ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসকদের অসহযোগিতা করছেন খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার, ০৭:০০ পিএম
চিকিৎসকদের অসহযোগিতা করছেন খালেদা

বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন সংক্রান্ত শুনানি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন। হাইকোর্ট গতকাল তিনদফা নির্দেশনা দিয়ে এই শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন। এই তিনদফা নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে;

১. বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানাতে হবে।

২. বেগম খালেদা জিয়াকে যে অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টর কথা বলা হয়েছিল, সেই অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে কিনা।

৩. এই রকম অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য তিনি সম্মতি জানিয়েছেন কিনা।

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত এই অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য কোন রকম সম্মতি দেননি। বরং হাইকোর্টে এই শুনানির পর বেগম খালেদা জিয়ার নামে অভিযোগ উঠেছে, তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং অসহযোগিতা করছেন বলে বিএসএমইউ সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ৭ সদস্যের যে মেডিকেল বোর্ড গঠিত হয়েছে সেই মেডিকেল বোর্ড গত কয়েকদিন ধরেই বেগম খালেদা জিয়ার বোঝানোর জন্য চেষ্টা করছেন চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়া দ্বিধান্বিত ছিলেন। তিনি চিকিৎসা নেবেন কি নেবেন না এ ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করতে হবে বলে জানিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের জিজ্ঞাস করেছিলেন যে, এই ধরনের অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট বিএসএমএমইউতে আগে দেওয়া হয়েছে কিনা। তারা এই ধরেনের ট্রিটমেন্ট দিতে অভ্যস্ত কিনা। এর জবাবে চিকিৎসকদল বলেছিল, বিএসএমইউতে এই ধরণের চিকিৎসা দেওয়া হয়। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য নিয়োজিত চিকিৎসকরা বলেছেন যে, ‘তাঁরা নিজেরাও এধরণের চিকিৎসা অনেক রোগীকে দিয়ে থাকেন।’

কিন্তু পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া এই চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে অসম্মতি জানিয়েছেন। আজ চিকিৎসকরা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি চরম অসহযোগীতা করেছেন বলে জানা গেছে। এমনকি তিনি গালমন্দ করেছেন বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএসএমইউ সূত্র থেকে জানা গেছে যে, বলা হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার ব্লাড স্যুগার অনেক হাই, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম ব্লাড স্যূগার পরীক্ষা দুপুর ১ টার আগে করা যায় না। কারণ তিনি অনেক বিলম্বে ঘুম থেকে ওঠেন। আর আজ যখন তাঁর ব্লাড স্যুগার পরীক্ষার জন্য যাওয়া হয় তখন তিনি অস্বীকৃতি জানান। এছাড়া তাকে যে ওষধগুলো দেয়া হয়েছে, সেই ওষধগুলো নিতেও অস্বীকৃতি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আজ তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন এবং বলেছেন যে, ‘আমি কোন চিকিৎসা নেব না’। অবশ্য বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যে ওষধ দিচ্ছে, সেগুলো তিনি গ্রহণ করছেন। আজ তিনি বলেছেন যে, আমাকে বিদেশে চিকিৎসা করতে হবে এরকম রিপোর্ট দাও। কিন্তু কোনপ্রকার পরীক্ষা ছাড়া এরকম রিপোর্ট দেয়া যায়না জানালে, তিনি ক্ষুদ্ধ্ব হয়ে ওঠেন এবং সবাইকে দেখে নেব বলেও হুমকি দেন। বেগম খালেদা জিয়া বিগত ১ বছর ধরে বিএসএমইউ-তে আছেন এবং প্রায় সময় তিনি বিভিন্ন রকম খারাপ ব্যবহার করেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিন্তু হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা অত্যন্ত ধৈর্য্যের সঙ্গে এসব ব্যবহার সহ্য করেছেন।

বিএসএমইউ কর্তৃপক্ষ মনে করছে যে, যেহেতু বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে, তাই এরকম একটি পরিস্থিতি তৈরি করার জন্যেই খালেদা জিয়া এমন আচরণ করছেন।