ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার বন্দনা মুখর বিএনপির বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার, ০৯:০০ পিএম
শেখ হাসিনার বন্দনা মুখর বিএনপির বৈঠক

আজ ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রপদে মনোনয়ন চুড়ান্ত করতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক বসেছে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে যে, বৈঠকে ৫টি আসনে মনোনয়ন ও মেয়র পদের মনোনয়নের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সে বিষয়ে করণীয় কি তা নিয়ে খোলামেলা আলাপ আলোচনা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে স্থায়ী কমিটির অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এ বিষয়ে তারেকের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া দেখছেন বলে মন্তব্য করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চট্টগ্রাম মেয়রের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত তারেকের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় বলে বৈঠক সূত্র প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।

তবে বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপি নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার বন্দনায় মুখর হয়ে ওঠেন। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির একটি পথ খোলা আছে তা হলো শেখ হাসিনার অনুকম্পা, তার দয়া। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য তিনি বলেছেন, আমি শেখ হাসিনাকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। আমার স্ত্রীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। উনি অনেক মানবিক মানুষ। আপনারা এই সমস্ত স্টান্টবাজি বাদ দিয়ে সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করুন। আমাদের উচিত তাঁর সাথে অনুনয়-বিনয় করে হলেও খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি দেখা।

বিএনপির আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার প্রতি যথেষ্ট সংবেদনশীল এবং তাকে হয়তো সঠিক তথ্য জানানো হচ্ছেনা, তাকে যদি বেগম জিয়ার সঠিক তথ্য জানানো হয় তাহলে অবশ্যই তিনি বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। এই প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির অন্য একজন সদস্য বলেন যে, ওয়ান ইলেভেনের সময় দুই নেত্রী কারাগারে ছিলেন এবং তখন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য খাবারও পাঠাতেন। তিনি একজন মানবিক মানুষ এবং অসহায় মানুষের জন্য তাঁর সবসময় সহানুভূতি থাকে।

কিন্তু এই বৈঠকেই দলের আরেকজন কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন যে, শেখ হাসিনা ২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বেগম জিয়াকে আটকে রেখেছেন এবং তাঁর কাছে ধর্ণা দিয়ে কোন লাভ হবেনা। কিন্তু বিএনপির স্থায়ী কমিটির উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য তাঁর বিরোধিতা করেন, তাঁরা মনে করেন যে, আমরা যদি নির্বাচনের জন্য শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ করতে পারি, তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কেন তাঁর কাছে ধরনা দিতে পারবো না? বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এই ব্যাপারে তাদের যে সংসদ সদস্যদের চ্যানেল, সেই চ্যানেলকে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেন। হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে একটি দল যেন আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে সংসদে দেখা করেন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করেন। তবে বিএনপির অন্য একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি সরাসরি যোগাযোগ করলে এটা হিতে বিপরীত হবে কিনা বা শেষ পর্যন্ত কি ফলাফল হবে সেটা ভেবে দেখা দরকার। আর এ নিয়ে লন্ডনে কথা বলা যায় কিনা এ প্রস্তাব করেছেন।

তবে স্থায়ী কমিটির সকলে একমত হয়েছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় নিয়ে লন্ডনে কোনো আলাপ আলোচনা করলে খালেদা জিয়ার মুক্তির অগ্রগতি হবে না।

তারা বলেন, আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা বেগম জিয়ার মুক্তি চাই কিনা? যদি বেগম জিয়ার মুক্তি চাই তাহলে পড়ে আমাদেরকেই করণীয় বের করতে হবে। আর এই মুক্তির জন্য শেখ হাসিনার কাছেই আমাদেরকে যেতে হবে।

তারা মনে করেন শেখ হাসিনার যে মহানুভবতা, তিনি যদি একটু সদয় হোন তাহলে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব। আর এ কারণে রাজনীতিতে গলাবাজি, আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করব কিংবা বড় বড় কথা না বলে শেখ হাসিনার করুণা ভিক্ষার পথ খোঁজার প্রস্তাব দেন অনেক বিএনপি নেতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত হয়েছে তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।