ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

উত্তরে রোকন, দক্ষিণে সাবের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার, ০৬:০০ পিএম
উত্তরে রোকন, দক্ষিণে সাবের

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য আগামী ১৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে জানুয়ারিতে তারা নির্বাচন করতে চায়।

অন্যদিকে ৩০ নভেম্বর ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন জানুয়ারিতে হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে, ঢাকা দক্ষিণ এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সীমানা নিয়ে একাধিক বিরোধ রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে এই সমস্ত বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে এবং শেষে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চাইছে নির্বাচনকে মার্চ পর্যন্ত গড়িয়ে নিতে যেন এর মধ্যে দলটি সম্মেলন করে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে। সাংগঠনিক শক্তি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যেন তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। তবে এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা সিটি নির্বাচন নিয়ে নানা রকম আলোচনা এবং প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেই পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। নতুন প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, হঠাৎ করে ঢাকা দক্ষিণে আলোচনায় আসছেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। সুপ্রীম কোর্টের এ আইনজীবি ২০০১-২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০৬ সালে বাতিল হয়ে যাওয়া নির্বাচনে মোহাম্মদপুরের আসন থেকে শেখ হাসিনা মনোনয়নও দিয়েছিলেন তাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচন বর্জন করে আওয়ামী লীগ। নতুন নির্বাচনের আগেই ওয়ান ইলেভেন আসে। ওয়ান ইলেভেনের সময় ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ভোল পাল্টে ফেলেন। তিনি সংস্করপন্থী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সমস্ত ফাইল তিনি ফেরত দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েকমাসে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আবার ঘনিষ্ঠতা তৈরী হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই ঢাকা দক্ষিণে একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম খুঁজতে গিয়ে রোকন উদ্দিন মাহমুদের নাম এসেছে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোকন উদ্দিন মাহমুদের ব্যাপারে এখনো কোন সবুজ সংকেত দেননি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। একটি মহল চেষ্টা করছে, শেষ পর্যন্ত যেন রোকন উদ্দিন মাহমুদকে প্রার্থীতা দেওয়া হয়। এছাড়াও আরো কয়েকজন বিকল্প প্রার্থীর কথাও ভাবা হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়রকে নিয়ে আওয়ামী লীগ খুশি নয়। যদিও তিনি মাত্র এক বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আনিসুল হক যেভাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সাজিয়েছিলেন, আতিকুল ইসলাম তার ধারেকাছেও নেই বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন। বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি এবং প্রয়াত আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকের নামও আলোচনায় এসেছে উত্তরের মেয়র পদের সম্ভব্য প্রার্থীরা তালিকায়। কিন্তু যেহেতু তিনি বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সেহেতু তাকে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে অনেকেরই আপত্তি আছে।

তবে ঢাকা উত্তরের মেয়র নির্বাচনে হঠাৎ করে সাবের হোসেন চৌধুরির নাম আলোচনায় এসেছে। সাবের হোসেন চৌধুরির ক্লিন ইমেজ এবং তার কর্মদক্ষতার কারণে তাকে উত্তরের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের একটি মহল ভাবছে।

আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, নির্বাচনের আগে অনেক নামই আলোচনায় আসবে। তবে শেষ পর্যন্ত মেয়র হিসাবে নির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলা ইনসাইডার