ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বেড়েছে যাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার, ০৯:৫৯ পিএম
ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বেড়েছে যাদের

নাগরিকত্ব বিল এবং নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার অস্বস্থির খবর নতুন নয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিষয়টি গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন বলেছেন, একজন ভারতীয় নাগরিককেও বাংলাদেশে পুশইন করতে দেওয়া হবে না। 

এ রকম একটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক যখন টানাপোড়েনের মধ্যে তখন রাজনীতিতে ভারতের সঙ্গে একটি মহলের যোগাযোগ বেড়েছে। ভারতীয় কুটনৈতিকদের সঙ্গে তাদের একাধিক বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ভারতীয় দূতাবাসের যোগাযোগেরও খবর পাওয়া গেছে।

এই রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব বিল এবং নাগরিকপঞ্জি নিয়ে কোনো বক্তব্য রাখেননি। এমনকি কোনো মন্তব্যও করেননি। যদিও কথায় কথায় তার দেশ প্রেমের কথা বলেন। দেশের স্বাধীনত এবং সার্বভৌমত্বের কথা বলেন। এদের মধ্যে রয়েছেন;

ড. কামাল হোসেন

ড. কামাল হোসেন গণফোরামের সভাপতি এবং জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক। তার সাথে বিভিন্ন সময় ভারতের সক্ষাতের খবর পাওয়া যায়। নাগরিকত্ব বিল এবং নাগরিকপঞ্জি নিয়ে ড. কামাল হোসেন কোনো বক্তব্য রাখেননি। এমনকি বাংলাদেশে এই বিলটি মানবাধিকার লঙ্ঘন কিনা বা এই বিলের ফলে সারাবিশ্বে যে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির যে সংকট তৈরি হবে সেটি নিয়েও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অথচ বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে যে, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের যোগাযোগ হয়েছে। তাদের সঙ্গে তিনি কথাবার্তা বলছেন। কেন এই কথাবার্তা বা কিসের জন্য এই যোগাযোগ তো নিয়ে কোনো তথ্য অবশ্য পাওয়া যায়নি।

মাহমুদুর রহমান মান্না

মাহমুদুর রহমান মান্না জাতীয় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা।  তিনি কথায় কথায় দেশ প্রেমের কথা বলেন এবং সরকারের সমালোচনা করেন। কিন্তু ভারতের নাগরিকত্ব বিল এবং আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে তার সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস  এবং ভারতের বিভিন্ন মহলের যোগাযোগ বেড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আ স ম আব্দুর রব

আ স ম আব্দুর রব বিভিন্ন সময় সরকারের সমালোচনা করেন কিন্তু রাজনীতিতে তিনি একজন ভারতপন্থি হিসেবে বিবেচিত। তার সঙ্গেও ভারতের বিভিন্ন মহলের যোগাযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তিনিও ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের লুকোছাপা কিছু নেই। তিন সবসময় ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা নিজেই বলেন। সাম্প্রতিক সময় ভারতের নাগরিকত্ব বিল এবং নাগরিকপঞ্জি নিয়ে কাদের সিদ্দীকীকে কোন বক্তব্য বা বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে অবশ্য সব সময় ভারতের বিভিন্ন মহলের যোগাযোগের খবর পাওয়া যায়। তিনি নিজেও সেটা অস্বীকার করেন না।

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন যখন দেখা দিয়েছে এবং যখন নাগরিকত্ব বিল এবং নাগরিকপঞ্জি সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশের ওপর একটি চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে তখন এই সমস্ত রাজনীতিবীদদের প্রকাশ্য এবং গোপন যোগাযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।