ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনার কৌশলে হতবাক বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ পিএম
শেখ হাসিনার কৌশলে হতবাক বিএনপি

সরকারের বিরুদ্ধে নানা ইস্যুতেই জনরোষ তৈরি হচ্ছিল। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের নানা রকম সমস্যা, প্রিয়া সাহার ঘটনা ইত্যাদি নানা ইস্যুতে সরকার যখন কোণঠাসা তখন বিএনপি দুটি স্থায়ী কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে নতুন করে আন্দোলন শুরু করার পরিকল্পনা এটেছিল। আর সেই আন্দোলন শুরু করার জন্য দু’সপ্তাহ আগে বিএনপি দাতা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিল। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগও সেখানে পেশ করা হয়েছিল। 

সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্যই বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে আন্দোলনের জন্য বিএনপি কিছু কর্মসূচী গ্রহণ করেছিল। একই সাথে সাংঠনিকভাবে নিজেদেরকে সংগঠিত করার জন্য ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠন এবং বিএনপির কাউন্সিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। অর্থাৎ বিএনপি নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিল এবং জনগণের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। সেসময়ই দাবার ছক উল্টে দিলেন শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে অপসারণ, যুবলীগের নেতাকে গ্রেপ্তার, ক্যাসিনো বন্ধের জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সাড়াশি অভিযান এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে শুদ্ধি অভিযানে কেবল আওয়ামী লীগের মধ্যেই অস্বস্তি তৈরি হয়নি বিএনপিতেও টালমাটাল অবস্থা চলছে। সাধারণ জনগণের দৃষ্টি এখন বিএনপির আন্দোলনের দিকে নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়েও কারও কোনো মাথাব্যাথা নেই। এমনকি ছাত্রদলের কাউন্সিলের খবরও মানুষের নজরে আসেনি। সবকিছু ছাপিয়ে শেখ হাসিনার সাহসিকতা এবং আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানের দিকে মানুষের দৃষ্টি। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তার হারানো জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে যেমন অনেকটাই সফল হয়েছে, তেমনি বিরোধীদলের পরিকল্পনাকে তছনছও করে দিয়েছে।

শেখ হাসিনার কৌশলে হতবাক হয়ে গেছে বিএনপি। দলটির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছেন। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, আমরা সর্বাধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ভোট করে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচন করলাম। অথচ এই খবরটি আড়ালে চলে গেল ক্যাসিনো অভিযানের খবরে।

বিএনপির ওই নেতা আর বলেন, আমরা যখন নিজেদেরকে সংগঠিত করছি, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছি এবং কিছু কর্মসূচী দিয়েছি, ঠিক তখনই শেখ হাসিনার এই কৌশল আমাদেরকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। এর ফলে জনগণ আমাদের দিক থেকে আরেকবার মুখ ফিরিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগের ভিতরে কী হচ্ছে, শেখ হাসিনা কী করছেন তা নিয়েই চর্চা শুরু করেছে। দেশের আলোচনার কেন্দ্রে এখন আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযান। কাজেই খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনা এখন নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, শেখ হাসিনার কৌশলের কাছে বার বার পরাস্ত হচ্ছে বিএনপি। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর আমরা যখন আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং আস্তে আস্তে আন্দোলন শুরু করছি ঠিক তখনই শেখ হাসিনা বোমা ফাটালেন। তিনি আওয়ামী লীগে বোমা ফাটালেন এবং সারাদেশের জনগণ এখন তাকে বাহবা দিচ্ছে। এর ফলে এখন আন্দোলন করলে তার ফল পাওয়া যাবে না। কারণ জনগণের দৃষ্টি এখন আওয়ামী লীগের দিকে।

বিএনপির আরেকজন প্রভাবশালী নেতা বলেছেন, অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো মিটিয়ে আমরা যখন সংগঠিত হচ্ছি, যখন আওয়ামী লীগের ওপর থেকে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে, তখনই শেখ হাসিনা এই আইওয়াশটি দিলেন। তিনি বলেন যে, আসলে এর মাধ্যমে কিছুই হবে না। এটা হলো জনগণকে বিভ্রান্ত করার কৌশল। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ করে দেওয়া এবং জনগণের আস্থা অর্জন করা। তিনি মনে করেন যে, সরকারের যে নাজুক অবস্থা হয়েছিল, এ ঘটনার মাধ্যমে সরকার আগের অবস্থার থেকে নিজেদের উন্নততর অবস্থায় নিয়ে যেতে পারলো।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, একজন নেতার কাছে জনগণ প্রত্যাশা করে যে তিনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। শেখ হাসিনা সেই কাজটি করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। এর মাধ্যমে তিনি জনগণের আস্থা পুনর্বার অর্জন করলেন। একই সঙ্গে বিরোধীদলের সিদ্ধান্তহীনতারও জবাব দিলেন তিনি।

বিএনপির অন্য একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন আমরা যদি এরকম কৌশল অবলম্বন করতে পারতাম তাহলে জনগণের আস্থা আমরা হারাতাম না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগের সভাপতির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। সাধারণ মানুষ এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছে এবং সারাদেশেই ইতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে এটা বিএনপির জন্যে নেতিবাচক। জনগণ বিএনপির আন্দোলনে আপাতত তেমন একটা সাড়া দেবে না বলে আভাস পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে বিএনপির আন্দোলন আরও একবার পিছিয়ে গেল বলেই বিএনপির নেতারা মনে করছেন।

 

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি