয়ে অনেকরকম গল্প এবং আলোচনাও রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বাংলাদেশের স্বাধীকার, মুক্তির প্রশ্নে যেমন আপোষ করেননি আবার তেমনি যারা তার প্রবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, এমনকি যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল এমন অনেকের সংগে ব্যাক্তিগত সখ্যতা বঙ্গবন্ধু রেখেছিলেন। এটাই হয়তো মানবিক গুণাবলি। যেমন বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীকার আন্দোলনের জন্য উত্তাল বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেসময় তার সংগে সম্পর্ক ছিল মুসলিম লীগের নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী, সবুর খানের। এমনকি মওলানা ভাষানী যিনি আওয়ামী লীগ ও তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তার প্রতিও তিনি সারাজীবন শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা অটুট রেখে গেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এই জিনিসটা দেখা যায় না। প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদ মানেই হলো একে অন্যের চরম শত্রু। তারসঙ্গে সব ধরণের সম্পর্কই বন্ধ। যেটা আসলেই কখনও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বা রাজনৈতিক গুণাবলি নয়।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও বিরোধী রাজনৈতিক অনেকের সংগে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের অনেকের তিনি খোঁজখবর নেন। তার পছন্দের অনেক বিরোধীদলীয় নেতা রয়েছে। তবে সময়ের সংগে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেভাবে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতার সংগে সম্পর্ক রাখতেন সেই বাস্তবতা বাংলাদেশে নেই। তবে শেখ হাসিনাও এখনও অনেক বিরোধী রাজনৈতিক নেতার প্রশংসা করেন। তাঁদের সংগে দেখা সাক্ষাৎ হলে হাস্যরসাত্মকভাবে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। জামাত ছাড়া সব দলেই শেখ হাসিনার পছন্দের নেতা রয়েছেন। এই প্রতিবেদনে তেমন কয়েকজন নেতার কথাই জানাবো-

লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান: লেফট্যানেন্ট জেনারেল মাহাবুব হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। কিন্তু তার আরেকটি পরিচয় আছে। ২১ বছর পর শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী হন তখন লেফট্যানেন্ট জেনারেল মাহাবুব ছিলেন সেনাপ্রধান। সেইসূত্রে লেফট্যানেন্ট জেনারেল মাহাবুব রহমান এর সংগে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির সুসম্পর্ক রয়েছে। যদিও তিনি বিএনপি করেন তারপরও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জেনারেল মাহাবুব যান এবং প্রধানমন্ত্রী তার সংগে কুশল বিনিময় করেন। তার শরীরের খোঁজখবর নেন এবং তারসঙ্গে বিভিন্ন আলাপ আলোচনাও করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রবল প্রতিপক্ষ। কিন্তু শেখ হাসিনার পছন্দের রাজনীতিবিদদের একজন ফখরুল। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে যখন সংলাপ অনুষ্ঠিত হলো তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি কেন অসুস্থ। তার চিকিৎসা তিনি করতে চান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যাপারে তার যে নমনীয়তা তাতে বুঝা যায় যে, প্রায়ই শেখ হাসিনা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের খোঁজখবর নেন। এমনকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন শপথ গ্রহণ করেননি সেসময় এজন্য প্রধানমন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন যে, মির্জা ফখরুলের সংসদে আসা উচিৎ ছিল।

রুহুল কবির রিজভী: রুহুল কবির রিজভীকের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই ঠাট্টামশকরা করেন, কথা বলেন। আবার তিনি একান্তে দলের নেতাকর্মীদের বলেন যে, রুহুল কবির রিজভী যেভাবে দলের আদর্শের প্রতি অনুগত তার প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার একটি সংবাদ সম্মেলনে রিজভীকে পানি দেয়ার কথা বলেছিলেন। মাঝেমাঝেই আবার প্রধানমন্ত্রী রিজভীকে নিয়ে কৌতুকও করেন।

বিএনপির বাইরে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের মধ্যে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আওয়ামী লীগ সভাপতির একসময় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। এখন যদিও ঘনিষ্ঠতা আগের মত নেই তারপরও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের খোঁজখবর রাখেন, তার কুশালাদি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে প্রধানমন্ত্রী ভোলেন না।

বর্তমান সময়ের রাজনীতিবিদদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী যেহেতু অনেক রাজনীতিবিদকে অনেক শ্রদ্ধা করেন তাঁদের মধ্যে হায়দার আকবর খান রনো অন্যতম। হায়দার আকবর খান রনো একসময় ওয়ার্কার্স পার্টি করতেন। এখন কমিউনিস্ট পার্টি করেন। রনোর সংগে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও রনোর লেখার একজন ভালো পাঠক হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ন্যাপের নেতা মুজাফফর আহমেদকে পছন্দ করেন। সম্প্রতি মুজাফফর আহমদ অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার প্যুরো খরচ তিনি বহন করেন। এছাড়াও ১৪ দলের নেতৃবৃন্দের সংগে এবং মহাজোটের জাতীয় পার্টি ও বিকল্পধারার সংগে তার সুসম্পর্কের কথা তো সবাই জানে।

বাংলা ইনসাইডার