ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দুর্নীতির ফিরিস্তি দেখে হতবাক প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৬:০০ পিএম
দুর্নীতির ফিরিস্তি দেখে হতবাক প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার বিপুল বিত্তবৈভবের কাহিনী। দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধতন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার দুর্নীতি, অপকর্মের বিবরণ উপস্থাপন করেছেন। শুধু বিবরণই নয় এসমস্ত কিছুর ভিত্তিতে তথ্য প্রমাণও উপস্থাপন করেছেন। এসব দুর্নীতির ফিরিস্তি দেখে প্রধানমন্ত্রী নিজেই অবাক হয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেছেন যে, কত টাকা লাগে? একজন মানুষের সুস্থভাবে বাঁচতে, খেয়ে-পরে থাকতে এত টাকা লাগে? এগুলো তো জনগণের লুণ্ঠিত টাকা!

মঙ্গলবার রাতের ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এটাও বলেছেন, জাতির পিতার আদর্শ থেকে যারা নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, যারা রাজনীতিকে টাকা পয়সা এবং বিত্ত বৈভবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তাঁদেরকে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে এবং এ ব্যাপারে কোনরকম মার্জনা করা হবে না। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছেন যে, যে তথ্য প্রমাণগুলো তারা সংগ্রহ করেছেন এর ভেতর আরও অনুসন্ধান করে তারপরই পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে তাঁদেরকে যা যা করা দরকার তা করতে বলেছেন।

জানা গেছে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আওয়ামী লীগের দুজন প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাতজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং ৩৭ জন এমপিসহ প্রায় ১৭৫ জন বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের তথ্যাদি পেয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন গোয়েন্দা অনুসন্ধানে স্বীকার করেছেন যে তারা অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন। আওয়ামী লীগের যে দুজন প্রেসিডিয়ামের সদস্যের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের বিবরণ পাওয়া গেছে তাদের একজন ২০১৪ সালের মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন, আরেকজন ১৯৯৬ সালে মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে উঠেছে অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগ। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, কয়েকজন নেতাই দুর্নীতিবাজ। তারা লাগাহীন দুর্নীতি করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের অশিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতাই স্বচ্ছ এবং তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো অভিযোগ নেই।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, যে ১৭৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সেই ১৭৫ জনের মধ্যে ৯০ জনই বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন, বিদেশে বাড়ি ব্যবসা বা অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। এদের মধ্যে ৫৫ জন বিদেশী নাগরিকত্ব বা সেকেন্ড হোম, ব্যবসায়ী ভিসা বা অন্যকোন সুবিধা গ্রহণ করেছেন। তাদের পরিবার পরিজন ( পুত্র, কন্যা, স্ত্রী) বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরেই থাকেন।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে যে, এসমস্ত ব্যবসা বাণিজ্য দেখভাল করার জন্য তারা দলীয় কিছু ক্যাডার ব্যবহার করেছেন এবং তাঁরাও ফুলে ফেঁপে উঠেছে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানের প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে যে, কোন কোন নেতা এক হাজার কোটি টাকা থেকে একশ কোটি টাকা পর্যন্ত মালিক হয়েছেন। সেইসবের উৎস সম্পর্কে কোন সঠিক বিবরন নেই, অর্থাৎ অর্থগুলো কোন বৈধ পথে উপার্জন করেননি।

প্রধানমন্ত্রীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা এটাও জানিয়েছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাদের প্রত্যেকেরই পৃষ্ঠপোষক বা গডফাদার রয়েছে। যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা লালিত পালিত হয়েছেন, এরকম পৃষপোষকরা অত্যন্ত প্রভাবশালী তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ বলেছেন যে, যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, যিনিই অন্যায় করবেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে, তারা ঢালাওভাবে খুব দ্রুত হুলস্থুল করে অভিযান পরিচালনা করতে চায় না। বরং তারা প্রর্যায়ক্রমে আস্তে আস্তে ধীরে সুস্থে অভিযান পরিচালনা করতে চায় যাতে এটা নিয়ে জনমনে কোন আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়। প্রধানমন্ত্রী ওয়ান ইলেভেনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন যে, ঢালাওভাবে অভিযান পরিচালনা করলে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা বোঝা যাবে আরও পরে।

বাংলা ইনসাইডার/এসআর