ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দৌঁড়ে পিছিয়ে তবুও তাঁরা হাল ছাড়েননি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ পিএম
দৌঁড়ে পিছিয়ে তবুও তাঁরা হাল ছাড়েননি

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহল থেকে প্রাপ্ত সূত্রে এখন পর্যন্ত মোটামুটি নিশ্চিত এবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যিনি হবেন তাকে ফুলটাইম (পূর্ণকালীন) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি মন্ত্রীত্ব করতে পারবেন না। এই বিবেচনায় সাধারণ সম্পাদক পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে।

ওবায়দুল কাদের এবং ড. আব্দুর রাজ্জাক দুজনেই সাধারণ সম্পাদক পদের দাবিদার। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীত্ব ছাড়তে রাজি হবেন কিনা সেটা নিয়ে অনেকের মধ্যেই আলোচনা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের যে প্রতিযোগিতা সেখানে পিঁছিয়ে থাকলেও হাল ছাড়েননি এমন কয়েকজন নেতাও রয়েছে যারা মন্ত্রীত্ব ছাড়াই দলের সাধারণ সম্পাদকের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করতে চায়।

এদের মধ্যে দুইজন রয়েছেন যারা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। এ দুইজনই গত নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন না পেলেও দলের সভাপতির সঙ্গে তারা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এখন  আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ডে তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এরা হলেন দলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এবং দলের আরেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। তবে এই দুইজনের চেয়ে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন মাহবুবুল আলম হানিফ। মাহবুবুল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের এক নম্বর যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। তিনি এমপি হলেও মন্ত্রিত্ব পাননি এবং ওবায়দুল কাদের যখন অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে ছিলেন, তখন তিনি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেশ ভালোভাবেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে আওয়ামীলীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এই তিনজনই সাধারণ সম্পাদক মনোনয়নের দৌড়ে খানিকটা পিছিয়ে রয়েছেন। কারণ এখনো সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মূল ভাবনা রয়েছে ওবায়দুল কাদেরকে ঘিরে। এমনকি আওয়ামীলীগের অনেক নেতা মনে করছেন যে শেষ পর্যন্ত হয়তো ওবায়দুল কাদেরের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে মন্ত্রিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক রাখা হতে পারে।

তবে আওয়ামীলীগের অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় নেতা এরকম সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, আওয়ামীলীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক পদটি আলাদা করতে চান এবং দলের সাংগঠনিক তৎপরতায় বিন্যাস করতে চান। অন্য একটি আওয়ামীলীগের সূত্র বলছে, আগামী দিনের বিবেচনা করে দলের মধ্যে তরুণ কাউকেই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এনে চমক সৃষ্টি করতে পারে। এদের মধ্যে আলোচনায় আছেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং এনামুল হক শামীম। এরা দুজনই দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মন্ত্রী। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, আগামী প্রজন্মকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তরুণ কাউকে দেওয়া অসম্ভব কিছু না।

তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছে এ সবই হলো জল্পনা কল্পনা আর আলোচনার খোরাক। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন কাকে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক করবেন। তিনি অনেক বিষয় বিবেচনা করেই দলের সাধারণ সম্পাদক পদ চূড়ান্ত করবেন। কাজেই সাধারণ সম্পাদক কে হবেন তা জানার জন্য আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর পর্যন্তই অপেক্ষা করতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, এবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে একটা চমক আসছেই।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ