ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন মন্ত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০১৯ শনিবার, ০৬:০০ পিএম
কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন মন্ত্রীরা

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা মন্ত্রী থাকতে পারবেন না। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় কাউন্সিলে মন্ত্রীসভার সদস্য যারা প্রেসিডিয়াম এবং সম্পাদক শুধু দলীয় পদ এবং মন্ত্রীত্ব এক সাথে রাখতে পারবেন। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি গত কাউন্সিল থেকেই দল এবং সরকারকে আলাদা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। গতবার মন্ত্রীত্ব পাওয়া অধিকাংশকেই দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুরোপুরি সরকার এবং দলকে আলাদা করা সম্ভব হয়নি। এবার এটা যেকোনোমূল্যে করতে বদ্ধপরিকর আওয়ামী লীগ সভাপতি।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল সিনিয়র নেতা বলেছেন, ‘এখন আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী এবং বড়। তাই এই দল পরিচালনার জন্য সার্বক্ষনিক নেতৃত্ব প্রয়োজন।’

ওই নেতা আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি সবসময় বলেন, সংগঠন হলো গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠন না থাকলে ক্ষমতাও থাকবে না।’ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি নতুনদের সুযোগ দিতে চান। নতুন নেতৃত্ব যেন উঠে আসে সেটা চান। একই ব্যক্তি মন্ত্রী এবং দলের নেতা হলে, নতুনরা সুযোগ পায় কম। তাছাড়া এখন সরকারের কাজের ব্যপ্তি বেড়েছে। মন্ত্রনালয়গুলোর বাজেট বেড়েছে। তাই এখন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাজ সার্বক্ষণিক। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে একজন মন্ত্রীর পক্ষে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দলের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এর ফলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও হতাশ হয়ে পড়েন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বারবার বলছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে নেতারা দলের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েন। এজন্য দলে দরকার তারুণ্যের প্রবাহ এবং সাংগঠনিক নেতৃত্ব।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এবারের কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে তারুণ্যের বিকাশ ঘটবে। সম্পাদক মণ্ডলী তরুণদের দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দলের প্রেসিডিয়াম থাকবেন প্রবীণ এবং সিনিয়র সদস্যরা। বর্তমানে যারা প্রেসিডিয়ামে আছেন তাদের মধ্যে থেকে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক মন্ত্রী থাকার কারণে বাদ পড়বেন এটা নিশ্চিত। এছাড়াও আরও দু’একজন বাদ পড়তে পারেন।

অন্যদিকে, ঢাকার বাইরে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন এমন প্রবীণ নেতাদের কয়েকজনকে প্রেসিডিয়ামে যুক্ত করা হতে পারে। প্রেসিডিয়াম প্রবীণদের হলেও সম্পাদকমণ্ডলী হবে তরুণদের। যারা নতুন চিন্তা-চেতনা নিয়ে সামনে এগুতে চান। যারা ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা অন্য কোনো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন থেকে এসেছেন। তাদের সম্পাদকমণ্ডলীতে জায়গা করে দেওয়া হবে। এর ফলে সম্পাদক মন্ডলী সার্বক্ষণিকভাবে দলের জন্য কাজ করবেন, দলকে শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হবেন।

দলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে একমাত্র ডা: দীপুমণি ছাড়া আর কেউ মন্ত্রী নন। সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে দুজন উপমন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী। এরা এবার কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পরবেন তা নিশ্চিত। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে নতুনরূপে আত্মপ্রকাশ করবে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটি।

বাংলা ইনসাইডার