ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

কেন আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২০ মঙ্গলবার, ১০:০০ পিএম
কেন আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনা?

বাংলাদেশে করোনা সঙ্কট নিয়ে যখন নানাজনের নানামত, যখন আশঙ্কার কথা, জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগের কথা এবং অনেক নীতিনির্ধারক কর্তাব্যক্তিদের মনেও আশঙ্কা-উদ্বেগের বলিরেখা, ঠিক তখন আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ এবং একাই যেন তিনি ঝড় সামলাচ্ছেন, এতটুকু ক্লান্তি যেন তাঁকে ভর করেনি এবং প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ়তা নিয়ে একাই লড়ছেন- তাঁর নাম শেখ হাসিনা। এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনা এই করোনা সঙ্কটে এতটুকু আত্মবিশ্বাস হারাননি, তাঁকে এতটুকু বিচলিত লাগছে না; বরং সঙ্কট মোকাবেলায় সকলের অভিভাবক হয়ে যেন তিনি সকলকে আশ্বস্ত করছেন, সকলকে বলছেন যে, আঁধার কেটে যাবে, ভোর আসবেই। কেন আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনা? শুধু এই প্রশ্নের উত্তরে যাওয়ার আগে একটি কথা বলে নেওয়া দরকার যে, কেবল এই সময়ে নয়, সবসময়ে শেখ হাসিনা প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী মানুষ। তাঁর দৃঢ়তা, সততা, নিষ্ঠা তাঁকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে এবং এবারও শেখ হাসিনা তাঁর আত্মবিশ্বাস, নিষ্ঠা এবং কর্মস্পৃহায় এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ। কেন আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনা এই প্রশ্নের উত্তর যদি খুঁজে দেখি তাহলে মূলত পাঁচটি বিষয় আমাদের সামনে আসে।

১. জনগণের প্রতি দরদ

শেখ হাসিনার আত্মবিশ্বাসের উৎসস্থল হচ্ছে জনগণের প্রতি দরদ। তিনি জনগণের মনের ভাষা বোঝেন, জনগণের চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাংখা ধারণ করেন। এই জন্যেই তাঁর রাষ্ট্রচিন্তা দর্শনের নাম জনগণের ক্ষমতায়ন। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, করোনা যত ভয়াবহই হোক না কেন, জনগণের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের যদি গতিরুদ্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে সেটা কঠিন সঙ্কটে রূপ নিবে। আর একারণেই জনগণের প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি যে সিদ্ধান্তই নেন তা জনগণের কথা চিন্তা করে, জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই সিধান্ত নেন। আর একারণে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

২. কৃষির বাম্পার ফলন

শেখ হাসিনার আত্মবিশ্বাসের আরেকটি বড় কারণ হলো কৃষিতে বাম্পার ফলন। বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়াকে টপকে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং অন্যান্য ফসলগুলোরও ভালো ফলন হচ্ছে। যেকারণে বাংলাদেশে যদি সঙ্কট তীব্রও হয়, তবুও খাদ্য সঙ্কট দেখা দিবেনা, খাবারের অভাবে মানুষ মারা যাবেনা। এটা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর বড় অনুষঙ্গ এবং তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

৩. বাঙালির সংগ্রাম করার মানসিকতা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর বাঙালির সবথেকে বেশি মন মানসিকতা বোঝেন শেখ হাসিনা। তিনি বোঝেন যে, বাঙালি সঙ্কটে জ্বলে ওঠে, তাঁরা সাহসী, তাঁরা সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারে। কাজেই করোনা মোকাবেলায় বাঙালিদের যে সংগ্রাম করার মানসিকতা, সেই মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করেন শেখ হাসিনা এবং এটাই তাঁকে সাহসী করেছে।

৪. জেনেবুঝে কাজ করা

শেখ হাসিনা জানেন তিনি কি করছেন। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কথা শোনেন, তাঁদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি জেনেবুঝে, ভালো মন্দ বিচার বিবেচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেন। যে কারণে আমাদের কাছে যে সিদ্ধান্তটি সাদামাটা, যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে আমরা অস্বস্তি প্রকাশ করি, শেখ হাসিনা সেই সিদ্ধান্তটি অনেক চিন্তাপ্রসূত, অনেক পরিকল্পিত এবং অনেক বিন্যস্ত। তিনি জানেন আসলে তিনি কি করতে যাচ্ছেন এবং এটাই শেখ হাসিনার একটি বড় শক্তি এবং যেহেতু তিনি জেনেবুঝে এবং অনেক চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেন, সেহেতু তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

৫. ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা

জওহরলাল নেহেরু বলেছিলেন একজন রাজনৈতিক নেতার বড় যোগ্যতা হলো তিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন এবং তারাই বড় নেতা হন যারা ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা রাখেন। শেখ হাসিনাও একজন ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা রাজনীতিবিদ। তিনি ভবিষ্যৎকে তাঁর সামনে দেখতে পারেন। তিনি যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে তিনি আগামীর সময়টাকে মাথায় রাখেন। একারণেই তিনি ২০৪১ এবং ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রূপকল্প এঁকেছেন। আর এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় তাঁর দৃশ্যপটে তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ছবি আকতে পারেন। এটা তাঁর একটি বড় যোগ্যতা এবং এই ভবিষ্যৎ রূপকল্প তাঁর সামনে এসেছে বলেই তিনি একজন ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা রাজনীতিবিদ এবং একারণেই তিনি আত্মবিশ্বাসী।

শেখ হাসিনার আত্মবিশ্বাসের কারণে মানুষ এখনো আশা নিয়ে আছে। করোনা সঙ্কটের সময় নানারকম বিভ্রান্তি, নানারকম উৎকণ্ঠা-অস্বস্তির পরেও মানুষ মনে করছে যে শেষ পর্যন্ত জয় হবে আমাদের।