ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী ভুলে গেছেন, ছেলে জুয়ায় ব্যস্ত ছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ রবিবার, ০৮:৫৯ পিএম
স্ত্রী ভুলে গেছেন, ছেলে জুয়ায় ব্যস্ত ছিলেন

আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বৈরাচারী একনায়ক জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী। এই জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি সাদামাটা কর্মসূচি গ্রহণ করে। দিনটিতে সকাল বেলা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ছাড়া আর তেমন কোনো কর্মসূচি চোখে পড়েনি।

জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং আদর্শিক নেতা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা এবং কুষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে রাজনীতির ধারা সূচনা করা হয়েছিল সেই রাজনীতির ধারার নেতা হলেন জিয়াউর রহমান।

বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তাকে। তার হাত ধরেই জামাত ইসলাম বাংলাদেশে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরের নরখাদক গোলাম আযম পাকিস্তানি পাসপোর্টে বাংলাদেশে এসেছিল। আর বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে একাট্টা করেছিলেন জিয়া। সেই জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে তার পরিবারের দুইজন সদস্যের কেউই তাকে স্বরণ করেননি।

বর্তমানে কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। হাসাপাতালের কেবিনে আজ তিনি সারাদিন জিয়ার নামটি উচ্চারণও করেননি। এমনটি আজ যে তার স্বামীর জন্মদিন এটা তিনি ভুলে গেছেন। আজ নার্সরা অন্তত তিনবার তার ব্লাড সুগার পরীক্ষা করেছে, তার ডায়বেটিস পরীক্ষা করেছে। এছাড়া চিকিৎসক দল একবার তার সঙ্গে দেখা করেছে। তাদেরকে তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে নানা কথাবার্তা বলেছেন, কিন্তু একবারও তিনি তার স্বামী জিয়াউর রহমানের নাম নেননি এবং আজকে যে তার জন্মদিন সেটিও তিনি ভুলে গিয়েছিলেন।

অন্যদিকে শনিবার তারেক জিয়ার জুয়া খেলার দিন। তিনি প্রতি শনিবার লন্ডনের স্টার্টফোর্ডের ওয়েস্ট ফিল্ডে ক্যাসিনোতে যান এবং সেখানকার তিনি প্লাটিনাম মেম্বার। শনিবার সারারাত জুয়ায় মাতেন। রোববার সেখানকার একটি হোটেলে তিনি রাত্রীযাপন করেন। পিতার জন্মদিনে আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত তিনি ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন। দুপুরে তার সঙ্গে বিএনপির নেতৃবৃন্দ দেখা করতে যান, তারা আশা করেছিলেন তার পিতার জন্মদিন উপলক্ষে হয়তো কোন অনুষ্ঠান বা কিছু করবেন কিন্তু তারা দীর্ঘক্ষণ বসে ছিলেন এবং জানানো হয় তিনি তখনো ঘুমিয়ে আছেন, আজকে সন্ধ্যা নাগাদ তিনি বাসায় ফিরবেন।

যাকে নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করে, বিএনপির অন্তসারশূণ্য রাজনীতি যাকে ঘিরেই বেঁচে আছে সেই জিয়াউর রহমানের পরিবারের দুই সদস্যই তাকে ভুলে গেছে, দল তাহলে কিভাবে জন্মদিন পালন করবে! আর এ কারণেই জিয়ার জন্মদিনে নেতাকর্মীরা ছিল আগ্রহ ও উৎসাহহীন।