ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ওবায়দুল কাদের: টু বি অর নট টু বি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯ সোমবার, ০৬:০০ পিএম
ওবায়দুল কাদের: টু বি অর নট টু বি

আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কে? আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় দলের কাউন্সিল অধিবেশনে কি ওবায়দুল কাদেরকেই সাধারণ সম্পাদক বেছে নেওয়া হবে? আওয়ামী লীগের মধ্যে এ নিয়ে নানা গুঞ্জন এবং আলোচনা। আর এই আলোচনা এবং গুঞ্জনের মূল কারণ তিনটি:

প্রথমত, ওবায়দুল কাদেরের অসুস্থতা। গত ২ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। এরপর তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে বাইপাস সার্জারির পর সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন। এই অসুস্থতার ধকল সামলে যদিও এখন তিনি কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু আগের মতো স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততা নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, এখন তাকে নিয়ম মেনে চলতেই হবে। চাইলেও আগের মতো জীবনযাপন করতে পারবেন না। তবে চিকিৎসকরা এটাও বলছেন, তিনি (ওবায়দুল কাদের) সম্পূর্ণ সুস্থ। তাকে কেবল রুটিনমাফিক চলতে হবে। এখানেই নানা আলোচনার সূচনা। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের জীবন দিনরাত একাকার। একমাত্র প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছাড়া অন্য সাধারণ সম্পাদকের দলের কার্যক্রমে প্রচুর সময় দিতে হতো। ওবায়দুল কাদের সময় দিতেন সবচেয়ে বেশি। এখন ডাক্তারের বেঁধে দেওয়া রুটিনে কাদের এত বড় দল আবার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় একমাসে কীভাবে সামলাবেন, সে প্রশ্ন ক্রমশ বড় হয়ে উঠছে।

দ্বিতীয়ত, পদ্মাসেতু আর মেট্রোরেলের কাজ এখন দ্রুতগতিতে এগুচ্ছে। একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি মেগা প্রকল্প। এবার বাজেটে সড়ক এবং সেতু খাতেই সর্বাধিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী দুই বছর এই দুটি প্রকল্পের সুষ্ঠু সমাপনীতে দরকার রাজনৈতিক নজরদারি এবং সার্বিক তদারকি। যদিও সার্বিক নির্দেশনা এবং তত্ত্বাবধানে এই চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প দুটি হচ্ছে, তবুও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পদ্মাসেতুর চূড়ান্ত পর্বে ওবায়দুল কাদেরকে একই সঙ্গে দুটি দায়িত্বে রাখা হবে কিনা এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ, এক পদ্মাসেতুই পাল্টে দেবে রাজনীতির দৃশ্যপট। এটা কেবল একটি সেতু নয়, আত্মমর্যাদা এবং অহংকারের প্রতীক। তাই এই সেতু নির্মাণের শেষ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর অর্থাৎ সেতুমন্ত্রীর নিরবিচ্ছিন্ন মনোনিবেশ চাইবে সরকার। আর যেহেতু ওবায়দুল কাদের সেতু বিভাগে তার নিজস্ব একটি টিম করে ফেলেছেন, তাই পদ্মাসেতুর শেষপর্যন্ত তার প্রয়োজনীয়তা থাকবেই। পদ্মাসেতুর স্বার্থে কি তাহলে সাধারণ সম্পাদক পদ ছাড়বেন কাদের?

তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগ এবার দল এবং সরকার আলাদা করতে চাইছে। জাতির পিতা যেমনটি চেয়েছিলেন। যে কারণে বঙ্গবন্ধু দলের স্বার্থে মন্ত্রীত্ব ছেড়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি এখন সেই ধারা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। গত মেয়াদে তিনি অনেকটা সফল হয়েছেন। এবার কি কাউন্সিলে তাহলে একজন অমন্ত্রী পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক হবেন। তাহলে কি ওবায়দুল কাদেরকে ছাড়তে হবে যেকোনো একটি পদ?

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আরও পরে। আর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন একজনই, তিনি হলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।