ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কাল জাতীয় কমিটির বৈঠক; সভাপতির কাছে তৃণমূল যা চায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৬:৫৯ পিএম
কাল জাতীয় কমিটির বৈঠক; সভাপতির কাছে তৃণমূল যা চায়

আগামীকাল আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আগামীকাল গণভবনে জাতীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিলের পর সবচেয়ে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কমিটি হলো জাতীয় কমিটি। যদিও ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবরের পর এই প্রথম জাতীয় কমিটির বৈঠক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গঠনতন্ত্রের ১৭ (ক) অনুযায়ী এই জাতীয় কমিটি গঠিত হয়। জাতীয় কমিটিতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ৮১ সদস্যর সঙ্গে ৭৮ টি সাংগঠনিক জেলার সদস্য থাকেন এবং সভাপতি থাকেন ২১ জন। কাউন্সিলের আগে জাতীয় কমিটির বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এবারের জাতীয় কমিটির মূল বিষয় বাজেট বলা হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরে সারাদেশ সরকারের বিভিন্ন সমস্যা এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং মন্ত্রীদের দায়িত্বের কথা জাতীয় কমিটিতে উঠে আসতে পারে।

বিভিন্ন জেলায় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা সারাদেশের ঘটমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন। যে সমস্ত বিষয়গুলো স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চান সেগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি। এর ফলে জনজীবনে যে অস্বস্তি এবং অস্থিরতা তৈরি হয়েছে সেটা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। একজন জাতীয় কমিটির সদস্য যিনি আগামীকালের বৈঠকে যোগ দিবেন, তিনি বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন যে, আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্য এবং টানা তিন বার ক্ষমতায় থাকা দলটিকে বদনাম করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে এবং এর জন্য দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি হচ্ছে। একই সাথে পরিবহন খাতে অস্থিরতা এবং পরিবহন নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট-হুমকি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হবে বলেও জানা গেছে। আওয়ামীলীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, জাতীয় কমিটির বৈঠকে কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকতার বাইরে সবথেকে বেশি আলোচনা হবে দলের শুদ্ধি অভিযান এবং দলের বহিরাগতদের আগমন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন এবং শুদ্ধি অভিযানের কারণে কিছু চিহ্নিত নেতা-কর্মী আইনের আওতায় আসলেও সেই অভিযান এখন থমকে গেছে। যদিও এই শুদ্ধি অভিযানকে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে ব্যপক স্বাগত জানানো হয়েছিল। তারা শুদ্ধি অভিযানকে অব্যহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে জাতীয় কমিটির বৈঠকে এই শুদ্ধি অভিযানের প্রসঙ্গ আলোচিত হবে এবং তৃণমূল পর্যন্ত শুদ্ধি অভিযান ছড়িয়ে নেওয়ার জন্য তারা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করবেন। আরেকটি বড় বিষয় হলো আওয়ামী লীগে ২০১৪ সালের পর থেকে জামাত বিএনপি থেকে পরিমাণ লোক  অনুপ্রবেশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বারংবার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তারপরও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে একাংশের অনিহার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন। কাউন্সিল অধিবেশনে জাতীয় কমিটিতে সাংগাঠনিক জেলা থেকে যে ৭৮ জন আসবেন এবং সভাপতি মনোনীত যে ২১ জন থাকবেন তাদের অনেকেই যাদেরকে বহিস্কার করা হচ্ছে না, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে ব্যাপারে জানতে চাইবেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন কেন মানা হচ্ছে না তা জিজ্ঞেস করবেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কারো কারো ক্ষোভ থাকে।

তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, এবারের জাতীয় কমিটির বৈঠক হচ্ছে আনুষ্ঠানিকতার জন্য। এই বৈঠক থেকেই মূলত বাজেট পাশ হবে। এই বৈঠকের পরপরই অনেকগুলো উপকমিটির বৈঠক যেমন- গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি, অভ্যর্থনা কমিটিসহ বিভিন্ন উপকমিটির বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা বলছেন যে প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেলে তারা তাদের মনের কথা বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের মনের কথা শোনেন। মন খুলে কথা বলার আগ্রহ থেকেই জাতীয় কমিটির বৈঠক নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ