ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতারা এখন ‘গণদুশমন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার, ০৭:৫৯ পিএম
বিএনপি নেতারা এখন ‘গণদুশমন’

 

খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দর সিদ্ধান্তহীনতা, পলায়নকর মনোবৃত্তি এবং আপোষকামীতায় ক্ষুব্ধ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আপামর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন গণদুশমনে পরিণত হয়েছে। আজ বিএনপির কার্যালয়ে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা জমায়েত হন এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গত দুই বছর বিএনপির নেতৃবৃন্দ কিছুই করেননি। তার ব্যাপারে চরম অবহেলা করেছেন। খালেদা জিয়াকে তারা বন্দি রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে। খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকারের চেয়ে তারা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে বেশি দায়ী করছে।

গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচী ছিল। এই বিক্ষোভ কর্মসূচীর অনুমতি দেয়নি সরকার। পরবর্তীতে পুলিশের সঙ্গে দেনদরবার করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করার অনুমতি পায় বিএনপি। সেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর বিএনপির কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা মনে করেন যে, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যেই দল একটা নূন্যতম বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করতে পারেনা, সেই দল খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা কিভাবে বলে এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে বিএনপি নেতারা কেন বহাল তবিয়তে থাকে, কেন তারা রাজনৈতিক কর্মসূচী দিতে ব্যর্থ হয়েছেন ইত্যাদি প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সারাদেশে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়া কেন্দ্রীক রাজনীতিতে তাদের ক্ষোভের কারণ মূলত পাঁচটি।

প্রথমত, বেগম খালেদা জিয়া যখন গ্রেপ্তার হলেন, তখন থেকেই কেন বিএনপি লাগাতার আন্দোলন গড়ে তোলা হলো না? যেন আন্দোলনের চাপে সরকার বাধ্য হয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ২০১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বরের আগে বিএনপি যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতায় গেল, তখন কেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রধান দাবি হিসেবে উচ্চারিত হলো না।

তৃতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারের সাথে দেন-দরবার করতে হলে সেটা আগে কেন করা হলো না?

চতুর্থত, বেগম খালেদা জিয়ার আইনি প্রক্রিয়া কেন দীর্ঘসূত্র হলো? এবং কেন আইনজীবিরা তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলো?

পঞ্চমত, বিএনপি নেতৃবৃন্দ যে বলেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে তারা গণ আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বা নানা রকম কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। বিএনপি নেতারা বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নিজেরা কিভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন?

আর এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে যে কোনো কর্মসূচিতে বিএনপি কর্মীরা প্রতিরোধ করবেন এমন ঘোষণাও গতকাল দেওয়া হয়েছিল। আজ তার প্রতিফলন ঘটেছে। আজকেও বিএনপির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে হুমকি দিয়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা। বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা মনে করছেন, দলে খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের পর বিএনপিকে যেভাবে পরিচালিত করা উচিত ছিল, সংগঠিত করা উচিত ছিল এবং খালেদার মুক্তির জন্য সোচ্চার করার প্রয়োজন ছিল তা করতে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ব্যর্থ হয়েছেন।

আর এই ব্যর্থতার জন্য অবশ্যই বিএনপির নেতৃবৃন্দকে দায়ভার নিতে হবে। এই ব্যর্থতার দায়ভার নিয়েই বিএপির নেতৃবৃন্দকে সরে যেতে হবে। তারা মনে করছেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ যদি সঠিক দায়িত্ব পালন করতো। তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার এতদিন জেলে থাকার কোনো কারণ নেই। বরং বিএনপির অধিকাংশ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দ নাটক করছেন। আর খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে তারা ফায়দা হাসিলের রাজনীতি করছেন।

আর তাই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি ক্রমশ বিএনপির ভেতর একটা গণবিক্ষোভের আকার ধারণ করছে। যে কারণে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এখন গণদুশমনে পরিণত হয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার