ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

শেখ হাসিনা যে কাজগুলো কখনো করেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৭:৪৮ পিএম
শেখ হাসিনা যে কাজগুলো কখনো করেন না

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, ১১ জুন হলো শেখ হাসিনার পুনরুথ্থান দিবস। এইদিন কারা মুক্তির মাধ্যমে রাজনীতিতে তার পুনর্জন্ম হয়েছিল। বাংলাদেশ পেয়েছে এক নতুন শেখ হাসিনাকে। যিনি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার রাজনীতিতে পুনর্জন্ম শুধু ১১ জুন না। ২০০৪ সালের ১১ আগষ্টকেও মনে করা হয় তার রাজনীতির পুনর্জন্ম হয়েছে। কিন্তু সেদিন ছিল তাকে হত্যার প্রচেষ্টা। আর ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনে যে মাইনাস ফর্মূলা ছিল, তা ছিল তাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করার প্রচেষ্টা। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় যেমন তাকে শারীরিকভাবে হত্যা করা সম্ভব হয়নি। ঠিক তেমনি ওয়ান ইলেভেনে তাকে কারাগারে নিয়েও রাজনৈতিকভাবে হত্যা চেষ্টা সফল হয়নি। কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা বারবার ব্যর্থ হয়? কেন তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে আরো উজ্জল ভাস্কর হতে পারে? কারণ অনুসন্ধান করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন যে, শেখ হাসিনা ৫ টি কাজ কখনো করেন না। এ কারণেই রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষরা কখনো পরাজিত করতে পারে না। বারবার তিনি বিজয়ীর বেশেই ফিরে আসেন। ১১ জুন হলো রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনার আরেজকটি বিজয় দিবস। আসুন দেখা যাক কোন কাজগুলো সে কখনোই করেন না।

আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি: শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং তিনি চারবারের প্রধানমন্ত্রী। কখনোই তিনি কোন আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি। এমনকি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেটা করে, মনোনয়ন বাণিজ্য, পদ পদবি বিতরণ করার মতো কর্মে একটা অর্থ দলীয় সভাপতির ফাণ্ডে জমা পরে। যেটা অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মধ্যে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার দীর্ঘ ৩৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনোই নিজেকে কোন আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেননি। ওয়ান ইলেভেনের সময় সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকার যখন তাকে যেকোন মূল্যে অপরাধী বানানোর প্রানন্ত চেষ্টা করেছিল। তখন তার দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছিল, তখন তারা নিজেরাও অবাক হয়েছে। কারাগারে যখন আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে বিগ্রেডিয়ার আমিন এবং ব্রিগ্রেডিয়ার বারীরা যখন দেখা করেছিলেন, তখন তারা এই কথাটি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন যে, আপনার আর্থিক ব্যাপারে আপনি সম্পূর্ণ ক্লিন। এজন্যই শেখ হাসিনা বারবার বিপদের মুখ থেকে ফিরে আসতে পারেন। এজন্যই তিনি তার রাজনৈতিক ব্যাপারে অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং স্পষ্টবাদী হতে পেরেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

মিথ্যে আশ্বাস বা প্রলোভন: রাজনীতি মানেই হলো মিথ্যে আশ্বাস বা প্রলোভন দিয়ে মানুষকে ঠকানো-এরকম একটা ধারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে বদ্ধমূল রয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা হলেন তার উজ্জল ব্যতিক্রম। শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক জীবনে কাউকে মিথ্যে আশ্বাস দেননি। কাউকে প্রলোভনও দেননি তিনি। মিথ্যে আশ্বাস যেমন, একজন কেউ মনোনয়ন চাইতে গেল, তাকে মিথ্যে আশ্বাস দেওয়া হলো ঠিক আছে মনোনয়ন  দেওয়া হবে। এই কাজটি করেলে তোমাকে এটা দেওয়া হবে। এ ধরনের প্রলোভন বা মিথ্যে আশ্বাস শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক জীবনে কখনো দেননি। কেউ মনোনয়ন পেতে চাইলে শেখ হাসিনা হয়তো তাকে বলেন, ঠিক আছে দেখা যাবে কাজ করো। কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে মনোনয়ন দেন না বা কোন একটি পদ পদবির আশ্বাস দিয়ে তাকে দেন না। এরকম ঘটনা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে নেই। এটা তার রাজনৈতিক অনুগামী প্রত্যেকেই স্বীকার করেন।

আদর্শের ব্যাপারে ছাড় দেন না: শেখ হাসিনা কখনো আদর্শের ব্যাপারে কখনো তিনি ছাড় দেন না। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে যখন দেশে ফিরেছেন, তখন থেকেই জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত হিসেবে বলেছেন। বিএনপিকে তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের দোসর বলেছেন। সেই সময় থেকেই তিনি পঁচাত্তরের পনোরো আগস্টের জন্য যুদ্ধাপরাধী একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের চিহ্নিত করেছেন। এগুলো তখন ছিল অকল্পনীয়। অনেকেই তখন বলতেন, কিছুটা আপস না করলে রাজনীতিতে তিনি টিকে থাকতে পারবেন না। কিন্তু তাদেরকে ভ্রান্ত প্রমান করে আদর্শের প্রশ্নে এতটুকু ছাড় না দিয়ে শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের অবিসংবেদিত নেতা। এই আজীবন ছাড় না দেওয়াটাই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে একটি বড় ইতিবাচক দিক বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

দেশের প্রশ্নে তিনি কখনো আপোস করেন না: দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার উদাহরণ এখন তৃতীয় বিশ্বে হরহামেশাই দেখা যায়। যেকোন মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে হবে। এমনকি দেশের স্বার্থ যদি জলাঞ্জলি দিতে হয় তাতেও আপত্তি নেই। ২০০১ সালে এভাবেই বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা এটুকু আপোস করতে রাজি নন। গ্যাস বিক্রী করে তিনি দেশের স্বার্থ বিকিয়ে তিনি ক্ষমতায় থাকতে রাজি হননি। এটি তার তার জন্য আরেকটি ইতিবাচক দিক।

উপকারীদের তিনি কখনো ভুলে যান না: শেখ হাসিনার জন্য সামান্য যারা উপকার করেন তিনি তাদের সবসময় মনে রাখেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তিনি কাপর্ণ্য করেন না। কেউ একচুল করলে তার জন্য নিজের সবকিছু উজাড় করে দিতেও শেখ হাসিনা কার্পণ্য করেন না।

এগুলোই শেখ হাসিনার বৈশিষ্ঠ্য। এটা শুধু শেখ হাসিনার নয়। এটা বঙ্গবন্ধু পরিবারের বৈশিষ্ট্য। যেজন্যই শেখ হাসিনার জন্য তৃনমূলের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে এতটুকু কার্পণ্য করেন না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা যে অমরত্ব পেয়েছেন, তার জন্য এই ৫ টি কারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।