ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দল চালাতে কোটি টাকা খরচ করতেন সম্রাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার, ০৭:৫৯ পিএম
দল চালাতে কোটি টাকা খরচ করতেন সম্রাট

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেছেন, তিনি যা কিছু করেছেন তা দলের জন্যই করেছেন। দল চালাতেই করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট বলেছেন, দল চালাতে প্রতিমাসে কোটি টাকা লাগত। এই টাকা তাকে কেউ দিতো না।

তিনি বলেন যে, যখন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল তখন দল চালানোর জন্য কেন্দ্র থেকে টাকা দেওয়া হতো। সেই টাকা দিয়ে দল চালানো হতো। কিন্তু ২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে আসে তখন আস্তে আস্তে দল চালানোর খরচ কেন্দ্রীয় নেতারা দেওয়া বন্ধ করে দেন। উল্টো বিভিন্ন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের টাকা পয়সা দিতে হতো। এ কারণেই তাকে আস্তে আস্তে দল চালানোর উপায় বের করতে হয়েছে এবং ক্যাসিনোর মত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে হয়েছে।

তবে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেছেন যে, ক্যাসিনো তাঁর নেশা। ক্যাসিনোর টাকা তিনি বিদেশে পাচার করেননি। বিদেশে তিনি খেলতে গেছেন এবং বিদেশে জুয়ায় জিতে বিদেশে যে সমস্ত সম্পদ আছে সেগুলো তিনি বানিয়েছেন। তবে কি পরিমাণ সম্পদ বিদেশে আছে সে সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে, সম্রাট, খালেদ এবং জিকে শামীমের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। জিকে শামীম বা খালিদ যেমন রাজনীতিকে ব্যবহার করেছেন নিজেদের বিত্ত বৈভব তৈরি করার জন্য এবং তারা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, সম্পদ বানিয়েছেন এবং একইসঙ্গে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের খুশি করার কৌশল নিয়েছিলেন। তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল টাকা বানানো, বিত্তবান হওয়া। কিন্তু সম্রাট যে সমস্ত তথ্য দিচ্ছে তাতে সম্রাট, জিকে শামীম এবং খালিদ থেকে আলাদা। সম্রাট মূলত রাজনীতি করার জন্যই বিভিন্ন রকম অপকর্ম করেছে। সম্রাট দাবি করেছে যে, দলের কর্মীদের চাঙ্গা রাখা, কর্মীদের বিপদে আপদে সাহায্য করা এবং কর্মীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়ে আসার জন্য টাকা প্রয়োজন হয়। দলে এমন কোনো কাঠামো নেই যেখান থেকে দল চালাতে গেলে ওই খরচগুলো আসবে। কেন্দ্রীয় নেতারা দলের জন্য কোনো টাকা দেন না। বরং কেন্দ্রীয় নেতাদেরই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য টাকা তৈরি করে দিতে হতো।

ক্যাসিনো বাণিজ্য ছাড়াও সম্রাটের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে । টেন্ডারবাজির অভিযোগ সম্রাট পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, অনেকগুলো টেন্ডারের মিউচুয়াল তিনি করেছেন। মিউচুয়াল বলতে বুঝাচ্ছে যখন বিবদমান দুই পক্ষই টেন্ডার পেতে আগ্রহী। তখন সম্রাটের অফিসে বিচার বসত, তিনি দুই পক্ষের মধ্যে মিমাংসা করে দিতেন। কাজটি কে পাবেন তা নির্ধারণ করে দিতেন।

যিনি টেন্ডার পেতেন তিনি সম্রাটকে নজরানা দিতেন বলেও সম্রাট স্বীকার করেছেন। চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে সম্রাট বলেছেন যে, রাজনৈতিক দল‍গুলো চালানোর জন্য যে অর্থ লাগে সে জন্য তিনি বৈধ চাঁদাবাজি করতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি উপলক্ষে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা নিতেন। যদি তারা খুশি হয়ে দিতেন তাহলেই তিনি নিতেন। সম্রাট দাবি করেছেন, যে কাউকে জোর করে চাঁদা আদায় করা হয়নি।

জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট বলেছেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো পরিচালনার যদি সুস্থ বিধান থাকে, যদি কেন্দ্র থেকে দল পরিচলনার অর্থ দেওয়া হয়ে থাকে, যদি কর্মীদের দু:খ কষ্টে অর্থ ও অন্যান্য সহযোগীতার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এ ধরণের অনিয়ম বন্ধ হবে।

সম্রাট মনে করেন যে, শুধু ক্যাসিনো না চালালেই শুধু দল নয় ক্লাব গুলো ধ্বংস হয়ে যেত। এবং ক্লাব গুলো কর্মকর্তা কর্মচারি ও খেলোয়াড়দের বেতন ক্যাসিনো থেকে পাওয়া অর্থের মাধ্যমেই আসতো। এজন্য সম্রাট মনে করেন যে এই বিষয় গুলো ভাবা দরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের নিকট থেকে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসেবে। এবং এ সমস্থ তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

বাংলা ইনসাইডার