ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

শেখ হাসিনা কি পারবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০২০ বুধবার, ০৯:০০ পিএম
শেখ হাসিনা কি পারবেন?

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি সরকারপ্রধান হিসেবে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি?- রাজনীতিক অঙ্গনে এই প্রশ্নটি উঠেছে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে লড়াই শুরু করেছেন, সেই লড়াইয়ে তিনি কী জিতবেন? এসব প্রশ্ন আজ রাজনীতিক অঙ্গনে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। আর ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছরের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রপরিচালনা করছেন তিনি। এই রাষ্ট্রপরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে।

১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তিচুক্তি করেছিলেন। ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিচুক্তি স্বাক্ষর করে তিনি সরকারপ্রধান হিসেবে তার দক্ষতার নজির স্থাপন করেছেন। সে সময় তিনি ৯৭ এর বন্যা মোকাবেলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরপরই তিনি বিডিআর বিদ্রোহের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে। আর ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার ঘটনা মোকাবেলার ক্ষেত্রেও শেখ হাসিনা তার দূরদৃষ্টি, তার বিচক্ষণতা এবং তার যোগ্যতা নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সে কারণেই এবার করোনা ভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সফল হবেন কিনা তা নিয়ে আশাবাদী মানুষের সংখ্যাই বেশি। তবে অন্যান্য চ্যালেঞ্জ আর সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটু পার্থক্য রয়েছে। করোনা ভাইরাস হলো বৈশ্বিক সমস্যা। এই ভাইরাস গোটা বিশ্বকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। সারাবিশ্বকে এই ভাইরাস একটি সংকটে ফেলেছে। বিশ্বের বাইরে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নয়। তারপরও বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে তিনটি চ্যালেঞ্জ শেখ হাসিনার সামনে আছে।

প্রথমত; জনস্বাস্থ্যের চ্যালেঞ্জ

বাস্তবতা হলো, আমাদের স্বাস্থ্যসেবা এখনও বিশ্বমানের নয়। বিশেষ করে, উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে রয়েছি। তাই জনস্বাস্থ্যের চ্যালেঞ্জ একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

দ্বিতীয়ত; অর্থনৈতিক সংকটের বৈরী বাতাস

করোনার কারণে সারাবিশ্ব থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। করোনা প্রতিরোধে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা অর্থাৎ ঘরে থাকার যে উদ্যোগ, সেটার কারণে অর্থনৈতিক সংকটের বৈরী বাতাস বইতে শুরু করেছে।

তৃতীয়ত; গুজব এবং তথ্য সন্ত্রাস

করোনার কারণে গুজব এবং তথ্য সন্ত্রাস জনমনে নানারকম আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা এবং নানারকম আস্থাহীনতা তৈরি করেছে।

এই ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে শেখ হাসিনা কি পারবেন করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে?

প্রথম সংকট অর্থাৎ জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আমাদের যেমন আইসিইউ, ভেন্টিলেশন বা বিশেষায়িত হাসপাতাল ইত্যাদির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তেমনি আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার নেটওয়ার্ক তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। তার চেয়েও বড় কথা হলো আমাদের বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোতে স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলো একেবারে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়া পর্যন্ত রয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে করোনা মহামারী আকার ধারণ করায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালির মতো রাষ্ট্রগুলো হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশেও যদি মহামারী আকারে করোনা দেখা দেয়, তাহলে এদেশ যে খুব বিপদে পড়বে তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। কাজেই এক্ষেত্রে বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো মানুষকে সচেতন করে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে যতক্ষণ পারা যায় ততক্ষণ করোনার সংক্রমণ যেন বিস্তৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা।

দ্বিতীয় সংকট অর্থাৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই নানারকম উদ্যোগ নিয়েছেন। এগুলোর মাধ্যমে তিনি দক্ষতা এবং পারঙ্গমতার পরিচয় দিয়েছেন। অতীতেও তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে রোল মডেল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করেছিলেন। কাজেই অর্থনৈতিক সংকটে সাময়িকভাবে কাবু হলেও খুব বেশিদিন যে সংকট থাকবে না সেটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

তৃতীয় সংকট অর্থাৎ গুজব এবং তথ্য সন্ত্রাস হলো করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিনই নিত্যনতুন অসত্য-বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। এর ফলে জন অনাস্থা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা হলো জন আস্থার লড়াই। জনগণ যদি শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল থাকে বা তার সরকারের প্রতি আস্থাশীল থাকে, তাহলে এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। তবে এখন পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করে শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে মানুষের কল্যাণ চান, ভালো চান। জন আস্থার বিষয়টিতে শেখ হাসিনা সবার উপরে আছেন। সে কারণে আমরা আশাবাদী হতেই পারি যে অন্যান্য লড়াইয়ের মতো এই লড়াইয়েও শেখ হাসিনা জিতবেন।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি