ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যে কাজগুলো খালেদা কখনো করেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৯:০০ পিএম
যে কাজগুলো খালেদা কখনো করেন না

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১১ জুনকে বলা হয় একটা মাইলফলক দিন। কারণ এইদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই নেত্রীর বিপরীত যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপরে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকেন বেগম খালেদা জিয়া।

১১ জুনের পটভূমিতেই ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার বিপক্ষে মানুষ গণ রায় দেয়। যেই রায়ের ফল এখনো বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি ভোগ করছে। শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া, দুজনেরই আজকের এই অবস্থানের পেছনে ওয়ান ইলেভেন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার আজকের এই পরিনতি কেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া কতগুলো কাজ করেন না। সেই কাজগুলো না করার জন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে আজকের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে বাংলা ইনসাইডার এরকম ৫ টি কাজ বের করেছেন, যে কাজগুলো বেগম খালেদা জিয়া কখনোই তার রাজনৈতিক জীবনে করেননি। এর মধ্যে;

নিজের এবং তার পুত্র ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেননি: বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে তার সম্বন্ধে কোন সমালোচনা। তার ভুল সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোন অভিযোগ এবং তার পুত্রদের ও আত্মীয়স্বজনদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ কখনোই আমলে নেননি। বরং এ সমস্ত অভিযোগ যারা উত্থাপন করেছেন, তাদেরকে তিনি রাজনীতি বা কর্মক্ষেত্র থেকে চিরতরে বিতাড়িত করেছেন। এমনকি তার একান্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত তার একান্ত সচিব ও সচিব নুরুল ইসলামকে তিনি চাকরিচ্যুত করেছিলেন স্রেফ তারেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উথ্থাপন করার জন্য। বেগম খালেদা জিয়া কখনোই নিজেদের সমালোচনার ব্যাপারে আপোস করেন না।

তৃনমূলের কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের সাক্ষাৎ: বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে কখনোই তৃনমূলকে গুরুত্ব দেননি। তৃনমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের উল্লেখ করার মতো কোন ঘটনা চোখে পড়েনি। তাদের সঙ্গে সৌজন্যতা বা ভালো ব্যবহার করা বা আপ্যায়ন করা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মধ্যে কেউ কখনো লক্ষ্য করেনি। তৃনমূলের কাছে তিনি অপ্সরী, দেবী হিসেবেই থাকতে চেয়েছিলেন। তৃনমূলের সঙ্গে এই বিচ্ছিন্নতাই তার আজকের পরিনতির জন্য অনেকাংশে দায়ী বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

নিয়ম করে ফাইল দেখা: নিয়ম করে ফাইল দেখা, পত্রিকা পড়া বা যেকোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ পড়ার অভ্যাসটি বেগম খালেদা জিয়ার একদমই কখনো ছিলোনা। এই কাজটি তিনি কখনোই করতেন না। বেগম খালেদা জিয়ার অধিকাংশ ফাইল নিস্পত্তি করতেন তার একান্ত সচিব বা সচিব অথবা মুখ্য সচিব। বেগম খালেদা জিয়া শুধু স্বাক্ষর করতেন। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন এমন একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি ফাইল পড়তেনও না। ফাইল না পড়ার কারণেই একাধিক মামলার মধ্যে ফেঁসে গেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

যেকোন বিষয়ে নেতাদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলা: বেগম খালেদা জিয়া খোলামেলা আলোচনা তার রাজনৈতিক জীবনে কখনোই করেননি। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক বা মন্ত্রিসভার মতো শীর্ষ বৈঠকে তিনি কথা কম বলেছেন এবং শেষে একটা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন। তিনি কখনোই অন্যের মতামত গ্রহণ করা বা দলের মধ্যে যেকোন বিষয়কে উম্মুক্ত লালন করার রীতি গ্রহণ করেননি। যে কারণে তার রাজনৈতিক জীবনে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

পরিবারের উপর দলকে স্থান দেওয়া: বেগম খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে কখনোই দলের চেয়ে দেশকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি। বরং তিনি সবসময় মনে করতেন যে, সবার আগে তার পরিবার, তারপর দল, তারপর দেশ। যে কারণে দেশের স্বার্থবিরোধী অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা গেছে যখন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। এছাড়া তিনি পরিবারের স্বার্থ দেখতে গিয়ে দলের স্বার্থকেও জলাঞ্জলি দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এসব কারণেই বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করার পরও বেগম খালেদা জিয়াকে আজকের পরিনতি বরণ করতে হয়েছে।