ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আ. লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে জিয়া যা করেছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ মে ২০১৯ বুধবার, ০৭:১৮ পিএম
আ. লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে জিয়া যা করেছিলেন

জিয়াউর রহমানের রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করে দেয়া। জিয়া চেয়েছিলেন ‘বাংলাদেশে যেন আওয়ামী লীগ নামে কোনো রাজনৈতিক দল না থাকে, বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে।‘ কিন্তু জিয়ার মৃত্যুর ৩৮ বছর পর আজ জিয়াউর রহমান এবং তার হাতে গড়া রাজনৈতিক দল বিএনপিরই নাম ঠিকানা মুছে যাবার উপক্রম হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে সবসময়ই বলার চেষ্টা করা হয় যে, জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডে জিয়ার কোনো ভূমিকা নেই। যদিও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আদালতে এটর্নী জেনারেল দেখিয়েছেন যে, জিয়ার নির্লিপ্ততা ছিল খুনীদের পক্ষে। সব জেনেশুনে চুপচাপ থাকা খুনীদেরই সহায়তা করা ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর জিয়া সেনাপ্রধান হন। এরপর ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থানের ধারায়, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখল করেন জিয়া। মূলত: ৭৫ এর ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৮১র ৩০মে পর্যন্ত ছিল জিয়ার রাজত্বকাল। (যদিও জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২১ এপ্রিল ১৯৭৭) এই পুরো সাড়ে পাঁচ বছরের শাসনকালে জিয়া আওয়ামী লীগের উপর চালিয়েছিলেন নির্মম স্টিম রোলার। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, জিয়া চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর নাম বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলতে। আসুন দেখা যাক, জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কি কি করেছিলেন;

১. ৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকে জিয়ার মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৮৬ জন নেতাকর্মীকে বিনা বিচারে গ্রেপ্তার করেছিলেন জিয়া (সূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট)

২. এই সাড়ে পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের ৩৩ হাজার ৬৫৪ জনকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। (সূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল)

৩. জিয়ার শাষনামলে আওয়ামী লীগের প্রায় ১৩ হাজার নেতাকর্মী পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়।

৪. জাতির পিতার স্মৃতি বিজড়িত ‘বঙ্গবন্ধু ভবন’সহ  আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ১৭৬ টি বাড়ি বাজেয়াপ্ত করে সরকারের করায়ত্বে নেয়া হয়।

৫. রাষ্ট্রীয় বেতার ও টেলিভিশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিষিদ্ধ করা হয়।

৬. সংবিধান থেকে জাতীয় চার মূল নীতিসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়।

৭. স্বাধীনতা বিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধীদের জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।

৮. জিয়ার শাসনামলে আওয়ামী লীগকে কোন সভা সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ এ সময় একরকম নিষিদ্ধ ছিলো।

৯. জিয়ার নির্দেশে সারাদেশে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে (তৎকালীন বাকশাল) তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

১০. আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং তাদের পরিবারের জন্য সরকারী চাকরি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

জিয়া তার মৃত্যুর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির শেষ সভায় ২৭ মে বলেছিলেন আগামী নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগকে দেখতে চাই না।‘ কিন্তু ইাতহাসের কী নিষ্ঠুর পরিনতি। তার মৃত্যুর ৩৮ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ আজ অপ্রতিরোধ্য জনপ্রিয় দল আর বিএনপি নিশ্চিহ্ন হবার উপক্রম। জিয়া আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে যা করেছিলেন ,তার কানাকড়িও কি এখন বিএনপির ক্ষেত্রে করা হয়?

বাংলা ইনসাইডার