ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের সাক্ষাৎ তালিকায় বিতর্কিতদের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার, ০৬:০০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের সাক্ষাৎ তালিকায় বিতর্কিতদের নাম

যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীসহ বিতর্কিতদের ৩৫ জনের একটি নামের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গণভবনে জমা দেয়া হয়েছে। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ এই তালিকা প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর কাছে জমা দেন। ৩৫ জনের তালিকায় রয়েছেন প্রেসিডিয়ামের ২৮ জন, যুগ্ম সম্পাদক ৫জন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ৯জন। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন যে, আমি কমিটির নাম জমা দিয়েছি। যারা বিতর্কিত বা প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাতে আমন্ত্রণ জানাবেন না তাঁদেরকে গনভবন থেকেই বাদ দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার হারুনুর রশীদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে প্রধানমন্ত্রী রোববার এই সাক্ষাৎকারের সময় দেন।

যে তালিকা প্রদান করা হয়েছে সেই তালিকায় যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর নাম রয়েছে। এছাড়াও যুবলীগের বিতর্কিত প্রেসিডিয়াম সদস্য  নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের নামও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্তর্ভুক্ত আছে ৪ বছর ধরে সাংগঠনিক কাজে দায়িত্ব পালন না করা দলের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশীদের নাম। এখানে আছে সাভারের বিতর্কিত যুবলীগ নেতা সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদের নামও।

জানা গেছে যে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন যেহেতু কংগ্রেস নিয়েই আলোচনা হবে সেজন্য নামের তালিকা বড় করতে এবং যুবলীগের প্রেসিডিয়ামের নেতৃবৃন্দ বৈঠক করে এ তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। তবে গণভবন থেকে নির্দেশনা ছিল যুবলীগ চেয়ারম্যানসহ বিতর্কিত কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করা। তারপরও যুবলীগের চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে যে, ৩৫ জনের তালিকা দেয়া হলেও যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী যে এই বৈঠকে থাকছেন না তা মোটামুটি নিশ্চিত। তিনি ছাড়াও এই বৈঠকে থাকছেন না নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনও।

যুগ্ম সম্পাদকদের মধ্যে মামুনর রশীদও এই বৈঠকে থাকবেন না বলেই জানা গেছে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বির্তর্কিত এস এম জাহিদ এই বৈঠকে থাকবেন না। কারণ জাহিদের উপর এর আগেই গণভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। 

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন যে, আমরা কমিটি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি উপস্থাপন করেছি এবং কমিটিতে যারা যারা আছেন তাদের নামই উল্লেখ করেছি।

তবে তিনি স্বীকার করেন যে, যুব লীগের চেয়ারম্যান যেন বৈঠকে না থাকে সে ব্যাপারে গণভবন থেকে তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা সত্বেও তিনি কেনো যুবলীগের চেয়ারম্যানের নাম দিলেন এই প্রশ্ন করা হলে হারুনুর রশীদ বলেন, একটা ধারা অনুসরণ করেই আমরা নামগুলো দিয়েছি। বিচ্ছিন্নভাবে কারও নাম দিলে সংগঠনে নানা রকমের ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতো।

জানা গেছে যে, আগামীকাল বিকাল ৫ টায় এই বৈঠকে মূলত পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রথমত; যুব লীগের যে কংগ্রেস সেই কংগ্রেস কার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয়ত; যুব লীগের কংগ্রেসের আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরীর কমিটিগুলো বাতিল করা হবে কিনা।

তৃতীয়ত; যুব লীগের কংগ্রেসের আগে যে সমস্থ স্থানীয় পর্যায়ের কমিটি গুলো হয়েছে সেগুলো থাকবে কি থাকবে না।

চতুর্থত; যুব লীগের যারা বিতর্কিত রয়েছেন তাদের ব্যপারে কংগ্রেসের আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি হবে না। 

আর পঞ্চমত যুবলীগের নির্দিষ্ট কোন বয়সসীমা থাকবে কিনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে যে, আগামীকাল অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত ভাষণ দেবেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী সকলের বক্তব্য শুনবেন। এরপর দলের সাধারণ  সম্পাদকের বক্তবের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সমাপনী বক্তব্য রাখবেন এবং এখানেই তিনি যুবলীগের কংগ্রেস সম্পর্কে তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জানাবেন।

বাংলা ইনসাইডার