ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অসম্পূর্ণ রদবদল, অনেক প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৬:০০ পিএম
অসম্পূর্ণ রদবদল, অনেক প্রশ্ন

মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে গুঞ্জন চলছে অনেকদিন ধরেই। কিন্তু রদবদল হচ্ছে হচ্ছে করে শেষ পর্যন্ত আকস্মিকভাবে আজকে মন্ত্রিসভার একটা ছোট রদবদল হয়েছে। এখানে ৩ জন মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন হয়েছে। দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিলো, যারা ব্যর্থ মন্ত্রী তাদের সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এমনকি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছিলেন যেসব মন্ত্রীরা নন-পারফর্মিং তাদেরকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

কিন্তু এবার মন্ত্রিসভার রদবদলে মূল চমক ছিল গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শ ম রেজাউল করিম। তাকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরুকে  দেওয়া হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আর সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রিসভার রদবদলে যাদের নিয়ে আলোচনা ছিল, বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশীর কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানারকম হতাশা এবং অস্বস্তি ছিল। দলের মধ্যেও তাকে নিয়ে অস্থিরতা এবং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে পেঁয়াজের লাগামহীন উর্ধ্বগতিতে বাণিজ্য মন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন যে পদত্যাগ এক মিনিটের ব্যাপার।

মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রীর কোনো পরিবর্তন না দেখে সাধারণ মানুষ অনেকটা অবাকই হয়েছেন। পাশাপাশি একের পর এক রেল দুর্ঘটনায় জর্জরিত রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের ব্যাপারেও সাধারণ মানুষের নেতিবাচক মনোভাব ছিল। বর্তমান সরকারের একবছরের বেশি সময় যাদেরকে ব্যর্থ মন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাদের মধ্যে রেলমন্ত্রী অন্যতম। কিন্তু সেই মন্ত্রণালয়েও কোন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানকে নিয়েও নানা রকম প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময় করোনা ভাইরাস নিয়ে একটি বক্তব্য বিতর্ক তৈরী করেছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইডিআরসির পরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিমান প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে খণ্ডন করেছিলেন। বলেছিলেন যে, এই ধরণের বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই। তারপরও বিমান মন্ত্রণালয়েরও কোন পরিবর্তন হয়নি।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ মিয়া গত ঈদে চাঁদ দেখা নিয়ে এক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিলেন।তিনিও স্বপদে বহাল রয়েছেন। এছাড়া আরো কয়েকজন মন্ত্রীর ব্যর্থতা নিয়ে নানা রকম আলাপ আলোচনা আওয়ামী লীগের ভিতরে এবং বাইরে ছিল। মন্ত্রিসভার পরিবর্তনে তাদের গায়েও আচড় লাগেনি। তাহলে এই পরিবর্তন কেন সেই প্রশ্ন উঠেছে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সম্ভবত গৃহায়ন পূর্তমন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিমকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই এইা পরিবর্তন হয়েছে। অন্য একটি সূত্র বলছে, এটি একটি ছোট পরিবর্তন। খুব শীঘ্রই আরো কিছু মন্ত্রীর পদ পরিবর্তন হতে পারে। তবে কবে কিভাবে হবে সে সম্পর্কে কেন সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে যে, মন্ত্রিসভায় আরো কয়েকজন নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির জন্য আলোচনায় ছিলেন। বিশেষ করে তারা বিগতি নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। দলের জন্য কাজ করেছেন এমন দুয়েকজনকে মন্ত্রী করা বা যারা দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পাননি এমন কয়েকজনকে মন্ত্রী করার বিষয়টি নিয়েও গুঞ্জন ছিল। কিন্তু এ সমস্ত গুঞ্জন কোনটাই সত্যি হয়নি। যে ছোট রদবদল হয়েছে সেই রদবদলের ফলে মন্ত্রিসভার কার্যক্রমের গতি বাড়বে কিনা নিয়েও অনেক তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই রদবদল কেনো তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিশ্চয় কোনো বিবেচনা করেই এই রদবদল করেছেন।

একটি সূত্র বলছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর ব্যাপারে কিছু কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সে কারণে হয়তো তাকে ঐ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই অন্যান্যদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই রদবদলই শেষ রদবদল কিনা নাকি খুব শ্রীঘ্রই আবার একটি রদবদল হবে তা নিয়েও আওয়ামী লীগের মধ্যে আলোচনা আছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র মনে করছে, এই রদবদলের ধারায় খুব শ্রীঘই মন্ত্রিসভায় একটি পূর্ণাঙ্গ রদবদল হতে পারে।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ