ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় ওমর ফারুকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০১৯ রবিবার, ১০:৩০ পিএম
যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় ওমর ফারুকের

ওমর ফারুক চৌধুরী ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম। শুধুমাত্র আত্মীয়তার সূত্রে না, সমস্ত অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ওমর ফারুক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরামর্শ করতেন। একারণেই শুধু যুবলীগ নয় অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ তাকে ভয় পেতেন এবং সমীহ করতেন। সেই ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে কীভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পর্কের দুরত্বের তৈরি হলো।

আজ ওমর ফারুক চৌধুরীর যুবলীগে ১০ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটলো। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে তাঁর উপর ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা বুঝার জন্য রাজনৈতিক পণ্ডিত হওয়ার দরকার নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই দলে তিনি জনপ্রিয় না হওয়া স্বত্বেও তাকে তিনি যুবলীগ চেয়ারম্যান করেছিলেন। ২০১২ সালে যখন যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সেই সম্মেলন স্থলেই মির্জা আজম এবং লিয়াকত শিকদারকে চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি করার জন্য দলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়েছিল। কিন্তু সেইসব উপেক্ষা করে ওমর ফারুক চৌধুরীকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের মত ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের চেয়ারম্যান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মেধা মননের চর্চার যুবলীগ তৈরির জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে যে,  পাঁচটি কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুবলীগ চেয়ারম্যানের দূরত্ব তৈরি হয়েছে-

১. দলে দুর্বৃত্তদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বছর আগে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে বহিষ্কার এবং কমিটি বাতিল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে যাওয়ার আগে ওমর ফারুক চৌধুরীকে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে তাকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। কিন্তু ওমর ফারুক চৌধুরী সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করেন এবং তিনি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে অভিহিত করেন। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রী খালেদসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু সেই সমস্ত অভিযোগগুলো আমলে নেননি ওমর ফারুক চৌধুরি।

২. প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করতেন ওমর ফারুক চৌধুরী:

বিভিন্ন কমিটি বাণিজ্য পদ বাণ্যিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল ওমর ফারুক চৌধুরির বিরুদ্ধে। প্রথম প্রথম দলের নেতারা এ নিয়ে প্রশ্ন করতো কিন্তু সব কিছুই তিনি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা বা অভিপ্রায় হিসেবে ব্যবহার করতেন। একটা পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কানে বিষয়টি আসে যে ওমর ফারুক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে খবরদারী করেন এবং প্রভাব বিস্তার করেন। এট আওয়ামী লীগ সভাপতি ভালো চোখে দেখেননি।

৩. স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া:

প্রধানমন্ত্রী বারবার নির্দেশ দিয়েছিলেন যে কোনো অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে জামাত শিবির বা জঙ্গীদের নেওয়া যাবে না। কিন্তু যুবলীগ যেন ফ্রিডম পার্টি এবং জামায়াতের একটি অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে যখন এ সংক্লান্ত রিপোর্টটি আসে তখন তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছিলেন। এরপরই তিনি যুব লীগের চেয়ারম্যানের উপর তার আস্থা হারিয়ে যায়।

৪. এমপি মন্ত্রীদের সঙ্গে দু:ব্যবহার করা:

এমপি মন্ত্রী এবং বিভিন্ন জন প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা ছিল ওমর ফারুক চৌধুরীর ছিল একটি স্বাভাবিক কর্ম। তিনি বিভিন্ন সময় মন্ত্রী এমপিদের কথায় কথায় ধমক দিতেন, বাজে ব্যবহার করতেন, গালাগালি করতেন এমনকি কয়েক জনের উপর হাত তোলারও অভিযোগ রয়েছে। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলে তার উপর অসন্তুষ্ট হন।

৫. শুদ্ধি অভিযানকে চ্যালেঞ্জ:

যখন শুন্ধি অভিযান শুরু হয় শুদ্ধি অভিযানকে চ্যালেঞ্চ করেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সম্পর্কে কটূক্তি করেন। এই বিষয়টি প্রধামন্ত্রীকে ক্ষুদ্ধ করেছে। 

মূলত এই পাঁচ কারণে আওয়ামী সভাপতির এক সময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন ওমর ফারুক চৌধুরীর আজ এই পতন হলো। প্রধানমন্ত্রীর আস্থা হারিয়ে তিনি যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেন।

বাংলা ইনসাইডার