ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এই ‘নির্বাচন কমিশন’ কি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার, ০৯:৫৯ পিএম
এই ‘নির্বাচন কমিশন’ কি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম?

অবশেষে নির্বাচন কমিশন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে অনেক জলঘোলা করেই নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত পিছটান দিলো। যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল তখন থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আপত্তি জানিয়েছিল। তারা বলেছিল সরস্বতী পূজার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হবে। কিন্তু সেই সময় নির্বাচন কমিশন বিষয়টি আমলেই নেয়নি। গুরুত্ব না দিয়ে তারা একগুয়েমির পথেই হেঁটেছে। এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ালে তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেছে পূজা এবং ভোট একসঙ্গে চলবে। যদিও বাস্তবে সেটা কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এই ছোট একটি তারিখ নির্ধারণের ঘটনায় যে নির্বাচন কমিশন সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে না, বুদ্ধিদীপ্ত আচরণ করতে পারে না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সকল পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারে না সেই নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন কিভাবে দেবে সে নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

নির্বাচন কমিশনের একগুয়েমির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনশন শুরু করে। যার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্যমতও প্রতিষ্ঠিত হয়। সবকটি রাজনৈতিক দলই সরস্বতী পূজার দিনে নির্বাচন না করার অনুরোধ করে। এমনকি দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান ও বড় দুই দলের চার মেয়র প্রার্থী নির্বাচন পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত আজ নির্বাচন কমিশন এক বৈঠকের মধ্যে দিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পিছিয়ে দিল। এই নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে অভিযোগ অন্তহীন। নির্বাচন কমিশনের একগুয়েমি আচরণ, হঠকারী সিদ্ধান্তসহ তাদের যোগ্যতা নিয়ে জনমনে নানা রকম প্রশ্ন রয়েছে।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে জনমনে যেমন প্রশ্ন রয়েছে তেমনি নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের আচরণ ও কথাবার্তা নিয়েও জনমনে নানা রকম বিরক্তি ও আপত্তি রয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনাররা যে ধরণের মন্তব্য করেছেন তা রীতিমত হাস্যকর ও আপত্তিকর।

এমনকি ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের পরও বিভিন্ন উপনির্বাচন নিয়েও নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের অতিকথন এবং নির্বাচন কমিশনারদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য, কোন রকম দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য এই নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পারবে কিনা সেই প্রশ্ন আবার উঠেছে।

এবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার প্রচারণায় ঢাকার শহর একটি উৎসবের আমেজ পেয়েছে। বহুদিন পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে ঢাকা শহর হাটছে। আর এরকম সময় নির্বাচন কমিশন অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত এবং অযৌক্তিক একটি বিতর্ক তৈরী করে পুরো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করলো। এই উৎসবের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নিজেরাই একটি ছেদরেখা একে দিলো। যার ফলে এই নির্বাচন নিয়ে একটি অস্বস্তি থেকেই গেল। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্বের প্রতি কতটুকু দায়িত্ববান থাকতে পারবেন এবং কতটুকু নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন জনমনে এই প্রশ্ন রয়েছে।

এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী পহেলা ফ্রেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সে প্রশ্ন জনমনে রয়েছে। আমরা আশা করবো নির্বাচন কমিশন তার অতিকথন, একগুয়েমি থেকে সরে আসবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, নির্মোহ এবং বস্তুনিষ্ঠ নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রয়োজন সেটিই করবে। না হলে এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের শেষ বিন্দুটিকেও উপড়ে ফেলবে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে শুধুমাত্র একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই প্রত্যাশা করি, অন্য কিছু নয়।