ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা নতুন খেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৮:৫৯ পিএম
ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা নতুন খেলায়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ওয়ান ইলেভেন যেন না আসে সেজন্যই তিনি শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ওয়ান ইলেভেনের দরকার নাই, দুর্নীতি আমি বন্ধ করবো। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে নানারকম গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে, নানারকম কথাবার্তা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রী গত ১৪ সেপ্টেম্বর দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শুদ্ধি অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেন। ওই বৈঠকে তিনি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক শোভন ও রাব্বানীকে অব্যাহতি দেন এবং সেদিনই তিনি বলেন যে যুবলীগে অনেক মনস্টার তৈরি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৮ই সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিভিন্ন অভিযান শুরু করেছে। এসব অভিযানে ক্যাসিনো বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত, টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত একাধিক দুর্বৃত্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষ মনে করছে এটি দুর্নীতির বন্ধের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী একটি উদ্যোগ। তিনি যে দুর্নীতির ব্যাপারে শূন্যসহিষ্ণু নীতি গ্রহণ করেছে সেটি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ করছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযানের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের সমর্থন থাকলেও শুদ্ধি অভিযানকে ঘিরে রাজনীতিকে কলুষিত করা এবং রাজনীতির অঙ্গনের মানুষগুলোর বিরুদ্ধে কুৎসা ছড়ানোর এক প্রকল্পে নেমেছে একটি গোষ্ঠী। লক্ষণীয় যে, বিরাজনীতিকরণের যে ধারণা  থেকে ওয়ান ইলেভেন তৈরি হয়েছিল সেই ধারণার মতাদর্শের ধারক বাহকরা এখন রাজনীতিকে কলুষিত করা, রাজনীতি যে খারাপ সেটি প্রমাণের চেষ্টা করছে। দেশের প্রধান জাতীয় দুটি দৈনিক এখন প্রতিনিয়ত ব্যক্তিগত চরিত্রহননে নেমেছে। চরিত্রহরণের মূল লক্ষ্য হলো রাজনীতিবিদরা। তারা একের পর এক রাজণীতিবিদ বিশেষ করে যুবলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের অতীত, বর্তমান নিয়ে নানারকম কল্পকাহিনী মিশ্রিত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যুবলীগের একজন দপ্তর সম্পাদক তিনি দপ্তরী ছিলেন। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে যে, কেউ যদি দপ্তরি বা পিওন থাকেন তাহলে কি তিনি দপ্তর সম্পাদক হতে পারবেন না? বা তাঁর কি রাজনীতি করার অধিকার নেই? নরেন্দ্র মোদি যদি চা বিক্রেতা থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, জিমি কার্টার যদি বাদাম বিক্রেতা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন  তাহলে একজন শিক্ষিত মানুষ যিনি বেকারত্ব ঘুচাতে দপ্তরি হয়েছিলেন, তিনি কি দপ্তর সম্পাদক হতে পারবেন না?

শুধু তাই নয়, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির চরিত্র হরণ করা হচ্ছে। সেখানে দুর্নীতির বিবরণ সামান্য। লক্ষ্য হলো শুধু চরিত্রহরণ। এর মাধ্যমে  যে কাজটি করা হচ্ছে সেটি হলো রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণাকে উস্কে দেওয়া। এই কাজটি করার মাধ্যমে ওয়ান ইলেভেনের যে ব্লু প্রিন্ট সেই ব্লু প্রিন্ট বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটা বিরাজনীতিকরণের জন্য নয়, বরং রাজনীতিতে ৭৫ এর পর যে দুর্বত্তায়ন শুরু হয়েছে, রাজনীতিতে যে ক্যাডারচর্চা, সন্ত্রাস, কালো টাকার ঝনঝনানি শুরু হয়েছে- সেখান থেকে তিনি রাজনীতিকে মুক্তি দিতে চান। আর এজন্যই তিনি এই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন।

রাজনীতিই যে একটি সঠিক পথ এবং রাজনীতিই যে একটি দেশের চালিকাশক্তি, সেটি প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের একটি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের দ্বারা দেশ পরিচালনা করা। সেই ষড়যন্ত্র কি আবার নতুন করে শুরু হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চাউর হয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার/এসআর