ঢাকা, বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আ.লীগে অবসরের মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ পিএম
আ.লীগে অবসরের মিছিল

আওয়ামী লীগের এবারের কাউন্সিল নানা দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এই কাউন্সিল এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উদযাপিত হবে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তার নেতৃত্বের বাক পরিবর্তনের রেখা চিহ্ন একে দিতে চায়। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে প্রবীনদের বদলে তরুণ নেতৃত্ব স্থলাভিষিক্ত হবে। এই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে যদিও মূল নেতৃত্বের পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম এবং আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্বে তারুণ্যের জয়োধ্বনি শোনা যাবে বলেই আওয়ামী  লীগের নীতি নির্ধারক মহল থেকে আভাস পাওয়া গেছে। এবারের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত করা হয়েছে, তার একটি বড় দিক হলো দলের হেভিওয়েটরা কাউন্সিলের মাধ্যমে অবসরে যেতে পারে। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, বেগম মতিয়া চৌধুরীরা এবার কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে অবসরে যেতে পারে। যদিও তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু এখন উপদেষ্টা মণ্ডলীতে আছে এবং অন্যদিকে বেগম সাজেদা চৌধুরী এবং মতিয়া চৌধুরী, দুজনেই প্রেসিডিয়ামে আছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভিতরকার খবর হলো যে, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য থাকতে চান না তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমু। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীতে তারা রাজনীতি থেকে অবসর নিতে পারেন। শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়, আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট অনেক নেতাই অবসরের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। তারা তাদের নিকটজনদের বলছেন, মেঘে মেঘে বেলা অনেক হয়েছে। রাজনীতিতে এখন অবসর গ্রহণ করাই উত্তম। তবে এর পেছনে কোন অভিমান আছে কিনা তা অবশ্য স্পষ্ট নয়, তা জানা যায়নি। তবে অভিমান থাকুক বা না থাকুক, ইতিমধ্যেই তাদের মূলে আওয়ামী লীগের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই কাউন্সিলের মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্ব থেকে সরে যাবেন এবং রাজনীতিতে তাদের অবসর গ্রহণ চুড়ান্ত হবে। তোফায়েল আহমেদ এবং আমির হোসেন আমু তো উপদেষ্টা মণ্ডলীতে আধা অবসর হয়ে আছেন। কিন্তু বেগম সাজেদা চৌধুরী এবং বেগম মতিয়া চৌধুরী, দুজনেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে আছেন। বেগম মতিয়া চৌধুরী শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। তার এবার নির্বাচন করারই কথা ছিল না। শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সংসদে উপনেতাও হয়েছেন। কিন্তু শরীরের সঙ্গে যুদ্ধ করেই তিনি সময় কাটাচ্ছেন। কাজেই নতুন আওয়ামী লীগের যে যাত্রাপথ, তাতে তরুণদের জয়োধ্বনি হবে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রে এ পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে প্রবীণদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণদের প্রেসিডিয়ামে আনা হবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগে যারা যুগ্ন সম্পাদক আছেন, তাদের মধ্য থেকে কাউকে প্রেসিডিয়ামে আনা হবে। এ দুজনকে উপদেষ্টা মণ্ডলীতে স্থানান্তর করা হবে। উপদেষ্টা মণ্ডলীতে স্থানান্তর করা হলে তারা এক ধরনের অবসরে চলে যাবেন, পরের নির্বাচনে যে তারা অংশগ্রহণ করবে না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। অর্থ্যাৎ এবারের কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে একটা অবসরের মিছিল হবে। শুধু এই হেভিওয়েট নেতারা নন, বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামে ছিলেন এমন অনেক সিনিয়র নেতাও এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে অবসরে যাবেন বলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহল থেকে ইঙ্গিত করছে। কাজেই অক্টোবরে এবার আওয়ামী লীগের যে কাউন্সিল সেই কাউন্সিলে অনেকে অবসর গ্রহণের জোয়ার হিসেবেও চিহ্নিত করছেন।