ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনার ভেস্তে যাওয়া যত অবসর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০১৯ সোমবার, ০৮:০০ পিএম
শেখ হাসিনার ভেস্তে যাওয়া যত অবসর পরিকল্পনা

আটত্রিশ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই ৩৮ বছর কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, নানা ঝঞ্জাট, বিক্ষুদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাকে এই সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। আজকে যেমন তিনি দলের সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। তার কথাই দলের শেষ কথা। সেরকম পরিস্থিতি কিছুদিন আগেও ছিল না। একটা দলের ভিতরে এবং বাইরে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে। আওয়ামী লীগ সভাপতি তার রাজনীতির ৩৮ বছরের বিভিন্ন সময় দল ছেড়ে দেওয়া, রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া এবং অবসর গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু একটা পরিকল্পনাও তার কার্যকর হয়নি। আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে তার ভেস্তে যাওয়া যে উল্লেখযোগ্য অবসর পরিকল্পনা। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় ছিল একরকম নিশ্চিত। কিন্তু সেই নির্বাচনে সবাইকে অবাক করে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়। অবিশ্বাস্যভাবে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। বিএনপি-জামাত জোট হয়ে সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনের পর দলের ভিতর তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। দলের মধ্যে একটি অংশ দাবি করে যে, নির্বাচনের পরাজয়ের গ্লানি মাথায় নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির পদত্যাগ করা উচিত। সেই প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তখন। কিন্তু তৃনমূলের নেতাকর্মীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে তার সেই অবসর পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

২. ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন যে, ৫৯ বছর বয়সে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিবেন। কিন্তু পরে দলীয় নেতাকর্মীর আপত্তি এবং তীব্র প্রতিবাদের মুখে তার সেই উদ্যোগও ভেস্তে যায়। অবশ্য ওয়ান ইলেভেনের সময় যখন তাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং দলের মধ্য থেকে যখন সংস্কারপন্থীরা তাকে সভাপতির পদ তাকে ছাড়ার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে তখন তিনি বলেছিলেন যে, ৫৯ বছর বয়সে যে ঘোষণা তিনি দিয়েছিলেন তা তিনি প্রত্যাহার করেছেন।

৩. ওয়ান ইলেভেনের সময় যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে কারাগারে বন্দি করা হয়, সেই সময় তার বিরুদ্ধে যখন দলের একটা অংশ তাকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, সেই সময় তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা যদি না চায় তাহলে তিনি একদিনও রাজনীতি করতে চান না। এই সময় তিনি বলেছিলেন, নেতাকর্মীরা না চাইলে তিনি অবসরে চলে যাবেন। কিন্তু এই সময় তৃনমূলের প্রবল আপত্তির মুখে তার অবসরের ঘোষণা ভেস্তে যায়।

সর্বশেষ তিনি অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন, এ বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচিত হওয়ার পর। তবে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা এবার দেননি। তিনি বলেছেন, আর তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব নিবেন না। প্রধানমন্ত্রীত্ব না নিলেই যে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন এমনটা মনে করার কারণ নেই। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফোরামের সভায় তিনি বলছেন, ৩৮ বছর ধরে আমি একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছি। এটা একটু বেশিই। আমি এখন সরে যেতে চাই। তবে তিনি এটাও নেতাকর্মীদের বলেছেন, তিনি সরে গেলেও দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকবে। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবেই তিনি অবসর জীবন যাপন করবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের তৃনমূলের কেউই তার অবসর যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে রাজি নন। শেখ হাসিনাকে তাকে প্রচণ্ড পছন্দ করেন, ভালোবাসেন কিন্তু তারপরও এই একটি বিষয়ে শেখ হাসিনার মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী লীগের তৃনমূল। তারা মনে করে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগ অচল। এজন্য তার অবসর পরিকল্পনাগুলো বারবার ভেস্তে যায়। এবারও তার অবসর পরিকল্পনা নিয়ে আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিল অধিবেশনে বড় রকমের একটা শো ডাউন করবে তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। এটাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ