ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যেভাবে ধোকা খেয়েছিলেন খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার, ০৬:০০ পিএম
যেভাবে ধোকা খেয়েছিলেন খোকন

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন দ্বিতীয় ধাক্কা পেলেন ঢাকা ১০ আসনের মনোনয়ন চেয়ে। মেয়রপদে মনোনয়ন না পেলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করেছেন। মূলত খোকনের প্রতি ভালোবাসার কারণে নয়, তার পিতা প্রয়াত মেয়র হানিফের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা থেকেই খোকনকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করেছেন বলে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন। সেই সাঈদ খোকন এবার ঢাকা ১০ আসনে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি মনোনয়ন ফরমও কিনেছিলেন। কিন্তু ঢাকা ১০ আসনে যেহেতু আগে থেকেই শফিউল মহিউদ্দীনের ব্যাপারটি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহলে নির্ধারিত ছিল, সেই জন্য সাঈদ খোকন মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে আলাপ আলোচনা না করেই কিভাবে ফরম কিনলেন তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে চলছে আলাপ- আলোচনা- বিতর্ক।

তবে বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে এ ব্যাপারে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে যে, এক বিকেলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রীকে জানান, এবার চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন এবং বিভিন্ন সংসদীয় আসনে উপ নির্বাচনের জন্য বিপুল পরিমান ফরম বিক্রী হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও এই খবর শুনে একটু খুশি হন। তিনি বলেন, তাই নাকি! কতজন ফরম কিনেছেন জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। বিপ্লব বড়ুয়া তাকে সংখ্যাটি জানান। এতে প্রধানমন্ত্রী মুচকি হাসেন। হেসে তিনি বলেন, বাবা এতজন! ঘটনাক্রমে সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিপ্লব বডুয়া ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাঈদ খোকন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী মুচকি হেসে জিজ্ঞাসা করেন, খোকন তুমিও ফরম কিনেছো নাকি? এর জবাবে সাঈদ খোকন বলেন না আপা আমি ফরম কিনিনি।

ধারণা করা হচ্ছে সাঈদ খোকন এটাকেই সংকেত হিসেবে নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন সাঈদ খোকন ধানমন্ডি আসনে ফরম কিনেছেন কিনা? এটাকে সাঈদ খোকন সবুজ সংকেত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

এরপর তিনি গণভবন থেকে বেরিয়ে যান এবং আধা ঘন্টার মধ্যেই বিপ্লব বডুয়াকে ফোন করেন। ফোন করে জানান তিনি ফরম কিনতে আগ্রহী। বিপ্লব বডুয়া যেহেতু দফতর সম্পাদক, তাই যে কেনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের ফরম কিনতে আগ্রহী হলে তাকে ফরম দেওয়া তার দায়িত্ব। ফরম কিনে যথারীতি তিনি জমা দিয়ে দেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এই জিজ্ঞাসা কি ইতিবাচক ছিল? সাঈদ খোকন তি তাকে পাল্টা কিছু জিজ্ঞাসা করেছিলেন। না জিজ্ঞাসা করে তিনি কি করে ভাবলেন এটিই প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি।

এক কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, তার যদি রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং দূরদৃষ্টি না থাকে তাহলে তিনি কিভাবে রাজনীতিতে এগিয়ে যাবেন?

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাঈদ খোকনকে যেহেতু প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞাস করেছিলেন তুমি ফরম কিনেছো কিনা? এতেই সাঈদ খোকন মনে করেছিলেন এটি হয়তো ইতিবাচক। আসলে প্রধানমন্ত্রী এত ফরম কেনার ভিড় দেখে একটু কৌতুকের সূরেই কথাটি বলেছিলেন।

কিন্তু সাঈদ খোকন প্রধানমন্ত্রীর বার্তা বুঝতে পারেননি। যেভাবে মেয়র থাকাকালীন সময়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের বার্তা এবং আকাঙ্খার কথা বুঝতে পারেননি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী সাঈদ খোকনকে সাহচর্য দেবেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী তাকে কাছে রেখে রাজনীতির তালিম দেবেন। তবে গত পাঁচ বছর সাঈদ খোকনের যে অভিজ্ঞতা বা ২০০১ সালে তার যে রাজনীতির গতি প্রকৃতি তাতে তিনি কতটুকু পরিণত রাজনীতিবিদ হতে পারবেন তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ রয়েছে।