ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

সেরা ভাষণে শেখ হাসিনার পাঁচ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২০ রবিবার, ০৮:৪৭ পিএম
সেরা ভাষণে শেখ হাসিনার পাঁচ নির্দেশনা

আজ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে তিনি অনেক ভাষণই দিয়েছেন। টানা তিন মেয়াদসহ মোট চার মেয়াদে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে শতাধিক ভাষণে তিনি জাতিকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পথনির্দেশনা দিয়েছেন, জাতিকে অনেক আনন্দ-বেদনার কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু এই ভাষণটি ছিল ভিন্ন মাত্রার। এই ভাষণটি ছিল সংক্ষিপ্ত। ১৫ মিনিটের কম সময়ের এই ভাষণটি ছিল মেদহীন, কোন প্রকার বাহুল্যবর্জিত এবং এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপন্থা এবং নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই বিবেচনায় ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ করা শেখ হাসিনার এটা অন্যতম সেরা ভাষণ হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে এই ভাষণে যেমন তিনি মানুষকে সাহস দিয়েছেন, কর্মপন্থা দিয়েছেন এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। এই ভাষণে তাঁর যে পাঁচটি নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেই নির্দেশনাগুলো একটু খতিয়ে দেখা যাক-

১. অর্থনীতি বন্ধ হয়ে থাকতে পারে না

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শেষ দিকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, অর্থনীতিকে সচল রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, করোনাভাইরাসকে সঙ্গে করে চলতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন যে, করোনাভাইরাস সহসা দূর হবার নয় এবং নতুন একটি ভ্যাকসিন আসা পর্যন্ত এটার যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। শেখ হাসিনা বলেছেন যে, অনির্দিষ্টকালের জন্য সবকিছু বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে তো নয়ই। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, করোনার সাথেই তিনি বসবাস করতে চান, করোনাকে নিয়েই তিনি লড়তে চান এবং এই চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবেলা করতে চান।

২. প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি প্রান্তিক মানুষের পাশে আছেন এবং যতদিন পর্যন্ত তাঁদের অভাব-অনটন দূর না হবে যতদিন পর্যন্ত স্বাভাবিক কর্মজীবনের মাধ্যমে তাঁরা কর্মসংস্থানের সৃষ্টি না করবে ততদিন পর্যন্ত সরকার তাঁদের পাশে আছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্যে যেসকল প্রণোদনা প্যাকেজগুলো দিয়েছেন তা সংক্ষেপে উল্লেখ করে জনগণকে অভয় দেন যে, আমি এবং আমার সরকার সবসময় আপনাদের পাশে আছি।

৩. ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই ভাষণে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী যাঁদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্য করেছেন তাঁদের মধ্যে ছিল ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন, যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সংবাদকর্মীদের প্রতি তিনি ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানান এবং বিদেশে যেসকল বাংলাদেশী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, ৬শ’র বেশি সেই প্রবাসী নাগরিকদের প্রতি তিনি সমবেদনা জানান। এই ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে আরো উদ্দীপ্ত করেছেন।

৪. আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে

প্রধানমন্ত্রী তাঁর কালোর্ত্তীণ এবং দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে করোনা মোকাবেলার সহজতম উপায়টি জনগণদের বাতলে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন যে, আপনি সুরক্ষিত থাকলেই দেশ সিরক্ষিত থাকবে।

৫. জনগণকে সাহস দেয়া

প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই ভাষণে এক মুহুর্তের জন্যেও আতঙ্কিত ছড়াননি, মানুষকে হতাশ করেননি। তিনি মানুষকে সাহস দিয়েছেন এবং সরকার যে মানুষের পাশে আছে সেটা বলে অভয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই ভাষণের শেষ প্রান্তে বলেছেন যে, ঝড়ঝাপটা-মহামারি থাকবেই, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেটাকে প্রতিহত করতে হবে এবং জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোন সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে করোনা মোকাবেলার জন্য যে অভয় দান করলেন সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আর এসব দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে মনে করা হচ্ছে একটি দিকনির্দেশনামূলক, দার্শনিকতামূলক এবং তাঁর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের কৌশল তিনি জনগণকে বলে দিয়েছেন। কারণ তিনি বারবার বলেছেন যে, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই তিনি সঙ্কট মোকাবেলা করতে চান।