ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

যে কারণে মেয়রদের প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন না প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার, ০৩:০০ পিএম
যে কারণে মেয়রদের প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন না প্রধানমন্ত্রী

বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তার দলের মেয়র, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সরকারী কর্মকর্তাদেরকে সমর্থন করেছেন। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই মেয়রসহ বেশ কিছু সরকারী কর্মকর্তার কাজে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঘনিষ্ঠজনদের কাছে। প্রকাশ্যে না বললেও প্রধানমন্ত্রী তার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ ব্যাপারে উষ্মা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেই বলেছেন যে, আমি দেশে না থাকলেই কোন কিছু ঠিকমতো চলে না। উলট পালট হয়ে যায় সবকিছু। ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রথম থেকে সচেতনতা সৃষ্টি কেন করা হয়নি, আগে থেকে কেন সিটি কর্পোরেশনগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সিটি কর্পোরেশনের মেয়ররা ছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তারা কতটকু কি দায়িত্ব পালন করেছেন এ ব্যাপারগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই তিনি মেয়র, মন্ত্রী বা সরকারী কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন না।

সরকারী ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে যে, প্রথমত; বাংলাদেশের যে সংস্কৃতি তাতে প্রধানমন্ত্রী যদি সরাসরি তাদের সমালোচনা করেন, তাদেরকে ডিফেন্ড না করেন, সেক্ষেত্রে তাদের আর দায়িত্ব পালন করার কোন যৌক্তিকতাই থাকে না। দ্বিতীয়ত; প্রধানমন্ত্রী যদি প্রকাশ্যে তাদের সমালোচনা করেন, সেই ব্যর্থতার দায়- দায়িত্ব সরকারের ওপরই পৌঁছায়। তখন সরকার বিতর্কিত ও সমালোচিত হয়। তৃতীয়ত; মেয়র-মন্ত্রী- এমপিদের ব্যর্থতা আসলে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেই জনগনের সামনে উপস্থাপিত হবে। এরফলে সরকারের ওপর একটা বাড়তি চাপ তৈরী হবে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে দুই মেয়রের সমালোচনা করছেন না।

তবে দুই মেয়রকে আজকালের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী গণভবনে ডাকবেন এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় কর্মকৌশল নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, দুই মেয়রের জন্য এটাই শেষ সুযোগ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আগামী কিছুদিনের মধ্যেই তারা ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পারেন। বিশেষ করে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল এবং মশা নিধনে যদি সফল হতে পারেন, তাহলেই হয়তো সামনের নির্বাচনে তাদের নিয়ে আবার চিন্তাভাবনা করা হবে, না হলে তারা যে আগামী মেয়র নির্বাচনে মনোনিত হচ্ছেন না তা মোটামুটি নিশ্চিত। শেষ সুযোগটা দুই মেয়র কিভাবে নেন সেটাই দেখার বিষয়।

বাংলা ইনসাইডার