ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপির গোপন তথ্য ফাঁস করে কারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০১৯ রবিবার, ০৬:৫৯ পিএম
বিএনপির গোপন তথ্য ফাঁস করে কারা?

দীর্ঘ ৫ মাস পর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গোপনীয়তা রক্ষা এবং দলের তথ্য ফাঁসের প্রসঙ্গটি মুখ্য হয়ে উঠেছিল। গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক দুটি ভাগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমভাগে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের আইনজীবিদের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে তারেক জিয়া লন্ডন থেকে স্কাইপিতে যুক্ত হয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দকে দল পরিচালনার কৌশল সম্বন্ধে নির্দেশনা দেন। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, দুটি পর্যায়ের বৈঠকেই বিএনপির গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। বিএনপির বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা দলের গোপন সিদ্ধান্তগুলো সরকারের কাছে ফাঁস করে দেয়। সরকার আগে থেকেই বিএনপির কৌশল সম্বন্ধে জানে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আইনজীবিদের সঙ্গে বৈঠকের প্রথমেই বলেন যে, আমরা এখানে যা আলোচনা করবো, সব তথ্য মিটিং শেষ হওয়ার আগেই সরকারের কাছে চলে যাবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আমরা যে কৌশল নিবো, সেই কৌশলের বিপরীতে সরকার আগে থেকে পদক্ষেপ নিবে। তিনি এ প্রসঙ্গে উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমরা যখন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য হাইকোর্টে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ঠিক তার আগে সেই সিদ্ধান্তের কথা সরকারের কাছে চলে যায়। সরকার সঙ্গে সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে ৫ সদসেদ্যর একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। তিনি আরো বলেন, আমরা যখন বেগম খালেদা জিয়ার একের পর এক জামিনের জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলাম, সেই তথ্যও সরকারের কাছে ফাঁস হয়ে যায়। সরকার প্রাথমিকভাবে আরো কয়েকটি মামলা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া যেন জামিনে মুক্ত না হতে পারেন সেই পথ চিরতরে বন্ধ করে দেয়।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই বক্তব্যের পর বৈঠকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কয়েকজন নেতা জানতে চান যে, কারা সরকারের এজেন্ট? কারা আওয়ামী লীগের কাছে তথ্য ফাঁস করে? কিন্তু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এখানে কারো নাম প্রকাশ করেননি। একইভাবে যখন তারেক জিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতা হয়, তারেক জিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতাতেও বিএনপির অন্য একজননেতা মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন যে, এই সমস্ত আলাপের বিষয়বস্তুগুলো কোন কিছুই গোপন থাকে না। সবকিছু সরকারের কাছে চলে যায়। বিএনপিরই কিছু লোক এটা ফাঁস করে দেয়। যার ফলে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সমস্যা হয়। মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, আন্দোলনের ব্যাপারে কোন খসড়া তৈরী করলেই তা সরকারের কাছে চলে যায়। যেকোন কর্মসূচী নেওয়া বা খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের মতো যাই কিছু করার প্ল্যান করি না কেন তার আগে দলের মধ্যে যারা সরকারের এজেন্ট, তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তারেক জিয়া জিজ্ঞাস করেন তাদের নাম কি? কিন্তু মির্জা আব্বাস তাদের নাম বলেননি। শুধু বলেছেন যে, তাঁরা এত শক্তিশালী যে তাঁদের নাম বললে দলের মধ্যেও বিপদে পরব, সরকারের কাছেও সমস্যায় পরব। কিন্তু বিএনপির একাধিক সূত্রগুলো বলছে যে, আজেন্ট বিতর্কেই বিএনপি এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। কারা সরকারের এজেন্ট, কারা সরকারের কাছে বিএনপির সব তথ্য ফাঁস করে দেন এ নিয়ে বিএনপিতে অভিযোগ চলছে। বিএনপির অন্যতম নেতা ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খান, আমান উল্লাহ্‌ আমান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে এবং এরা বিএনপি যেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিএনপি যেন কোনোভাবেই দাঁড়াতে না পারে সেজন্য কাজ করছে।

অন্যদিকে কারামুক্ত হয়ে নিষ্ক্রিয় থাকা বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং বিএনপি নেতা শিমুল বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন যে,  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হলেন সরকারের প্রধান এজেন্ট এবং তিনি বিএনপির সব তথ্য সরকারকে ফাঁস করে দেন। তার কারণেই বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী কারাগারে আছেন বলে শিমুল বিশ্বাস বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, যারাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরোধিতা করে তাকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার দিয়ে ধরিয়ে দেন।

বিএনপির আরেক নেতা হাবিবুন নবী খান সোহেলের ঘনিষ্ঠরা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, লেফট্যানেন্ট জেনারেল মাহাবুবুর রহমান, আমান উল্লাহ্‌ আমান এরা সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং সরকারের কাছে বিএনপির গোপনতথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে।

কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘনিষ্ঠরা বলেছেন, যারা এধরণের অভিযোগ করে তাঁরাই আসলে সরকারের এজেন্ট। বিএনপিকে বিভক্ত করার কৌশলে তাঁরা নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর কাজ করছে। কে এজেন্ট বা কে এজেন্ট নয় তারচেয়েও বড় কথা এই বিভক্তি বিএনপিকে কোনো আন্দোলন কর্মসূচির দিকে এগিয়ে নিতে দিচ্ছে না। গতকালকের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি বা আন্দোলন কোনো ব্যাপারেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়নি। এজেন্ট আতঙ্কে বিএনপির কোনো নেতাই এখন মুখ খুলতে রাজী নয়।

বাংলা ইনসাইডার