ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

সাত মাসে ৭ সমালোচনায় বিদ্ধ সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০১৯ শুক্রবার, ০৭:০১ পিএম
সাত মাসে ৭ সমালোচনায় বিদ্ধ সরকার

টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার টানা ৭ মাস পূর্ণ করেছে। এই ৭ মাসে আওয়ামী লীগ সরকারকে উদ্দামহীন এবং সমন্বয়হীন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার পুরোপুরিভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মূলত তার সিদ্ধান্তের দিকেই পুরো সরকার তাকিয়ে থাকেন। এই ৭ মাসে সরকারের কিছু সাফল্য আছে, কিছু ব্যর্থতাও আছে। তবে ৭টি ক্ষেত্রে সমালোচনায় সরকার অন্যান্যবারের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে নেই বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। যে ৭টি সমালোচনায় সরকার বিদ্ধ হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে;

১. ডেঙ্গু সমস্যা: গত জুন মাস থেকেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি আস্তে আস্তে খারাপ হতে থাকে। আগস্ট মাসে এসে তা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় তারা সম্ভব্য সবকিছু করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ঢাকাবাসী দুই মেয়রের ওপর প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করছে। এছাড়াও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেনি বলেই সাধারন মানুষ মনে করছে।

২. গুজব সন্ত্রাস: টানা ৭ মাসের সরকারে একটি সমস্যা হিসেবে দেখা গেছে গুজব সন্ত্রাস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক নানা রকম গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এই গুজব সন্ত্রাস মোকাবিলা করার জন্য সরকার নানা রকম কথা বললেও বাস্তব ক্ষেত্রে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। গুজব সন্ত্রাস সরকারের অন্যতম একটি ব্যর্থতা বেলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।

৩. মন্ত্রীদের কাজের সমন্বয়হীনতা: টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে কাজের সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি নিজেই মন্ত্রীদের সমালোচনা করে বলেছেন, ফটোসেশন করবেন না। দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে এবং এটি একটি সরকারের বড় সমালোচনার দিক বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

৪. কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতা: টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীরা নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নানা রকম কথা বলছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কথা এবং কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। হাতিরঝিলের বিষফোড়া হিসেবে খ্যাত বিজিএমই ভবন ভাঙ্গার কথা বলা হয়েছিল আরো ৬ মাস আগে। কিন্তু বিজিএমই ভবন এখনো বহাল তবিয়তে দাড়িয়ে আছে। বিজিএমই ভবন ভাঙ্গার জন্য দিন তারিখ দেওয়া হয়েছে কয়েকবার, কিন্তু কোন তারিখেই বিজিএমই ভাঙ্গার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পরও যে সমস্ত প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল তা পূরণ করা হয়নি। মন্ত্রীদের লাগামহীন কথাবার্তা এবং কথা ও কাজের সমন্বয়হীনতায় মানুষের মধ্যে বিরক্তী তৈরী হয়েছে।

৫. দুর্নীতি: টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি একটি বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে রুপপুর পারমানবিক প্রকল্পে বালিশ কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তার বাসায় লক্ষ লক্ষ টাকা প্রাপ্তি, পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক দুর্নীতি দমন কমিশনারকে ঘুষ প্রদানসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ জনগনের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সরকার এ ব্যাপারে কোন দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পেরেছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করে না।

৬. সামাজিক অস্থিরতা: এই সময় সামাজিক অস্থিরতা বেড়েছে। প্রকাশ্যে রিফাত হত্যাকাণ্ড, নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ধর্ষনসহ বিভিন্ন ঘটনার সামাজিক উদ্বেগ উৎকন্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সমস্ত সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি বলেই সাধারণ মানুষ মনে করেন।

৭. গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি: সরকার তৃতীয় মেয়াদের এসে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিটাকে সাধারণ মানুষ যৌক্তিক বলে মনে করছে না।

এই সমস্ত সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমশই উদ্বেগ উৎকন্ঠা এবং অসন্তোষ বাড়ছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ