ঢাকা, রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

তারেক-মামুনের যত নারী কেলেঙ্কারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার, ০৭:০০ পিএম
তারেক-মামুনের যত নারী কেলেঙ্কারি

পাপিয়াকে নিয়ে যখন উত্তাল দেশ এবং ক্ষমতাসীন দলের মদদে পাপিয়ার মতো নারী ব্যবসায়ী এবং নারী কেলেঙ্কারির হোতারা আইনের আওতায় এসেছে। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে, এধরণের ঘটনা কি এবারই প্রথম?

আওয়ামী লীগের শাসনামলেই কি পাপিয়ার মতো নারী ব্যবসায়ী এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের হোতাদের উত্থান ঘটেছে? বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে না, বরং এসময়ই পাপিয়ার মতো দুর্বৃত্তরা আইনের আওতায় এসেছে। বাংলাদেশে নারী কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ঘটেছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে, সেসময় রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছিল এবং এই নারী কেলেঙ্কারিগুলোর মূল উদ্যোক্তা ছিল বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক জিয়া এবং তাঁর বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, তারেক জিয়া এবং তাঁর বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের তত্ত্বাবধানে ভারত থেকে একাধিক নায়িকাকে ভারত থেকে নিয়ে আসা হত এবং এসমস্ত নায়িকাদের নিয়ে বিভিন্ন রকমের ‘প্রাইভেট ফাংশন’ হত এবং পরবর্তীতে তাঁরা ফিরে যেত। বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, ভারতীয় নায়িকা শিল্পা শেঠি বাংলাদেশে এসেছিলেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের আমন্ত্রণে। তিনি তিনি দুইদিন বাংলাদেশে ছিলেন। এই দুইদিনই তিনি খোয়াব ভবনে ছিলেন এবং খোয়াব ভবনে গোপন পার্টিতে তাদের অতিথি ছিলেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, তারেক জিয়া এবং তাদের ঘনিষ্ঠরা। শিল্পা শেঠি ঢাকায় এসেছিলেন বিনা ভিসায় এবং এয়ারপোর্টে তাকে প্রথমে ভিসা না থাকার জন্য আটকে দেয়া হয়েছিল। এরপর লুতফর জামান বাবর ছুটে যান বিমানবন্দরে এবং তারেক জিয়ার নির্দেশে তাকে ভিআইপি প্রটোকলে বের করে নিয়ে আসে। বিমানবন্দর থেকে শিল্পা শেঠি চলে গিয়েছিলেন গাজীপুরের খোয়াব ভবনে এবং সেখানে তিনি দুই রাত কাটিয়ে আবারও ভারতে ফেরত যান।

একসময়ের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আলিশা চিনয় তিনিও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের আমন্ত্রণে ঢাকায় এসেছিলেন এবং খোয়াব ভবনের অতিথি হিসেবে দুই রাত খোয়াব ভবনে ছিলেন বলে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এইসময় ভারত থেকে এসেছিলেন একসময়ের নায়িকা রবিনা টেন্ডন। রবিনা টেন্ডনও ঢাকায় এসে খোয়াব ভবনের অতিথি হিসেবে ছিলেন এবং সেখানে তিনি তিন রাত ছিলেন বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পশ্চিমবাংলার এক জনপ্রিয় নায়িকা ঢাকায় শুটিং করতে এলে, তাঁর শ্যুটিং বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল তারেক জিয়ার নির্দেশে। পরবর্তীতে খোয়াব ভবনে দুই রাত কাটালে সেই নায়িকাকে আবার শ্যুটিং করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। সেসময় ভারত থেকে নায়িকা-গায়িকা নিয়ে এসে অনৈতিক কার্যকলাপ, মদ এবং সুরার উৎসব ছিল নিত্যনৈমত্যিক ব্যাপার এবং এই ঘটনাগুলো যখন ঘটতো তখন খোয়াব ভবনের পুরো এলাকা ঘিরে রাখতো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। সাধারণ মানুষের প্রবেশ তখন ছিল নিষিদ্ধ।

২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অন্তত ১২ জন নায়িকা এই সময়ে তারেক-মামুনের অতিথি হয়ে এসেছিলেন। বাংলাদেশের নারী কেলেঙ্কারির যে অধ্যায়, সেই অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন তারেক জিয়া এবং যার হাত ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির চরিত্র এবং রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নষ্ট হয়েছিল। যার কারণে আজ পাপিয়াদের সৃষ্টি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।