ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তারেকের বিচার চাইতে খালেদার সাক্ষাত চান ৮ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০১৯ শনিবার, ০৭:০১ পিএম
তারেকের বিচার চাইতে খালেদার সাক্ষাত চান ৮ নেতা

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চান। এই সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে ৮ জনের একটি নামের তালিকা আগামী কাল রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনে অবশ্য বলা হচ্ছে,‘বিএনপি চেয়ারপরসনের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে তার সাক্ষাৎ প্রয়োজন।’ কিন্তু জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডন থেকে তারেক জিয়ার একের পর এক চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতেই তারা বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী। চিঠিতে সাক্ষাতে আগ্রহী যে ৮ জনের নাম দেওয়া হয়েছে তারা হলেন; ১. ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ২. ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ৩. নজরুল ইসলাম খান ৪. গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ৫. মির্জা আব্বাস, ৬. অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন, ৭. সেলিমা রহমান এবং ৮. মেজর (অব: ) হাফিজ উদ্দিন।

জানা গেছে, তারেক জিয়ার ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘আত্মঘাতি’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিএনপির বেশ কিছু নেতা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করছেন। তারেকের সব সিদ্ধান্ত বিনা বাধায় মেনে না নেওয়ার ব্যাপারে তারা একমত পোষণ করেছেন বলেও জানা গেছে। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, সংসদে বিএনপির ৪ সংসদ সদস্যের শপথ নেয়ার পর থেকেই বিএনপিতে এই অস্থিরতা তৈরী হয়। এরপর যখন তারেক জিয়া উপ নির্বাচনে এবং সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেন, তখন বিএনপিতে বিভক্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বিএনপি মহাসচিব তারেক জিয়া যা বলছেন, তা কোন রকম জোর আপত্তি ছাড়াই পালন করছেন। বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, তারেকের নির্দেশগুলো দলের জন্য ক্ষতিকর এবং আত্মঘাতি। এই সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপি একটি হাস্যকর রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। এরফলে, বিএনপির অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, ‘তারেক জিয়া গত ১১বছর লন্ডনে। বাংলাদেশের রাজনীতির সাম্প্রতিক গতি প্রকৃতি এবং পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি মোটেও ওয়াকিবহাল নন। দলের নেতাকর্মীদের মনোভাব সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। লন্ডনে বসে কিসের ভিত্তিতে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা একমাত্র তিনিই জানেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘বিএনপিতে সাম্প্রতিক সময়ে যে সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে তা সঠিক না ভুল তা পরের ব্যাপার। কিন্তু কিভাবে সিদ্ধান্ত হচ্ছে সেটাই হলো আশ্চর্যের ব্যাপার। বিএনপির এমপিরা শপথ নিলো, দল কিছু জানে না।‘

বিএনপির অন্য একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেছেন, ‘ম্যাডাম সবার কথা শুনতেন, তারপর সিদ্ধান্ত দিতেন। সেই সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতাম। কিন্তু এখন সব সিদ্ধান্ত হচ্ছে ভূতুড়ে সিদ্ধান্ত।‘

জানা গেছে, বেগম জিয়ার কাছে গিয়ে এই আট নেতা তারেকের হাত থেকে বিএনপির মুক্তি চাইবেন। তাঁরা যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমে দল পরিচালনার অনুমতি চাইবেন। সূত্রমতে, সংসদে যাওয়াসহ আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিএনপিতে এখন তারেক ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। একারণেই ৮ নেতার এই উদ্যোগ বলে জানা গেছে।

বাংলা ইনসাইডার