ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সিটি নির্বাচনের পরেই একদফা আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার, ০৬:৫৯ পিএম
সিটি নির্বাচনের পরেই একদফা আন্দোলন

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রায় সমান্তরাল ধারায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল আর ইশরাক হোসন।

কিন্তু বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা এই নির্বাচন নিয়ে অন্য ছক আঁকছেন এমন খবর বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। এই নির্বাচনে জয়ের জন্য নয় বরং একদফা আন্দোলনের পটভূমি তৈরির জন্যই বিএনপির কাছে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির নেতারাই এমন কথা বলছেন।

বিএনপির একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা বলেছেন, যে ভাবেই হোক এই নির্বাচনে বিএনপির শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারবে না। সরকার ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব বিএনপির হাতে তুলে দেবে এটা ভাবা বোকার স্বর্গে বসবাস করার মতোই। কাজেই এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল জিতলে আর কিভাবে জিতবে সেটাই দেখার বিষয়। বিএনপি মনে করছে এই নির্বাচনে প্রচারণার মধ্যে দিয়ে দলের নেতা কর্মীদের চাঙ্গা করা সম্ভব হবে। যেন পরবর্তীতে তারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারে।

বিএনপির নির্বাচন প্রচারণা এবং পরিচালনা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি শুরু থেকেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে নির্বাচন প্রচার প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বাঁধা প্রদান করছে। মূলত ইভিএম নিয়েই বিএনপি আন্দোলনটাকে নতুন দিকে এগিয়ে নিতে চায়।

ইভিএমের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ভোট হবেনা এই প্রচারণাটা এজন্যই বিএনপি জোরেশোরে করছে। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এখন যে বাস্তবতা, সেই বাস্তবতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বিএনপির বিজয়ের কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ ঢাকাবাসী অত্যন্ত সচেতন, তারা জানা যে এই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়বে। তাছাড়া এই ভোটের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, সাধারণ মানুষ যদি ভোটকেন্দ্রে না যায় তাহলে বিএনপির পক্ষে নাটকীয়ভাবে জয় পাওয়া অত্যন্ত অবাস্তব একটি বিষয়।

তৃতীয়ত, বিএনপির কর্মীদের মাঝে নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা কম, কাজেই এই নির্বাচনে বিএনপির সবগুলো ওয়ার্ডে এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবে এবং এজেন্টরা সততা-নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবে এমন গ্যারান্টি বিএনপির নেতারাও দিতে পারবে না। কাজেই নির্বাচনে বিএনপির জয়ের দিবাস্বপ্ন বাদ দিয়ে নির্বাচন পরবর্তী করণীয় নিয়ে এখন ব্যস্ত রয়েছে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ এবং তাঁর সুচিকিৎসার দরকার এবং এই চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনই প্যারোলের বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলা হচ্ছে। বিএনপির একজন নেতা আজ বেগম জিয়ার পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তাদেরকে নির্বাচন পর্যন্ত এই প্যারোলের আবেদন স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ করেছে।

বিএনপি নেতারা বলছে যে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলন করার সুবর্ণ সুযোগ আসবে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন;

প্রথমত, এই নির্বাচনের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হতে পারছে এবং তাদের জন্য একটা পটভূমি তৈরী হয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে একটা আন্দোলন গড়ে তোলার মঞ্চ তৈরী করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শুধু বিএনপি নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎকন্ঠা এবং হতাশা তৈরী হয়েছে। কাজেই নির্বাচনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা রাজপথে বড় ধরণের আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে।

তৃতীয়ত, বিএনপি মনে করছে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা অস্বস্তি এবং উদ্বেগ তৈরী হয়েছে। সেই উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে তারা একটি বড় ধরণের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।

এই সমস্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করেই বিএনপি মনে করছে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন তাদের আন্দোলনের একটা প্লাটফর্ম। বিএনপির কম নেতাই বিশ্বাস করেন যে, এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তারা বিজয়ী হতে পারবেন। বরং যারা বিএনপিতে কট্টরপন্থী, এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনের পক্ষে নয়, তারা নির্বাচনে যেতে রাজি হয়েছেন এই নির্বাচনকে ঘিরে যেন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের সূচনা করতে পারেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেরকম ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ধাপে ধাপে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবেই তারা এই নির্বাচেনে অংশগ্রহণ করছেন।

তবে গত একবছরে বিএনপি এমন একদফা আন্দোলনের কর্মসূচী অন্তত ১১ বার দিয়েছিল, কিন্তু কোনবারই সফল হতে পারেনি। এবারও বিএনপি এই আন্দোলনে শেষ পর্যন্ত কতটকু সফল হবে তা দেখার বিষয়।