ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

খোকাকে বলা হত ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’  

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার, ০৬:৫৯ পিএম
খোকাকে বলা হত ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’   

সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের প্রচারণা যতই জমে উঠছে ততই বিএনপির দলীয় প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বাবা প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার দুর্নীতির বিষয়গুলো সামনে চলে আসছে। সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন অখণ্ড ঢাকার শেষ মেয়র। সাড়ে নয় বছর তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এই সময় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ছিল দুর্নীতির আখড়া। সাদেক হোসেন খোকা যখন মেয়রের দায়িত্ব ছেড়ে দেন তখন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কোষাগার শুন্য ছিল। ওয়ান ইলেভেনে সাদেক হোসেন খোকা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সাদেক হোসেন খোকা সিটি কর্পোরেশনে ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাদেক হোসেন খোকার স্ত্রী ইসমত আরা, মেয়ে সারিকা সাদেক, ছেলে ইশরাক হোসেন (যিনি বর্তমানে মেয়র প্রার্থী) এবং আরেক ছেলে ইশফাক হোসেনরা এই দুর্নীতির উচ্ছিষ্টভোগী ছিলেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনে এটাও বলা হয়েছিল, সাদেক হোসেন খোকার ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন উজ্জল পেশায় ব্যবসায়ী। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাদেক হোসেন খোকা অসাধু উপায়ে আয় করা সম্পদ তার ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন উজ্জল এবং বন্ধু জামাল উদ্দীন বাবলুর নামে রেখেছিলেন। নারায়নগঞ্জের গাউছিয়া বাজারের কাছে ডায়নামিক মিলস নামে আনোয়ার হোসেনের নামে একটি কারখানা আছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় চারশত বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে।

একইভাবে বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে চারশো বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে। ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন উজ্জলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এবং ব্যাংকে স্থায়ী আমানত রয়েছে যার মূল্য কোটি কোটি টাকা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বাদী হয়ে রমনা থানায় ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আর এই মামলায় সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনিদিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়।

এছাড়াও সাদেক হোসের খোকার বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকি ব্যাপারে অনুসন্ধান করা হয়। তিনি মেয়র থাকা অবস্থায় ৬০ লাখ টাকার আয়কর ফাঁকি দিয়েছিলেন। ২০০৮ সালে ১৩ আগস্ট তৎকালীন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল রাজস্ব বোর্ড এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করার পরপরই সাদেক হোসেন খোকা ১ কোটি ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৭ টাকা ৮৫ পয়সা পরিশোধ করেন।  যেই আয়করের তথ্য আগে তিনি গোপন করেছিলেন।

এছাড়া বনানী সুপার মার্কেটে কার পার্ক ইজারা দেওয়ার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল আর এই মামলায় সাদেক হোসেন খোকা দণ্ডিত হয়েছিলেন।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যতই ধেয়ে আসছে তখন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে তারা কি সেই আবার দুর্নীতিবাজের স্বর্গরাজ্যে ফিরে যাবে। সাদেক হোসেন খোকা যেভাবে সিটি কর্পোরেশনে সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যেভাবে সিটি কর্পোরেশনের সম্পদ উজাড় করে নিজের এবং তার পরিবারের পকেট ভারী করেছিলেন ইশরাককে নির্বাচিত করে সিটি কর্পোরেশনের অবস্থা কি সেভাবে ফিরিয়ে আনবেন? ভোটারদের মধ্যে দুর্নীতির ইস্যুটি এভাবেই ক্রমশ ডালপালা মেলছে। 

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ